বিশ্বকাপের আগে আদর্শ দল গঠন করতে গিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার সামনে নতুন করে কঠিন সমীকরণ তৈরি করল ডোনোভান ফেরেইরার চোট। SA20 লিগে খেলতে গিয়ে বাম কাঁধে ফ্র্যাকচারে পড়ে এই অলরাউন্ডার আপাতত মাঠের বাইরে। তাঁর এই ইনজুরি শুধু একটি টুর্নামেন্টের জন্য নয়, বরং পুরো বিশ্বকাপ পরিকল্পনার জন্যই বড় ধাক্কা।
ইনিংসের শেষ বলে কভার অঞ্চলে বাউন্ডারি বাঁচাতে ঝাঁপ দেন ফেরেইরা। ডাইভটি সফল না হলেও চার রান বাঁচানোর চেষ্টায় তাঁর শরীরের ভর এসে পড়ে বাম কাঁধে। সঙ্গে সঙ্গে যন্ত্রণায় কুঁকড়ে যান তিনি। মাঠে চিকিৎসা নেওয়ার পরেও দৃশ্যত অস্বস্তিতে ছিলেন। তবু দলের প্রয়োজনে ব্যাট করতে নামেন, কিন্তু মাত্র এক বলের মধ্যেই স্পষ্ট হয়ে যায় চোটের গভীরতা। হাত পুরোপুরি তুলতে না পারায় রিটায়ার হার্ট হয়ে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন তিনি।
গুরুতর চোট তারকা খেলোয়াড়ের

পরদিন স্ক্যান রিপোর্টে নিশ্চিত হয়, তাঁর কাঁধের হাড়ে ফ্র্যাকচার হয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, এই ধরনের চোট থেকে ফিরতে সময় লাগে, ফলে SA20-এর বাকি ম্যাচগুলোয় তাঁর খেলা কার্যত অসম্ভব। জোবার্গ সুপার কিংস এখনও প্লে-অফের দৌড়ে থাকলেও, এমন একজন গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়কে হারানো তাদের জন্য বড় ধাক্কা। তবে সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়তে চলেছে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে।
ডোনোভান ফেরেইরাকে দক্ষিণ আফ্রিকার বিশ্বকাপ স্কোয়াডে রাখা হয়েছিল বহু ভূমিকার কথা ভেবে। ফিনিশার হিসেবে তাঁর ক্ষমতা, উইকেটরক্ষক হিসেবে ব্যাক-আপ অপশন এবং প্রয়োজনে বোলিং এই সব বহুমুখী ভূমিকার জন্যই তিনি নির্বাচকদের আস্থাভাজন ছিলেন। তাঁর অনুপস্থিতিতে সেই শূন্যস্থান পূরণ করা সহজ নয়। এই অবস্থায় সম্ভাব্য বিকল্পদের তালিকায় রয়েছেন রায়ান রিকেলটন, ট্রিস্টান স্টাবস ও ম্যাথু ব্রিটজকে।
বিশ্বকাপের আগে দক্ষিণ আফ্রিকার বাড়তি চিন্তা

রিকেলটন SA20-এ দুর্দান্ত ফর্মে থাকলেও তিনি মূলত ওপেনার। স্টাবসের আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা থাকলেও সাম্প্রতিক ফর্ম প্রশ্নের মুখে। ফলে সঠিক বিকল্প বেছে নেওয়া সহজ হবে না নির্বাচকদের জন্য। এর পাশাপাশি দক্ষিণ আফ্রিকার সমস্যা এখানেই শেষ নয়। টনি ডি জোরজির হ্যামস্ট্রিং চোট এখনও পুরোপুরি সারেনি।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে আসন্ন টি-টোয়েন্টি সিরিজে তাঁর ফেরা নির্ভর করছে ফিটনেসের উপর। আবার SA20-এর অন্যতম সফল বোলার ওটনিল বার্টম্যানকে বিশ্বকাপ দলে না রাখায় সমালোচনার মুখে পড়েছেন নির্বাচকরা। সব মিলিয়ে, বিশ্বকাপের আগে দক্ষিণ আফ্রিকার শিবিরে অনিশ্চয়তা ও চাপ বাড়ছেই।