ক্রিকেটে ভাগ্যের নাটকীয় পরিবর্তন খুব সাধারণ ঘটনা। কিন্তু কখনও কখনও সেই পরিবর্তন এত দ্রুত ঘটে যে তা অবাক করে দেয় সবাইকে। এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের মঞ্চে দেখতে পাওয়া গেল সেই একই জিনিস। অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস যে পতনের প্রধান কারণ তা টের পেল দক্ষিণ আফ্রিকা দল। বিশেষ করে বিগত কয়েক মাস ধরে দক্ষিণ আফ্রিকা দলের প্রধান কোচ শুকরি কনরাড তাঁর অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস ট্রোলের মূল কারণ হয়ে উঠেছে।
এবারের সেমিফাইনালে কলকাতার ইডেন -এ যা ঘটল, তা অনেককেই অবাক করেছে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে নিউজিল্যান্ডের কাছে কার্যত বিধ্বস্ত হয়ে গেল দক্ষিণ আফ্রিকা দল। এদিন ইডেনে নিউজিল্যান্ডের কাছে একেবারে একতরফা ভাবে হার মানল দক্ষিণ আফ্রিকা। ম্যাচে ৪৩ বল বাকি থাকতে জয় তুলে নেয় নিউজিল্যান্ড ন্যাশনাল ক্রিকেট টিম। বিশ্বকাপের মতো মঞ্চে এমন একতরফা ফলাফল অনেককেই অবাক করেছে।
ম্যাচ হারের পর কোচ শুকরি কনরাডের বয়ান

এই হার নিয়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনা তৈরি হয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার কোচ শুকরি কনরাড-এর মন্তব্য ঘিরে। ম্যাচ শেষে কোচ শুকরি কনরাড বলেন, ‘এটা একটা ‘স্লটক্লাপ।’ মানে সোজা একটা চড়ের মতো হার। আফ্রিকান ভাষায় ‘স্লটক্লাপ’ শব্দটির অর্থ প্রায় সপাটে চড়। অর্থাৎ কোচ নিজেই স্বীকার করছেন, এই হার দক্ষিণ আফ্রিকার জন্য ছিল একেবারে অপমানজনক ধাক্কা। তবে কনরাড তাঁর দলের পাশে দাঁড়িয়েছেন। তিনি বলেন, “ছেলেরা লড়াই করেছে। কিন্তু প্রতিপক্ষ সত্যিই অসাধারণ খেলেছে।“
Read More: “হালকা মু$% শুয়ে পর…” ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ব্যর্থ অভিষেক শর্মা, সমাজ মাধ্যমে চলছে চর্চা !!
তবে অধিনায়ক এডেন মার্করাম নিজের দলের পারফরম্যান্স নিয়ে যথেষ্ট হতাশ। মার্করাম বলেন, “এই হার ব্যাখ্যা করা কঠিন। মনে হচ্ছে যেন কেউ সপাটে একটা থাপ্পড় মেরে দিয়েছে। তবে আমরা এখান থেকেই শিক্ষা নেব।” ক্রিকেট ইতিহাসে দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে ‘চোকার্স’ তকমাটা বহুদিনের। বড় ম্যাচে চাপের মুখে হেরে যাওয়ার ইতিহাস তাদের রয়েছে। এবারের বিশ্বকাপের মঞ্চে দক্ষিণ আফ্রিকা দল ছিল সবথেকে নিখুঁত।
ভারতকে খোঁচা দেওয়া কনরাডের বিশ্বকাপ স্বপ্ন ভাঙল নিউজিল্যান্ড

তবুও সেমিফাইনালের মঞ্চে আবার একবার পরাজয়ের মুখ দেখতে হলো দলকে। এই হারের পর আবারও সামনে এসেছে কয়েক মাস আগের একটি বিতর্কিত মন্তব্য। ভারতের বিরুদ্ধে টেস্ট জয়ের পর কনরাড বলেছিলেন, দক্ষিণ আফ্রিকা ভারতীয়দের ‘গ্রোভেল’ করতে বাধ্য করেছে- যার অর্থ হলো এক কথায় দাস বানানো। শব্দটি নিয়ে তখনই সমালোচনা শুরু হয়েছিল। এবার কিউইদের বিরুদ্ধে দক্ষিণ আফ্রিকার পরাজয়ের পর সমাজ মাধ্যমে ব্যাপক ভাবে ট্রোল হচ্ছেন।
কারণ দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবিদ্বেষের ইতিহাসে এই শব্দটি বহু সময় অপমানজনক অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। এখন অনেকেই বলছেন, ক্রিকেট যেন তার নিজস্ব উপায়ে জবাব দিয়েছে। যে মাঠে দাঁড়িয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা নিজেদের শক্তির কথা বলেছিল, সেই ইডেনেই তাদের স্বপ্ন ভেঙে দিল নিউজিল্যান্ড। নিউজিল্যান্ড প্রোটিয়াস বাহিনীকে হারিয়ে বিশ্বকাপ ফাইনালে পৌঁছে গিয়েছে।