উইমেন্স প্রিমিয়ার লিগে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর প্রথম শিরোপা জয় ভারতীয় নারী ক্রিকেটের ইতিহাসে একটি স্মরণীয় অধ্যায়। আর এই অধ্যায়ের কেন্দ্রে রয়েছেন স্মৃতি মান্ধানা। তাঁর নেতৃত্ব, ব্যাটিং এবং মানসিক দৃঢ়তা সব মিলিয়ে এই জয় যেন এক অনুপ্রেরণার গল্প। এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে এক কঠিন সময়ের গল্প। WPL শুরুর আগেই স্মৃতির ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে নানা আলোচনা শুরু হয়। দীর্ঘদিনের সম্পর্কের পর গায়ক-সুরকার পালাশ মুচ্ছালের সঙ্গে তাঁর বিয়ে ভেঙে যাওয়ার ঘটনা সামাজিক মাধ্যম ও সংবাদমাধ্যমে ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়।
বিয়ে ভেঙে যায় স্মৃতির

একজন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটারের জীবনে এই ধরনের পরিস্থিতি পারফরম্যান্সে প্রভাব ফেলতে পারে, এমনটাই স্বাভাবিক ধারণা। এই পরিস্থিতিতে অনেকেই আশা করেছিলেন স্মৃতি হয়তো মানসিকভাবে ভেঙে পড়বেন। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেল উল্টো ছবি। মাঠে নামার পর তাঁর ব্যাটে ছিল আত্মবিশ্বাসের ঝলক, সিদ্ধান্তে ছিল পরিণত নেতৃত্বের ছাপ। দলের তরুণ খেলোয়াড়দের পাশে দাঁড়ানো, চাপের মুহূর্তে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়া—সব মিলিয়ে তিনি হয়ে ওঠেন RCB-এর ভরসার প্রতীক। ফাইনালে দিল্লি ক্যাপিটালসের বিরুদ্ধে স্মৃতির ইনিংস ছিল প্রতীকী।
স্মৃতি মান্ধানার নেতৃত্বে RCB-এর ঐতিহাসিক WPL জয়

সেটি শুধুই রান তোলার লড়াই নয়, বরং নিজের ভেতরের দ্বন্দ্বকে জয় করার গল্প। ম্যাচ শেষে ট্রফি হাতে স্মৃতির চোখেমুখে যে আবেগ দেখা গিয়েছিল, তা অনেক কিছু বলে দিচ্ছিল। এই জয়ের পর সোশ্যাল মিডিয়ায় আবেগের বহিঃপ্রকাশ ঘটে ভিন্ন ভিন্নভাবে। প্রশংসার পাশাপাশি কিছু রসিক মিমও ভাইরাল হয়, যেখানে স্মৃতির জীবনের কঠিন অধ্যায়ের ইঙ্গিত ছিল। স্মৃতির মা স্মিতা মান্ধানা সেই আবেগকে আরও গভীর করে তোলেন নিজের পোস্টের মাধ্যমে।
তাঁর লেখা বার্তায় ফুটে ওঠে একজন মায়ের গর্ব, সন্তানের কষ্ট দেখার যন্ত্রণা আর সেই কষ্ট জয় করার আনন্দ। তিনি লেখেন, কীভাবে নীরবতা আর ধৈর্য স্মৃতিকে শক্ত করেছে। এই কথাগুলো শুধু একজন মায়ের অনুভূতি নয়, বরং এক ধরনের সামাজিক বার্তা কটাক্ষের জবাব সবসময় কথায় দিতে হয় না, কখনও সাফল্যই সবচেয়ে বড় উত্তর। আজ স্মৃতি মান্ধানা শুধু একজন সফল ক্রিকেটার নন। তিনি এক প্রতীক যিনি দেখিয়েছেন, ব্যক্তিগত আঘাত পেয়েও কীভাবে মাথা উঁচু করে সামনে এগিয়ে যেতে হয়।
রিপোস্ট করেন স্মিতা মন্ধনা
