ভারতের বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে পাকিস্তানের প্রধান পেসার শাহিন আফ্রিদির (Shaheen Afridi) হতাশাজনক পারফরম্যান্স ঘিরে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে ক্রিকেট মহলে। গতকাল ভারত ও পাকিস্তান চলতি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মঞ্চে মুখোমুখি হয়েছিল বিশ্বকাপের এই ম্যাচে। ভারতের কাছে সম্পূর্ণভাবে একতরফা হেরেছে পাকিস্তান। টসে হেরে প্রথমে ব্যাটিং করতে এসে ভারতীয় দল ১৭৫ রান তুলে ফেলেছিল। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মঞ্চে ভারত – পাকিস্তান ম্যাচে এটি সর্বাধিক স্কোর। শ্রীলংকার এই কঠিন উইকেটে এই রানটি তাড়া করা খুবই মুশকিল। তবে রান তাড়া করতে এসে যেভাবে পাকিস্তানের ব্যাটসম্যানরা একের পর এক উইকেট হারিয়ে ফেলেছিল তা হতাশা জনক। ব্যাটসম্যানদের পাশাপাশি পাকিস্তান দলের পেসার শাহীন আফ্রিদি তুলনামূলকভাবে ব্যর্থ হয়েছিলেন আজকের ম্যাচে।
ভারতের বিরুদ্ধে লজ্জার নজির শাহীন আফ্রিদির

বেশিরভাগ ম্যাচেই শাহীন আফ্রীদিকে প্রথম ওভারে বল তুলে নিতে দেখা যায়। তবে ভারতের বিরুদ্ধে প্রথম ওভারে বোলিং করতে এসেছিলেন অধিনায়ক সালমান আগা। সালমানের এই সিদ্ধান্ত অবশ্য সফলতা এনে দিয়েছিল পাকিস্তানের কাছে। প্রথম ওভারেই অভিষেককে আউট করেছিলেন সালমান। তবে দ্বিতীয় ওভারে বোলিং করতে এসেছিলেন পাকিস্তানের প্রিমিয়াম পেশার শাহীন আফ্রিদি, সম্পূর্ণরূপে শাহীন ব্যর্থ হন গতকাল ম্যাচে। তার প্রথম বলেই ছক্কা হাঁকিয়ে দিয়েছিলেন কালকের ম্যাচের সুপারস্টার ঈশান কিষান (Ishan Kishan)। পুরো ম্যাচে তাঁর বোলিং দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন পাকিস্তানের প্রাক্তন অধিনায়ক ও কিংবদন্তি অলরাউন্ডার শহীদ আফ্রিদি, যিনি ব্যক্তিগতভাবেও শাহিনের শ্বশুরও। তিনি সরাসরি মন্তব্য করেছেন, দলের স্বার্থে প্রয়োজন হলে শাহিনকে সাময়িকভাবে একাদশের বাইরে রাখা উচিত।
সাম্প্রতিক সময়ে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের প্রতিদ্বন্দ্বিতা আগের মতো উত্তেজনাপূর্ণ থাকছে না বলেও মত তাঁর। একসময় দুই দেশের লড়াই মানেই সমানে সমানে টক্কর হলেও, সাম্প্রতিক ম্যাচগুলোতে পাকিস্তানের ধারাবাহিক ব্যর্থতা চোখে পড়ছে। রবিবার ভারতের কাছে হারের পর আফ্রিদি বলেন, “আমার মনে হয় এখন যদি সিদ্ধান্ত নিতে হয়, তাহলে আমি শাহিনকেও বাদ দিয়ে দেব। শুধু শাহীন আফ্রিদি নয় পাকিস্তানের একাদশে জায়গা হয় না বাবর আজম, শাদাব খানদেরও। তাদেরকে ছাড়াই একাদশ বেছে নেওয়া উচিত। নামিবিয়ার বিরুদ্ধে আমি তরুণদের দলে দেখতে চাই, ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে ওদেরকে এই সুযোগ দেওয়ার প্রয়োজন।” ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচে শাহিন দুই ওভারে ৩১ রান দেন, আর শাদাব এক ওভারে খরচ করেন ১৭ রান। বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে যখন পাকিস্তান দ্রুত উইকেট হারাচ্ছিল, তখন ভরসা ছিল বাবর আজমের ব্যাটে। কিন্তু স্পিনের বিরুদ্ধে স্বচ্ছন্দ হলেও তিনি মাত্র ৫ রান করে আউট হয়ে যান -এর বলে।