বলিউডের সিনেমা যে শুধু ভারতেই নয়, আন্তর্জাতিক পর্যায়েও প্রভাব ফেলে, তা আবারও প্রমাণ করল সদ্য প্রকাশ্যে আসা ‘ধুরন্ধর 2 : দা রিভেঞ্জ’। মুক্তির পর থেকেই আলোচনায় থাকা এই ছবিকে কেন্দ্র করে এবার বিতর্ক ছড়াল পাকিস্তানে, আর সেই বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন সাবেক পাকিস্তানি অধিনায়ক শাহিদ আফ্রিদি (Shahid Afridi)। সম্প্রতি প্রকাশ্যে আসা এই সিনেমাটি বেশ হরতাল ঘটিয়েছে পাকিস্তানে। ছবিটি পরিচালনা করেছেন আদিত্য ধর এবং প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন রণবীর সিং। অ্যাকশন, ভিএফএক্স এবং নাটকীয়তার দিক থেকে এটি একটি বড় মাপের প্রজেক্ট হিসেবে ধরা হচ্ছে এই সিনেমাটিকে। তবে, ছবির রাজনৈতিক বার্তা নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
‘ধুরন্ধর’ – মুভি নিয়ে মুখ খুললেন শহীদ আফ্রিদি

এই পরিস্থিতিতেই আফ্রিদির মন্তব্য আরও আগুনে ঘি ঢালে। তিনি বলেন, “এই সিনেমা দেখার পর মনে হচ্ছে, চারপাশে সবাই সন্দেহজনক হয়ে উঠেছে।” এমনকি তিনি দাবি করেন, সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে সবাইকে জিজ্ঞাসাবাদ করা উচিত—তারা ভারতীয় এজেন্ট কিনা। তার মতে, “এখন কাউকে বিশ্বাস করা যায় না। যাদের সঙ্গে কথা বলি, খুব সতর্ক হয়ে বলি, কারণ মনে হয় তারা ভারতীয় এজেন্ট হতে পারে।” তবে এখানেই শেষ নয়, মন্তব্য করে আফ্রীদি আরও বলেছেন, “সরকারকে রাস্তার ভিখারি থেকে শুরু করে সবার জিজ্ঞাসাবাদ করা উচিত, তারা ভারতীয় এজেন্ট কিনা তা খুঁজে বের করার জন্য।”
Read More: ভারতের সঙ্গে খেলতে মরিয়া বাংলাদেশ, চূড়ান্ত হল দ্বিপাক্ষিক সিরিজের দিনক্ষণ !!
শুধু সিনেমা নিয়ে নয়, দেশের ক্রিকেট নিয়েও বেশ সমালোচনা করেছেন আফ্রিদি। সরাসরি পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের সিদ্ধান্ত নিয়েও আক্রমণ করেন। বিশেষ করে তাঁর জামাতা শাহীন শাহ আফ্রিদি -কে ওয়ানডে দলের অধিনায়ক করার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। বাংলাদেশের বিরুদ্ধে সিরিজ হারকে তিনি বড় ব্যর্থতা হিসেবে উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের বাদ দিয়ে নতুনদের সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত দলকে দুর্বল করে তুলছে। আফ্রিদির দাবি – যারা ঘরোয়া ক্রিকেটে বেশি ম্যাচ খেলেনি, তাদের আন্তর্জাতিক দলে আনা হচ্ছে। মন্তব্য করে তিনি বলেছেন, “২০২৬ টি-২০ বিশ্বকাপের পারফরম্যান্স এমন সাধারণ ছিল, তারপর আবার আমরা বাংলাদেশ সিরিজও ২-১ ব্যবধানে হেরেছি। আমার মতে, নির্বাচক কমিটি সমালোচনার যোগ্য। তোমরা সবাই এত ক্রিকেট খেলেছো, তবুও এখনো বুঝতে পারছো না কোন ফরম্যাটে কাকে অধিনায়ক করা উচিত।“
দলের পারফরম্যান্স নিয়েও খুশি নন আফ্রিদি

তাঁর মতে, এটি দীর্ঘমেয়াদে দলের ক্ষতি করছে। ঘরোয়া ক্রিকেট নিয়েও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাঁর মতে, যদি ঘরোয়া ক্রিকেটের মান উন্নত না হয়, তাহলে আন্তর্জাতিক মানের খেলোয়াড় তৈরি করা সম্ভব নয়।সবশেষে তিনি বলেন, “যদি সত্যিই সার্জারি দরকার হয়, তাহলে সেটা নির্বাচক কমিটির ওপর করা উচিত। ঘরোয়া ক্রিকেটের মান ভালো নয়, তাই তারা সরাসরি পাকিস্তান দলে এসে জায়গা পাকা করার মতো প্রস্তুত নয়।” এই বক্তব্য স্পষ্টভাবে বোঝায়, তিনি বর্তমান ব্যবস্থায় আস্থা হারিয়েছেন।