আইপিএল ২০২৬ এর আগে (IPL 2026) মুস্তাফিজুর রহমানকে নিয়ে শুরু হওয়া বিতর্ক ক্রমশ সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছে। কলকাতা নাইট রাইডার্স তাঁকে দলে নেওয়ার পর থেকেই সমালোচনার ঝড় উঠেছিল। সম্প্রতি ভারত ও বাংলাদেশের পরিস্থিতির কথা বিচার করেই মুস্তাফিজের কেনা নিয়ে বেশ সমালোচিত হতে হয়েছিল কেকেআরকে। বাংলাদেশে হিন্দু নিধনের পর ভারতের হিন্দুসভার সদস্যারা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে এবং মুস্তাফিজুর ও কেকেআর মালিক শাহরুখ খানকে প্রকাশ্যে মারার হুমকিও দেওয়া হয়।
মুস্তাফিজুর রহমানকে ব্যান করেছে BCCI

শেষ পর্যন্ত বিসিসিআই হস্তক্ষেপ করে কেকেআরকে মুস্তাফিজকে রিলিজ করার নির্দেশ দেয়। এই ঘটনায় নতুন করে বিতর্কে ইন্ধন জুগিয়েছেন কেকেআরের প্রাক্তন ক্রিকেটার মনোজ তিওয়ারি। মনোজ তিওয়ারি স্পষ্ট ভাবেই জানিয়েছেন যে বিসিসিআই কোনও ভুল করেনি। বরং তাদের এই সিদ্ধান্ত অনেক আগেই নেওয়া উচিত ছিল বলেই ধারণা মনোজের। তাঁর মতে, প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে দেরি হওয়াতেই পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। বিশেষত গত নভেম্বরের মিনি নিলামে মুস্তাফিজুরকে দলে নেওয়ার পর থেকেই বিতর্ক শুরু হয়। বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং সংখ্যালঘু হিন্দুদের উপর নির্যাতনের অভিযোগ ভারতীয় সমর্থকদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। সেই চাপের মুখেই শেষ পর্যন্ত বিসিসিআই হস্তক্ষেপ করে।
Read More: “যারা ভারতের বিরুদ্ধে…” মুস্তাফিজুর রহমান ইস্যুতে অগ্নিশর্মা দিলীপ ঘোষ, করলেন এই মন্তব্য !!
মুস্তাফিজ প্রসঙ্গে মুখ খুললেন আফ্রিদি

মনোজ তিওয়ারি বলেন “কোন একজন মানুষকে তার পরিচয় এর জন্য হত্যা করা এটা নিন্দনীয়। এটা কোনভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। সেই দিক থেকে বিসিসিআইয়ের এই সিদ্ধান্ত যথেষ্ট যুক্তিসঙ্গত।” অন্যদিকে সমাজ মাধ্যমে বেশ চর্চায় উঠে এসেছেন সাবেক পাকিস্তানি অধিনায়ক শহীদ আফ্রিদি (Shahid Afridi)। তিনি আইপিএল থেকে বাংলাদেশি খেলোয়াড় মুস্তাফিজুরকে ব্যান করাতেই বিসিসিআইয়ের কড়া নিন্দা করেছেন। সমাজ মাধ্যমে আফ্রিদির বয়ানের একটি ফটো বেশ ভাইরাল হচ্ছে। ভাইরাল হওয়া সেই ফটোতে দেখতে পাওয়া যাচ্ছে আফ্রিদি বলেছেন, “প্রথমে পাকিস্তান, এবার বাংলাদেশ, ভারতীয়রা আইপিএলকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে বিশ্বকে শাসন করতে চায়।” প্রসঙ্গত, ২০০৮ সালের মুম্বাই হামলার পর পাকিস্তানি খেলোয়াড়দের ব্যান করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বিসিসিআই। আইপিএলের প্রথম মৌসুমে পাকিস্তানি খেলোয়াড়রা খেলার সুযোগ পেলেও দ্বিতীয় মৌসুম থেকে তারা আর খেলতে পারেননি। এবার বাংলাদেশি খেলোয়াড়দের উপরেও সেই একই নিয়ম কার্যকরী হয়েছে।