২০২৬ আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে ক্রিকেট বিশ্বে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হয়ে উঠেছে বাংলাদেশের বহিষ্কার। ভারতে খেলতে অনিচ্ছুক হওয়ায় বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আইসিসি (ICC)। এই সিদ্ধান্ত শুধু বাংলাদেশেই নয়, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট মহলেও তীব্র প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড ভারতের পরিবর্তে অন্য ভেন্যুতে ম্যাচ আয়োজনের প্রস্তাব দেয়। তবে আইসিসির ভোটাভুটিতে সেই প্রস্তাব নাকচ হয়ে যায় ১৬–২ ব্যবধানে। এরপরও বাংলাদেশ তাদের অবস্থানে অনড় থাকায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে চূড়ান্ত সম্মতি দেয়নি। এর ফলেই আইসিসির কড়া সিদ্ধান্ত- বিশ্বকাপ থেকে বহিষ্কার।
বাংলাদেশ বিতর্কে মুখ খুললেন আফ্রিদি

এই প্রসঙ্গে পাকিস্তানের প্রাক্তন অধিনায়ক শাহিদ আফ্রিদি সরাসরি আইসিসির সমালোচনা করেন। তাঁর বক্তব্য, “যদি একটি দল নিরাপত্তাজনিত কারণে খেলতে না চায়, তাহলে সমাধান বের করা আইসিসির দায়িত্ব। বিভাজন তৈরি করা নয়।” আফ্রিদির মতে, বাংলাদেশের সঙ্গে অন্যায় করা হয়েছে। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন ২০২৫ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির কথা, যখন ভারত নিরাপত্তার অজুহাতে পাকিস্তানে খেলতে অস্বীকার করেছিল।
Read More: “আমায় ফাঁসানো হচ্ছে..”, স্মৃতির বন্ধুর বিরুদ্ধে ১০ কোটি টাকার মানহানির মামলা করলেন পলাশ মুচ্ছল !!
তখন আইসিসি ভারতের ম্যাচ দুবাইয়ে আয়োজন করে। আফ্রিদি মুখ খুলে আবার জানতে চান, “ভারতের জন্য যদি নিয়ম শিথিল করা যায়, তাহলে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে কেন সেই পথ অনুসরণ করা হলো না?” এই অবস্থানে পাকিস্তানও বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়েছে। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড মনে করে, আইসিসির উচিত ছিল আরও কূটনৈতিক ও বাস্তবসম্মত সমাধান বের করা।
ICC-র সিদ্ধান্তে উঠছে বড় প্রশ্ন

একই সুর শোনা যায় প্রাক্তন অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটার জেসন গিলেসপির গলাতেও। যদিও পরে তিনি নিজের মন্তব্য প্রত্যাহার করেন। আইসিসি অবশ্য নিজেদের সিদ্ধান্তে অনড়। সংস্থার দাবি, বাংলাদেশ অভিযোগ জানানোর পর স্বাধীন নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের দিয়ে ভারতীয় ভেন্যুগুলোর পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা হয়েছে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ দলের জন্য কোনও ধরনের ঝুঁকি নেই। সেই কারণেই ভেন্যু বদলের প্রশ্ন ওঠেনি। বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কার মাটিতে তাদের বিশ্বকাপ খেলতে চাইলেও আইসিসি স্পষ্ট জানিয়ে দেয় – অল্প সময়ের মধ্যে সেটা করা সম্ভব নয়। এমনকি, আইসিসি কতৃক বাংলাদেশকে আশ্বাস দেওয়া হলেও তারা নিজ সিদ্ধান্তে অনড় ছিল। আর এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের বদলে খেলতে দেখতে পাওয়া যাবে স্কটল্যান্ডকে।