ভারত এবং পাকিস্তানের মধ্যে রাজনৈতিক সম্পর্ক ইতিহাসে একাধিকবার ক্রিকেট মাঠে উত্তেজনা তৈরি করেছে। গত বছর পাহেলগামে জঙ্গি হামলার ঘটনার পর দুই দেশের সম্পর্ক আরও তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। এইরকম পরিস্থিতির মধ্যে গত বছর এশিয়া কাপে (Asia Cup 2025) সালমান আলি আগাদের (Salman Ali Agha) কোনোরকম সৌজন্য দেখায়নি সূর্যকুমার যাদবরা (Suryakumar Yadav)। এই বিতর্ক আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও (T20 WC 2026) অব্যাহত রয়েছে। বাংলাদেশকে আসন্ন টুর্নামেন্ট থেকে বাদ পড়ার পর এবার পাকিস্তান ভারতের সঙ্গে ম্যাচ খেলবে না বলে প্রস্তুতি শুরু করেছে। এর মধ্যেই আইসিসিকে (ICC) জ্ঞান দিয়ে বার্তা দিলেন শাহীদ আফ্রিদি (Shahid Afridi)।
Read Also: “আসল জায়গায় সমস্যা..”, বিশ্বকাপের আগে সৌরভ গাঙ্গুলী করলেন সূর্যকুমারদের সতর্ক !!
ভারতের সঙ্গে খেলবে না-

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অসংখ্য নতুন দল লড়াই করে যোগ্যতা অর্জন করেছে। নেপাল, ইতালি, ওমানের মতো দেশকে আসন্ন এই টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ করতে দেখা যাবে। তবে বাংলাদেশকে বাদ দিয়েছে আইসিসি। তারা বিশ্বকাপের ম্যাচগুলি ভারতে খেলবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিল। ভারতে নিরাপত্তা সংক্রান্ত কোনো সমস্যা নেই লিটন দাসদের (Litton Das) বলে স্পষ্ট করে আইসিসি। তবে শেষ পর্যন্ত বিসিবি নিজেদের অবস্থানে অনড় থাকায় শেষ পর্যন্ত টাইগার বাহিনীদের বাদ দেওয়া হয়।
এরপরই পাকিস্তান বাংলাদেশকে বাদ দেওয়ার বিষয়টি সমালোচনা করে। মহসিন নকভি (Mohsin Naqvi) স্পষ্ট করে যে ক্রিকেটের থেকে দেশের স্বার্থ সবার আগে। সরকারের সঙ্গে আলোচনা করার পর শেষ পর্যন্ত পিসিবি (PCB) সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে যে বিশ্বকাপ খেললেও ভারতের বিপক্ষে মাঠে নামবে না সালমান আলী আগারা। ফলে আবারও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।
শহীদ আফ্রিদির বার্তা-

ভারত এবং পাকিস্তানের মধ্যে রাজনৈতিক সমস্যা থাকায় তারা দ্বিপাক্ষিক সিরিজগুলিতে অংশগ্রহণ করে না। ফলে দুই চির প্রতিদ্বন্দ্বী যখন কোনো টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ করে ক্রিকেটের উন্মাদনা অনেকটাই বেশি থাকে। এই কারণে ম্যাচগুলি থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ উপার্জন করে আইসিসি। আসন্ন টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ভারত-পাক (India vs Pakistan Match) ম্যাচ না হলে অনেকটাই বিপাকে পড়বেন কর্মকর্তারা। এর আগেই আইসিসিকে বার্তা দিয়ে পরামর্শ দিলেন শহীদ আফ্রিদি।
পাকিস্তানের এই প্রাক্তন ক্রিকেটার বলেন, “আইসিসির জন্য এখনই সময় তাদের সঠিক ভূমিকা প্রমাণ করে দেখানোর। শুধু কোনো বিবৃতির মাধ্যমে নয় উপযুক্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমে তাদের প্রমাণ করতে হবে। তবেই বোঝা যাবে তারা প্রতিটি সদস্যের পক্ষে নিরপেক্ষ, স্বাধীন এবং ন্যায্য। আমি বিশ্বাস করি যে রাজনীতি যেসব দরজা বন্ধ করে দেয় ক্রিকেট সেসব দরজা খুলে দিতে পারে।” এর মাধ্যমে আফ্রিদি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশকে ফিরিয়ে আনার জন্যই আইসিসিকে বার্তা দিলেন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।