সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে তারকাদের জীবনের প্রতিটি মুহূর্তই যেন জনসমক্ষে। এই বাস্তবতার মুখোমুখি হচ্ছেন সারা টেন্ডুলকারও। সম্প্রতি বিমানবন্দরের একটি ভিডিও তাঁকে আবারও শিরোনামে নিয়ে এসেছে। ভিডিওতে দেখা যায়, সারা বিমানবন্দরে হাঁটছেন, এমন সময় এক তরুণ তাঁর কাছে এসে একটি গোলাপ ও ফুল উপহার দেন। সারা বিনয়ের সঙ্গে তা গ্রহণ করেন এবং একটি ছবি তুলতেও সম্মতি দেন। ভিডিওটি ভাইরাল হতেই প্রশংসার বন্যা বয়ে যায়। অনেকেই বলেন, এত জনপ্রিয় হয়েও সারার আচরণ অত্যন্ত মাটির কাছাকাছি।
সামাজিক মাধ্যমে অনেকেই লিখেছেন, এত বড় তারকা পরিবারের সদস্য হয়েও সারার ব্যবহার অত্যন্ত সাধারণ। তিনি কোনও রকম অহংকার দেখাননি, বরং ভক্তকে সম্মান দিয়েছেন। এই কারণেই তাঁর জনপ্রিয়তা দিন দিন বাড়ছে বলে মনে করছেন অনেকে। কিন্তু এই ইতিবাচক প্রতিক্রিয়ার পাশাপাশি শুরু হয় পুরনো বিতর্কের পুনরাবৃত্তি। কয়েক মাস আগে গোয়ায় বন্ধুদের সঙ্গে বিয়ার পান করার ঘটনাকে টেনে এনে আবারও সমালোচনা শুরু হয়। কেউ কেউ শচীন টেন্ডুলকারকে পর্যন্ত ট্রোল করেন, যা অনেকের কাছেই অযৌক্তিক মনে হয়েছে।
Read More: “দম থাকলে করে দেখা..”, ভারতকে বয়কটের বিতর্কে পাকিস্তানকে তীব্র আক্রমণ হরভজন সিং’এর !!
বিমানবন্দরের এক মুহূর্তেই আলোচনার কেন্দ্রে সারা টেন্ডুলকার

শচীন টেন্ডুলকার বরাবরই সুস্থ জীবনযাপনের প্রতীক। তিনি কখনও মদ, তামাক বা পানমশলার প্রচারে যুক্ত হননি। কিন্তু এর অর্থ কি এই যে তাঁর প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানের ব্যক্তিগত জীবনও একই নিয়মে বাঁধা থাকবে? এই প্রশ্নই এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘুরপাক খাচ্ছে। অনেক ভক্তই মনে করেন, সারা একজন শিক্ষিত, স্বনির্ভর নারী। তিনি যদি আইনের মধ্যে থেকে নিজের জীবন উপভোগ করেন, তবে তা নিয়ে এত সমালোচনার কোনও অর্থ নেই। আসলে ২৮ বছর বয়সী সারা টেন্ডুলকার শুধুই সোশ্যাল মিডিয়ার মুখ নন।
তিনি শচীন টেন্ডুলকার ফাউন্ডেশনের পরিচালক হিসেবে সমাজসেবামূলক কাজে যুক্ত। এই ফাউন্ডেশন শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও খেলাধুলার মাধ্যমে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জীবনে পরিবর্তন আনার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে। শিক্ষাগত যোগ্যতার দিক থেকেও সারা যথেষ্ট এগিয়ে। তিনি ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডন থেকে ক্লিনিক্যাল অ্যান্ড পাবলিক হেলথ নিউট্রিশনে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেছেন। পাশাপাশি তিনি একজন পেশাদার পুষ্টিবিদ, মডেল এবং উদ্যোক্তা। মুম্বাইয়ে তাঁর নিজস্ব পাইলেটস একাডেমি রয়েছে, যা স্বাস্থ্য সচেতন তরুণদের মধ্যে বেশ জনপ্রিয়।