আহমেদাবাদের মাঠ ভারতীয় ক্রিকেটের জন্য অনেক স্মৃতির সাক্ষী হিসাবে রয়ে গিয়েছে। কিছু স্মৃতি আনন্দের, আবার কিছু স্মৃতি গভীর যন্ত্রণার। ২০২৩ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালের সেই হৃদয়ভঙ্গ এখনও ভুলতে পারেননি অনেক ক্রিকেটার। ওডিআই বিশ্বকাপের মঞ্চে প্রতিটি ম্যাচ জয়ের পর মেগা ফাইনালে হৃদয় ভেঙেছিল টিম ইন্ডিয়ার। রোহিত শর্মার নেতৃত্বাধীন টিম ইন্ডিয়াকে পরাস্ত করেছিল অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দল। ট্রেভিস হেডের (Travis Head) দুরন্ত সেঞ্চুরির দৌলতে হৃদয় ভেঙেছিল ভারতীয় ক্রিকেট ভক্তদের। তবে, ২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মঞ্চে দুর্দান্ত প্রদর্শন দেখিয়ে বিশ্বকাপ সুনিশ্চিত করলো টিম ইন্ডিয়া। গতকাল একতরফা ভাবে নিউজিল্যান্ডকে পরাস্ত করেছে টিম ইন্ডিয়া।
২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ফাইনাল ছিল সেই দুঃখের জবাব দেওয়ার দিন। এই ফাইনালের অন্যতম নায়ক ছিলেন সঞ্জু স্যামসন (Sanju Samson)। টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় হওয়ার পর তিনি যে কথাগুলো বলেছিলেন, তা অনেক ক্রিকেটপ্রেমীর মন ছুঁয়ে যায়। বিশ্বকাপের আগে সময়টা তাঁর জন্য ছিল ভীষণ কঠিন। নিউজিল্যান্ড সিরিজে পারফরম্যান্স ভালো হয়নি তাঁর। লাগাতার সুযোগ পাওয়ার পরেও সেভাবে রান আসেনি ফলে দল থেকেও বাদ পড়তে হয়েছিল তাঁকে। বিশ্বকাপের প্রথম একাদশ থেকে বাদ পড়েছিলেন স্যামসন। এই পরিস্থিতিতে অনেক খেলোয়াড়েরই হতাশ হয়ে পড়ার কথা। কোনো ব্যাতিক্রম ছিল না সঞ্জুর ক্ষেত্রেও। এই প্রসঙ্গে মন্তব্য করে সঞ্জু নিজেই বলেছেন, “সেই সময় মনে হয়েছিল আমার স্বপ্ন শেষ হয়ে গেছে।” তবুও কঠিন সময়ে তিনি হাল ছাড়েননি।
শেষ হয়ে যাওয়ার ভয় থেকে বিশ্বকাপের সেরা সঞ্জু স্যামসন

সঞ্জু আরও জানিয়েছেন, যে সময় তিনি দলের বাইরে ছিলেন সে সময়ে অনেক সিনিয়র ক্রিকেটারদের সঙ্গে কথা বলেছিলেন তিনি। বিশেষ করে ভারতীয় ক্রিকেট কিংবদন্তি শচীন টেন্ডুলকারের থেকে তিনি গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ পেয়েছিলেন। টেন্ডুলকারের সঙ্গে কথোপকথনই তাঁকে নতুন করে আত্মবিশ্বাস জুগিয়ে তুলেছিল। বিশ্বকাপের মাঝপথে হঠাৎ করেই দলের কম্বিনেশন বদলে যায়। আর সেই সুযোগেই আবার মাঠে নামেন সঞ্জু। সেই ম্যাচটা ছিল কার্যত মরণ-বাঁচন ম্যাচ। সঞ্জু যেন সেই সুযোগের অপেক্ষাতেই ছিলেন।
Read More: Video: হকের ট্রফি ভারতের কব্জায়, হার্দিক-সূর্যের উদযাপন ভাইরাল !!
কোহলি-রোহিতের ক্যাপ্টেন্সিতে সেভাবে সুযোগ পাননি সঞ্জু

অসাধারণ একটি ইনিংস খেলে তিনি শুধু ম্যাচই জেতাননি, নিজের ক্যারিয়ারকেও নতুন জীবন দেন। এরপর সেমিফাইনাল এবং ফাইনালেও ব্যাট হাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। টুর্নামেন্টের শেষ চার ম্যাচে তিনি ছিলেন ভারতের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক। ফলে স্বাভাবিকভাবেই টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার জিতে নেন কেরলের এই ব্যাটার। পুরস্কার নেওয়ার সময় তিনি বলেন, “এখন সবকিছুই স্বপ্নের মতো মনে হচ্ছে। কিন্তু এই স্বপ্নটা সহজে আসেনি।”
অন্যদিকে এই ফাইনাল ছিল জশপ্রীত বুমরাহর জন্যও বিশেষ একটি মুহূর্ত। একসময় মহেন্দ্র সিং ধোনি বিরাট কোহলি এবং রোহিত শর্মার ক্যাপ্টেন্সিতে সেভাবে সুযোগ পেতে দেখা যায়নি সঞ্জুকে তবে গৌতম গাম্ভীর ভারতীয় ক্রিকেট দলের প্রধান কোচ হওয়ার পর থেকে সূর্য কুমার যাদবের ক্যাপ্টেন্সিতে একাধিক ম্যাচেই সুযোগ পেতে দেখা গিয়েছে সঞ্জুকে বিশ্বকাপের মঞ্চে নিজের নামে প্রতি সুবিচার করেছেন তিনি। টুর্নামেন্টের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে রান এসেছে সঞ্জুর ব্যাট থেকে।