সাবেক ভারতীয় ক্রিকেটার ও সাবেক হেড কোচ সঞ্জয় বাঙ্গারের সন্তান অনয়া বাঙ্গারের গল্প একদিকে যেমন সাহসের, তেমনই মানসিক স্বাস্থ্যের গুরুত্বের কথাও বলে। লিঙ্গ পরিবর্তন করে তিনি বিশ্বব্যাপী মানুষদের ধারণাকে একেবারে বদলে দিয়েছেন। তবে, একজন প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেটারের সন্তান হিসেবে বড় হওয়া অনয়ার জীবন বাইরে থেকে যতটা ঝলমলে মনে হয়, ভিতরে ছিল ততটাই অস্থিরতা। শৈশব থেকেই নিজের লিঙ্গপরিচয় নিয়ে দ্বন্দ্বে ভুগছিলেন অনয়া। সমাজ ও পরিবারের চাপে সেই অনুভূতি দীর্ঘদিন ধরে চেপে রেখেছিলেন তিনি। প্রসঙ্গত, জন্মসূত্রে পুরুষ হলেও, নিজের লিঙ্গ বা পরিচিতি নিয়ে কখনও মানিয়ে নিতে পারেননি তিনি। এরপর, ২০২১ সালে আর নিজেকে আটকে রাখতে পারেননি তিনি এবং সেখান থেকেই শুরু হয় হরমোনাল রিপ্লেসমেন্ট থেরাপি (HRT)। অর্থাৎ পুরুষ থেকে মহিলাতে রূপান্তরিত হতে থাকেন তিনি। শরীরের সঙ্গে সঙ্গে বদলাতে থাকে মানসিক অবস্থাও।
কিন্তু এই সময়ে সবচেয়ে বড় আঘাত আসে পরিবারের দিক থেকে। পিতা সঞ্জয়ের লক্ষ ছিল, তাকেও ক্রিকেটার বানানোর এবং দেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করানোর। যে কারণেই বাবার পক্ষ থেকেও তখন সমর্থন মেলেনি। তবুও থেমে থাকেনি অনয়া। অবসাদ, একাকীত্ব, ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা – সব মিলিয়ে জীবন একসময় অসহনীয় হয়ে ওঠে। এমনকি, আত্মহত্যার ভাবনাও আসে তাঁর মনে। তবুও থেরাপির মাধ্যমে ধীরে ধীরে নিজের ভিতরের শক্তিকে খুঁজে পান অনয়া। নিজের পরিচয়কে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। কিছু ক্রিকেটারের অশালীন আচরণ তাঁকে হতবাক করে দেয়। কিন্তু এবার তিনি চুপ করে থাকেননি। নিজের অভিজ্ঞতা প্রকাশ্যে বলতে শুরু করেন। এই খোলামেলা স্বীকারোক্তি সমাজে আলোচনার জন্ম দেয়। ধীরে ধীরে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া আসে। সেই পরিবর্তন পরিবারের চোখেও পড়ে। বাবা-মা বুঝতে পারেন, এটি কোনও হঠকারী সিদ্ধান্ত নয়। এখন অনয়া প্রস্তুত ভ্যাজিনোপ্লাস্টির জন্য।
Read More: IND vs AFG: অ্যারন-বৈভবের দাপুটে ব্যাটিং, আফগানিস্তানকে উড়িয়ে ফাইনালে টিম ইন্ডিয়া !!
লিঙ্গপরিচয়ের লড়াইয়ে অনয়া বাঙ্গার

থাইল্যান্ডে হওয়া এই অস্ত্রোপচার তাঁর জীবনের এক নতুন অধ্যায় শুরু করবে। তিনি বলেন , “এই মুহূর্তটার জন্য আমি পাঁচ বছর অপেক্ষা করেছি। নিজের সঙ্গে লড়াই করেছি, থেরাপি নিয়েছি। আজ আমি শান্ত।” বাবা সঞ্জয় বাঙ্গার এবার তাঁর পাশে। চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েছেন তিনি। অনয়া বলেছেন, “পরিবার যদি পাশে থাকে, তাহলে রূপান্তর অনেক সহজ হয়।” এই অস্ত্রোপচারের পর অন্তত ছয় মাস ক্রিকেট খেলতে পারবেন না তিনি।
তবে প্রশ্ন থেকেই যায়—অস্ত্রোপচারের পর কি মহিলাদের ক্রিকেটে খেলতে পারবেন অনয়া? আইসিসির বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, যাঁরা পুরুষ হিসেবে বয়ঃসন্ধি পার করেছেন, তাঁরা মহিলাদের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিতে পারবেন না। এক সময় যশস্বী জয়সওয়াল, মুশির খানের সঙ্গে মাঠ ভাগ করে নেওয়া আরিয়ান আজ পরিচিত এক সাহসী আত্মপরিচয়ের লড়াইয়ের প্রতীক হিসেবে।