টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ মানেই উত্তেজনা, নাটক আর স্মরণীয় মুহূর্ত। ভারত–যুক্তরাষ্ট্র ম্যাচে তেমনই এক সন্ধ্যায় ক্রিকেটপ্রেমীরা পেলেন মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি এক অনন্য দৃশ্য। ভিআইপি বক্সে মুকেশ আম্বানি ও রোহিত শর্মার মধ্যে ঘটে যাওয়া হালকা-চালের সৌজন্যমূলক মুহূর্ত আজও আলোচনায়। ৭ ফেব্রুয়ারি, শনিবার—মুম্বইয়ের ঐতিহ্যবাহী ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে ভারতের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু হয় যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ম্যাচ দিয়ে। ম্যাচ দেখতে আম্বানি পরিবার হাজির ছিলেন পূর্ণ উদ্যমে। মুকেশ আম্বানি, নীতা আম্বানি, আকাশ আম্বানি এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে ভিআইপি গ্যালারিতে যোগ দেন রোহিত শর্মা। রোহিতের জন্য এই ম্যাচ ছিল আবেগে ভরা।
মুকেশ আম্বানির মুখের উপর না বললেন রোহিত শর্মা

অবসর নেওয়ার পরও তিনি ভারতীয় ক্রিকেটের অন্যতম মুখ। ২০২৬ বিশ্বকাপের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর হিসেবে তাঁর উপস্থিতি ম্যাচে নতুন মাত্রা যোগ করে। ম্যাচ শুরুর আগে জয় শাহের সঙ্গে বিশ্বকাপ ট্রফি হাতে মাঠে নামতেই গ্যালারিতে পড়ে যায় উল্লাসের ঢেউ। ভিআইপি বক্সে বসেই ঘটে যায় সেই আলোচিত ঘটনা। মুকেশ আম্বানি হাসিমুখে রোহিতকে চা ও হালকা জলখাবার অফার করেন।
Read More: ICC-র চাপেই ইউ-টার্ন, ভারত–পাকিস্তান ম্যাচ নিয়ে আলোচনায় PCB !!
রোহিত ভদ্রভাবে তা গ্রহণ না করে ধন্যবাদ জানান। এই সাধারণ দৃশ্যই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায়। অনেকেই লেখেন, এই মুহূর্ত দেখিয়ে দেয়—তারকা, শিল্পপতি কিংবা ক্রিকেট কিংবদন্তি—সবাই শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষই। দু’বছর আগে ক্যারিবিয়ানে বিশ্বকাপ জয়ের পর রোহিত শর্মা টি-টোয়েন্টি থেকে অবসর নিলেও, তাঁর জনপ্রিয়তা একটুও কমেনি। ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে তাঁর নাম ধ্বনিত হওয়া প্রমাণ করে, দর্শকদের হৃদয়ে তাঁর অবস্থান এখনও অটুট।
ওয়াংখেড়েতে ভারতের দুরন্ত জয়

মাঠে ভারত প্রথমে ব্যাট করে সংগ্রহ করে ১৬১ রান। সূর্যকুমার যাদবের ব্যাটে ঝড় ওঠে—৪৯ বলে অপরাজিত ৮৪ রান। তাঁর ইনিংসেই ভর করে লড়াইয়ের শক্তি পায় ভারত। যুক্তরাষ্ট্রের বোলার শ্যাডলি ভ্যান শাল্কভিক ৪ উইকেট নিয়ে লড়াইয়ে রাখার চেষ্টা করেন। জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ১৩২ রানেই গুটিয়ে যায়। ভারতের বোলিং আক্রমণে নেতৃত্ব দেন মোহাম্মদ সিরাজ। ৩ উইকেট তোলেন তিনি।অক্ষর প্যাটেল ও অর্শদীপ সিং নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে চাপ বাড়ান। শেষ পর্যন্ত ভারত বড় জয় তুলে নেয়। ভারত জয় দিয়ে শুরু করে বিশ্বকাপ অভিযান। তবে ম্যাচ জয়ের সাথে সাথে এটি স্মরণীয় হয়ে থাকবে রোহিত শর্মার আবেগী প্রত্যাবর্তন, ওয়াংখেড়ের উল্লাস এবং এক কাপ চা-র সৌজন্যমূলক প্রস্তাবের জন্য।