ক্রিকেটার হওয়ার স্বপ্ন দেখা সহজ, কিন্তু বাস্তবের অনটন সেই স্বপ্নকে অনেক সময় থামিয়ে দেয়। রিঙ্কু সিং (Rinku Singh) এর জীবনও তার ব্যতিক্রম ছিল না। ছোটবেলায় ক্রিকেট খেলতে চাইলেই বাবার ধমক তো ছিলই। আসলে, মধ্যবিত্ত পরিবারের বাবা-মায়েরা ছেলে বা মেয়েদের কোনো খেলাধুলা নয় বরং পড়াশুনাতেই মন দিতে বাধ্য করে তোলেন। তবে, রিঙ্কুর সেই ধমক একদিন গর্বে পরিণত হয়েছে তা হয়তো স্বপ্নেও ভাবেননি রিঙ্কু সিং। ভারতীয় ক্রিকেট দলের একজন উজ্জ্বল নক্ষত্র হলেন রিঙ্কু সিং। কয়েক বছর হলো তাঁর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট জীবনের। একদম নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে উঠে আসা রিঙ্কু সিং জানেন নিজের অতীত না ভুলতে ও সবসময় নিজের পা মাটিতে রাখতে।
বিশ্বকাপের মাঝে পিতৃহারা রিঙ্কু সিং

ছোট বেলায় হয়তো বাবার বকুনি খেয়েই বড় হয়েছেন রিঙ্কু, তবে রিঙ্কুর জীবনের সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা, বাবা খানচাদ সিং। জীবনে সফলতা শুরুর একেবারে প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছেন রিঙ্কু, আইপিএলে বা ঘরোয়া ক্রিকেটে রিঙ্কু নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তবে, আন্তর্জাতিক মানের ক্রিকেটে এই দাপুটে ব্যাটসম্যানের ক্যারিয়ার হয়তো সবে মাত্রই শুরু হয়েছে। তবে, রিঙ্কুকে সমর্থন করা তাঁর বাবা খানচাদ সিং আর এই পৃথিবীতে নেই। সাংসারিক অনটনের তাগিদে রিঙ্কুর উপর রাগ করতেন খানচাদ। গ্যাস কোম্পানির কোয়ার্টারে দিন কাটত, এলপিজি সিলিন্ডার ডেলিভারি করে সংসার চলত। ক্রিকেট তখন বিলাসিতা মনে হত।
Read More: টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মাঝেই বড় দুঃসংবাদ, পিতৃহারা হলেন রিঙ্কু সিংহ
কিন্তু স্কুল টুর্নামেন্টের এক সাফল্য বদলে দেয় সবকিছু। মোটরবাইক জেতার দিন থেকেই বাবা হয়ে ওঠেন সবচেয়ে বড় সমর্থক। খানচাঁদ সিংয়ের দিন শুরু হত ভোরে। সাইকেলে করে এলপিজি সিলিন্ডার পৌঁছে দিতেন বাড়ি বাড়ি। মাসিক আয় ছিল মাত্র ১২ হাজার টাকা। তবু ছেলের ক্রিকেটের খরচ জোগাতে পিছপা হননি। অবশ্য জাতীয় দলে জায়গা পাওয়ার পরও বাবা নিজের কাজ ছাড়েননি। আলিগড়ে নতুন বাড়িতে উঠলেও পুরনো কোয়ার্টার ছাড়েননি তিনি। তাঁর বিশ্বাস ছিল – পরিশ্রমই মানুষের আসল পরিচয়। চতুর্থ স্তরের লিভার ক্যানসারে দীর্ঘদিন ভুগছিলেন তিনি।
বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়াতে পড়তে পারেন রিঙ্কু

শেষ পর্যন্ত চিকিৎসকদের চেষ্টাও ব্যর্থ হয়। চলতি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মঞ্চে ভারতীয় দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হলেন রিঙ্কু। বিশ্বকাপ স্কোয়াড থেকে সাময়িকভাবে ফিরে এসে বাবার পাশে ছিলেন রিঙ্কু। গতকাল জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে ম্যাচে দলে ফিরেও এসেছিলেন তিনি। সামনে রয়েছে সুপার এইটে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট টিম এর বিরুদ্ধে ম্যাচ। তবে এই মুহূর্তে ক্রিকেটের চেয়ে বড় তাঁর ব্যক্তিগত শোক। কঠিন সময়ে রিঙ্কু ভারতীয় দলের সঙ্গে যোগ দেবেন কিনা তা নিয়ে একটি প্রশ্ন থেকেই যায়।