আইপিএল ২০২৬’ (IPL 2026) এর প্রথম ম্যাচেই মুখোমুখি হয়েছিল সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ এবং রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরু দল। হাড্ডাহাড্ডি এই লড়াইয়ে ঈশান কিষানের নেতৃত্বাধীন সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ দলকে ৬ উইকেটে পরাস্ত করেছে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরু দল। প্রথম ম্যাচেই দাপুটে ব্যাটিং পারফরম্যান্স দেখিয়ে ২৬ বল বাঁকি থাকতেই জয় ছিনিয়ে নেয় আরসিবি।
শুরুতেই ৩ উইকেট হারিয়ে ফেলে সানরাইজার্স
টস হেরে প্রথমে ব্যাটিং করতে এসে একেরপর এক উইকেট হারিয়ে ফেলেন সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ দলের ব্যাটসম্যানরা। শুরুতেই অভিষেক শর্মা ৮ বলে ৭ এবং ৯ বলে ১১ রানের উইকেট হারিয়ে ফেলে ট্রেভিস হেড। দুই উইকেট হারিয়ে ফেলে একেবারে ব্যাকফুটে চলে আসে দল।
ড্রিম ডেবিউ করলেন জেকব ডাফি

তিন নম্বরে ব্যাটিং করতে আসেন নীতিশ কুমার রেড্ডি। তবে, তিনিও বেশিক্ষন টিকে থাকতে পারেননি। ৬ বলে ১ রান বানিয়ে আউট তিনি। আরসিবির হয়ে প্রথম তিন উইকেই তুলে নেন জেকব ডাফি। ২৯ বলে ৩ উইকেট ফেলে সানরাইজার্স দল।
ক্যাপ্টেন কিষানের লড়াকু ব্যাটিং

একের পর এক উইকেট হারানোর পর দলের ভার সামলান ক্যাপ্টেন ঈশান কিষান (Ishan Kishan) এবং হেনরিক ক্লাসেন। দুজনের মধ্যে ৫৩ বলে ৯৭ রানের পার্টনারশিপ গড়ে উঠেছিল। সানরাইজ হায়দ্রাবাদ প্রায় ম্যাচে আবার ফিরে আসছিল কিন্তু তখনই দুরন্ত একটি ক্যাচ ধরে ক্লাসেনকে প্যাভেলিয়ানে ফেরান ফিলিপ সল্ট। সল্টের ক্যাচ নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও থার্ড আম্পায়ার ক্লাসেনকে আউট বলেই ঘোষণা করেন।
সল্টের দুরন্ত ক্যাচে ব্যাকফুটে SRH

ক্লাসেন আউট হওয়ার পর থেকেই একেবারে দমিয়ে পড়েছিল সানরাইজার্স দলের ব্যাটিং। প্রথম ম্যাচ খেলা সালিল আরোরা ৬ বলে ৯ রান বানিয়ে উইকেট হারিয়ে ফেলেন। পরেই ঈশান কিষান নিজের উইকেট হারিয়ে ফেলেন। ঈশান ৩৮ বলে ৮০ রান বানাতে সক্ষম হন। ঈশান আউট হতেই দলের মনোবল আরও ভেঙে যায়।
ভালো ফিনিশিং টাচ দিলেন অনিকেত
১৫৫ রানে ষষ্ঠ উইকেট হারিয়ে ফেলে সানরাইজার্স। শেষের দিকে অনিকেত ভার্মা দলের হয়ে একটা দারুন ফিনিশিং নক খেলেন। ১৮ বলে ৪৩ রানের দুরন্ত ইনিংসে ছিল ৩টি চার ও ৪টি ছক্কা। তার পারফরম্যান্সের জেরে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স দলের সামনে ৯ উইকেটে ২০১ রান বানিয়ে ফেলে সানরাইজার্স।
দেবদত্তের আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে চালকের আসনে RCB

জবাবে ব্যাটিং করতে এসে, খুবই সহজে জয় সুনিশ্চিত করে নেয় রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স। দ্বিতীয় ওভারের প্রথম বলে ফিলিপ সল্টকে আউট করেন জয়দেব উনাদকাট। প্রথম উইকেট দ্রুত হারিয়ে ফেললেও কোনোভাবেই চাপে দেখা যায়নি কোহলিদের। তিনে ব্যাটিং করতে এসে দ্রুত ২৬ বলে ৬১ রানের ইনিংস খেলেন দেবদত্ত পাদিক্কাল। ৭টি চার ও ৪টি ছক্কা হাঁকান দেবদত্ত।
ঝড়ো ব্যাটিং করলেন রজত পতিদার
পাওয়ার প্লের ভিতরে ৭৬ রান বানিয়ে ফেলে আরসিবি। দেবদত্ত আউট হওয়ার পর ইনিংসটি বড় করেন ক্যাপ্টেন রজত পাতিদার। ১২ বলে ৩১ রানের একটি দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন রজত। রজত যখন আউট হন তখন আরসিবির জিততে ৩৯ রানের প্রয়োজন ছিল। রজত আউট হওয়ার পরই ভাইস ক্যাপ্টেন জিতেশ শর্মা ব্যাটিং করতে আসেন, তবে খাতা না খুলেই প্যাভিলিয়নে ফিরতে হয় তাকে।
রানের ধারা অব্যহত কোহলির ব্যাটে

দলের হয়ে অসাধারণ ব্যাটিং করেন বিরাট কোহলি, শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ব্যাটিং করেছেন তিনি। ৩৮ বলে ৫টি চার ও ৫টি ছক্কায় ৬৯ রান বানিয়েছেন কিং কোহলি। শেষে টিম ডেভিড ১০ বলে ১৬ রানে অপরাজিত থাকে। সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের বিরুদ্ধে ২৬ বল বাঁকি থাকতেই জয় সুনিশ্চিত করে নেয় আরসিবি।