ভারত–পাকিস্তান (IND vs PAK) ক্রিকেট মানেই উত্তেজনা, আর সেই উত্তেজনার সঙ্গে প্রায়শই জুড়ে যায় বিতর্ক। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬-এ (T20 World Cup 2026) ফের সেই পরিচিত ছবি। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড ঘোষণা করেছে, তারা ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচ খেলবে না। তবে একাধিক ক্রিকেট ভক্তের মতে, পাকিস্তান পাল্টি খেতে বেশি সময় নেবে না। ভারতের প্রাক্তন ক্রিকেটার রবিচন্দ্রন অশ্বিন (Ravichandran Ashwin) মনে করেন, পিসিবির (PCB) এই অবস্থান বেশিদিন স্থায়ী হবে না। অতীতে একাধিকবার এমন দৃঢ় ঘোষণা দিয়ে শেষ পর্যন্ত মাঠে নামতে হয়েছে পাকিস্তানকে।
পাল্টি খাওয়ার অভ্যাস আছে পাকিস্তানের

এশিয়া কাপ ২০২৩ তার বড় উদাহরণ। পাকিস্তান আয়োজক হলেও ভারত দল পাঠাতে অস্বীকার করে। প্রথমে হাইব্রিড মডেল মানতে নারাজ থাকলেও শেষ পর্যন্ত এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের (ACC) চাপে নতিস্বীকার করতে হয়। ভারত তাদের ম্যাচ গুলি শ্রীলঙ্কায় খেলেছিল, আর ফাইনালও হয়েছিল সেখানেই। এমনকি পাকিস্তানও শ্রীলংকায় ভারতের বিরুদ্ধে খেলতে এসেছিল। এরপর, এশিয়া কাপ ২০২৫-এও এমনই একটি ঘটনা ঘটেছিল। এবার ভারত বনাম পাক ম্যাচ নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও ভারত এই ম্যাচটি খেলতে নামে, তবে করমর্দন না করেই মাঠ ছারে ভারতীয় দল, যা নিয়ে বিক্ষোভ দেখিয়েছিল পাকিস্তান দল।
Read More: WPL 2026: নাচ–গান–গ্ল্যামারে মোড়া WPL ফাইনাল, সমাপ্তি অনুষ্ঠানে থাকছে মালাইকা–তলবিন্দরের জাদু !!
ভারতের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে পাকিস্তান হুঁশিয়ারি দেয়, ম্যাচ রেফারিকে সরানো না হলে তারা আরব আমিরশাহির বিরুদ্ধে ম্যাচ খেলবে না। কিন্তু এসিসি সিদ্ধান্তে অনড় থাকায় শেষ পর্যন্ত মাঠে নামতে বাধ্য হয় পাকিস্তান। বিশ্বকাপ ২০২৩-এও পাকিস্তান হুমকি দিয়েছিল ভারতে না আসার। এমনকি আহমেদাবাদে ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচ খেলতে অস্বীকারের কথাও বলা হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সব ম্যাচেই অংশ নেয় পাকিস্তান। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সময় করাচি স্টেডিয়ামে ভারতের পতাকা না লাগানো নিয়েও আন্তর্জাতিক সমালোচনার মুখে পড়ে পিসিবি। পরে বাধ্য হয়ে সিদ্ধান্ত সংশোধন করতে হয়।
ভারতের বিরুদ্ধে না খেললে সবচেয়ে বড় ক্ষতি পাকিস্তানেরই

যে কারণেই, আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সেই বাস্তবতা বদলাবে না বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। আইসিসির চাপ, স্পনসরদের স্বার্থ এবং ক্রীড়াগত বাধ্যবাধকতা—সব মিলিয়ে শেষ পর্যন্ত মাঠেই নামতে হতে পারে পাকিস্তানকে। অশ্বিন মন্তব্য করে বলেছেন, “পাকিস্তান যদি আসন্ন বিশ্বকাপে ভারতের মুখোমুখি না হয়, তাহলে সেটা সবথেকে বেশি পাকিস্তানক ও পিসিবির ক্ষতি। এই ম্যাচ বাদ গেলে আর্থিক ক্ষতির বোঝা পিসিবির ঘাড়েই পড়বে। আইসিসির সঙ্গে সম্পর্কও প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে।” এবার দেখার বিষয় প্রতি বারের মতন এবার পাকিস্তান পাল্টি মারে কিনা।