টি-২০ বিশ্বকাপ ২০২৬- (T20 World Cup 2026) কে ঘিরে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড যে নাটক শুরু করেছে, তা এখন ক্রিকেট দুনিয়ার অন্যতম আলোচ্য বিষয়। বিশ্বকাপের মঞ্চ থেকে বাংলাদেশের ছাঁটাইয়ের পর যেন পাকিস্তান একের পর এক নাটকীয় মুহূর্ত তৈরি করেছে। তবে, বিশ্বকাপ না খেলা বা বয়কটের হুমকি দিয়ে উত্তাল করলেও, বাস্তবে পাকিস্তান সেই পথে হাঁটতে সাহস পাচ্ছে না – তার ইঙ্গিত মিলছে স্পষ্টভাবেই। সূত্রের দাবি অনুযায়ী, পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড নাকি ইতিমধ্যেই কলম্বোর বিমানের টিকিট বুক করে ফেলেছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ঘরের মাঠে সিরিজ খেলার পর পাক দল কলম্বো যাবে। শুধু তাই নয়, একই সফরে অস্ট্রেলিয়া দলও সেখানে পৌঁছবে বলে জানা গিয়েছে।
কলম্বোর টিকিটেই ফাঁস পাকিস্তানের আসল পরিকল্পনা

আগামী ২ ফেব্রুয়ারি কলম্বো পৌঁছনোর কথা সলমন আলি আঘা, শাহিন আফ্রিদিদের। এই তথ্য সামনে আসতেই প্রশ্ন উঠছে – যদি সত্যিই বিশ্বকাপ বয়কট করার ইচ্ছা থাকে, তবে আগেভাগেই কেন এই প্রস্তুতি? কারণ হিসেবে উঠে আসছে আর্থিক বাস্তবতা। আইসিসি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, বিশ্বকাপে অংশ না নিলে বার্ষিক চুক্তির টাকা পাবে না কোনো দল। বাংলাদেশ যেমন বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়িয়েছে তেমন তাদের ভাগের টাকা কাটা যাবে। অন্যদিকে, পাকিস্তানের কথা বলতে গেলে তাদের প্রায় ৩১৬ কোটি টাকার ক্ষতি হবে যদি তারা বিশ্বকাপের মঞ্চে অংশ না নেয়। এই অর্থ ছাড়া পাকিস্তান ক্রিকেট কার্যত দেউলিয়া হয়ে পড়বে – এ কথা বোর্ডের কর্তারা ভালো করেই জানেন। এই ইস্যুতে পাক প্রধানমন্ত্রী ও বোর্ড প্রধান মহসিন নকভির মধ্যে আলোচনাও হয়েছে। পিসিবির দাবি, শুক্রবার অথবা সোমবার তারা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবে।
Read More: “ধোনির জন্য খেলা ছেড়েছি..”, নিজের অবসর নিয়ে যুবরাজ সিং এবার বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন !!
সূচি অনুযায়ী, ৭ ফেব্রুয়ারি নেদারল্যান্ডসের বিরুদ্ধে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে সালমান- শাহীনরা। এরপর ১০ ফেব্রুয়ারি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ম্যাচ। এই দুই ম্যাচ জিতে যদি পাকিস্তান সুপার এইটে ওঠা নিশ্চিত করে, তখনই নাকি ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্ত নিতে পারে তারা। ১৫ ফেব্রুয়ারি ভারত-পাকিস্তান হাইভোল্টেজ ম্যাচ হওয়ার কথা। জানা গিয়েছে, প্রেসিডেন্ট আসিফ জারদারি, সামরিক বাহিনী এবং পিসিবির প্রাক্তন চেয়ারম্যান নাজম শেঠি ও রামিজ রাজা নকভিকে স্পষ্টভাবে পরামর্শ দিয়েছেন – বিশ্বকাপে অংশ নিতেই হবে, এমনকি ভারত ম্যাচও বয়কট করা উচিত নয়।