ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ (IND vs PAK) মানেই আবেগ। তবে এখন এই ম্যাচে রাজনীতিও বিরাজমান। এই মেগা ম্যাচ নিয়েই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে বড় বিতর্কে জড়িয়ে পড়েছিল পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (PCB)। আসলে, ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন টিম ইন্ডিয়ার বিরুদ্ধে ম্যাচ খেলতে অস্বীকার জানিয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড বয়কটের ডাক দিতেই নড়েচড়ে বসেছিল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল। পিসিবিকে সিদ্ধান্ত বদলাতে বললেও নিজেদের সিদ্ধান্তে অনড় পিসিবি। তবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (ICC) কড়া অবস্থানের মুখে শেষ পর্যন্ত পিছু হটতে বাধ্য হল পিসিবি।
আইসিসির কড়া বার্তায় পিছু হটল পিসিবি

এর আগে আইসিসিকে পাঠানো চিঠিতে পিসিবি জানিয়েছিল, ‘অস্বাভাবিক ও ব্যতিক্রমী পরিস্থিতির’ কারণে তারা ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচ খেলতে চায় না। পাকিস্তান সরকারের একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টের উদ্ধৃতিও সেই চিঠিতে যুক্ত ছিল। কিন্তু আইসিসি এই যুক্তিতে সন্তুষ্ট হয়নি। কিন্তু আইসিসি বিষয়টিকে সহজভাবে নেয়নি। তারা পাল্টা চিঠিতে জানতে চায়, এই ব্যতিক্রমী পরিস্থিতি আসলে কী এবং তা কীভাবে একটি আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টের সূচি বদলানোর কারণ হতে পারে।
একইসঙ্গে আইসিসি স্পষ্ট করে দেয়, ম্যাচ বয়কট করলে তা আইনি জটিলতা ও শাস্তির দিকে নিয়ে যেতে পারে। এই সতর্কবার্তাই পরিস্থিতির মোড় ঘুরিয়ে দেয়। প্রকৃতপক্ষে আইসিসিকে দমিয়ে রাখতে চেয়েছিল পাকিস্তান। আইসিসি ইভেন্টে সবথেকে বেশি লাভ দেয় ভারত বনাম পাকিস্তান (IND vs PAK) ম্যাচ। তবে পাকিস্তান ম্যাচটি বয়কট করতেই মাথায় হাত পরে যায় আইসিসির। তবে, আইসিসির মাথায় যে জয় শাহ (Jay Shah) বসে রয়েছেন তা হয়তো ভুলে গেছে পিসিবি। শেষ পর্যন্ত আইসিসির সঙ্গে বৈঠকে রাজি হয়েছে পিসিবি।
ICC’র সঙ্গে আলোচনার পথে PCB

পিসিবি জানিয়েছে, তারা ১৫ ফেব্রুয়ারি ভারতের বিরুদ্ধে নির্ধারিত গ্রুপ ম্যাচে অংশ নেবে। বোর্ডের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সরকারি নির্দেশ অনুসারেই তারা এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে। তবে আইসিসি এখানেই সন্তুষ্ট নয়। তারা পিসিবির কাছে লিখিত ব্যাখ্যা চেয়েছে, কোন পরিস্থিতিতে ম্যাচ না খেলার চিন্তা করা হয়েছিল এবং পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আইসিসির মূল লক্ষ্য একটাই – বিশ্বব্যাপী টুর্নামেন্টের বিশ্বাসযোগ্যতা ও মর্যাদা বজায় রাখা। সংস্থার মতে, ভারত–পাকিস্তান ম্যাচ শুধুমাত্র দুই দেশের বিষয় নয়; এটি কোটি কোটি ক্রিকেটপ্রেমীর আবেগের সঙ্গে জড়িত।
এই পুরো ঘটনায় আইসিসির কৌশল লক্ষণীয়- সংঘাত নয়, বরং আলোচনার মাধ্যমে সমাধান। অতীতেও বাংলাদেশসহ একাধিক বোর্ডের সঙ্গে একই পদ্ধতিতে বিরোধ মেটানো হয়েছে। বর্তমানে আইসিসি ও পিসিবির মধ্যে কাঠামোগত আলোচনা চলছে। এই আলোচনা শুধু ভারত–পাকিস্তান ম্যাচের ভবিষ্যৎই নয়, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে রাজনৈতিক চাপ মোকাবিলার রূপরেখাও নির্ধারণ করতে পারে।