স্লেজিং থেকে সংঘর্ষ! রঞ্জি ট্রফির ফাইনালে ধাক্কাধাক্কিতে হিমশিম আম্পায়াররা 1

রঞ্জি ট্রফির ফাইনালের প্রথম দিন শান্তিপূর্ণভাবে কাটলেও দ্বিতীয় দিনে হুবলির মাঠে আচমকা উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। জম্মু ও কাশ্মীরের অধিনায়ক পারস ডোগরা মাঠের মধ্যেই কর্নাটকের এক ক্রিকেটারের সঙ্গে বিবাদে জড়িয়ে পড়েন এবং পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খেতে হয় আম্পায়ারদের। ঘটনাটি দ্রুতই ম্যাচের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে, কারণ শুধু কথার লড়াই নয়, শারীরিক ধাক্কার ঘটনাও সামনে আসে। জম্মু ও কাশ্মীরের ইনিংসের ১০১তম ওভারে এই ঘটনা ঘটে।

মাঠে মেজাজ হারালেন জম্মু-কাশ্মীরের অধিনায়ক

রঞ্জি ট্রফি
J&K vs KAR | Image: Twitter

সেই সময় পারস তাঁর সতীর্থ কানহাইয়া ওয়াধাওয়ান-এর সঙ্গে ব্যাট করছিলেন এবং বল করছিলেন কর্নাটকের পেসার প্রসিদ্ধ কৃষ্ণ। একটি বল খেলার পর হঠাৎই দেখা যায়, ফরোয়ার্ড শর্ট লেগে ফিল্ডিং করা কর্নাটকের বদলি ক্রিকেটার কেভি অনীশ-এর দিকে তেড়ে যাচ্ছেন পারস। দু’জনের মধ্যে কিছু কথা কাটাকাটি হয় এবং তারপরই পারস মাথা দিয়ে ধাক্কা দেন অনীশকে। যদিও দু’জনেরই হেলমেট পরা থাকায় বড় চোট লাগেনি। পরে জানা যায়, অনীশের লাগাতার স্লেজিংয়ের কারণেই মেজাজ হারান জম্মু ও কাশ্মীর অধিনায়ক।

এই ঘটনায় কর্নাটকের সিনিয়র ক্রিকেটাররা দ্রুত এগিয়ে আসেন। প্রথমে সেখানে পৌঁছান মায়াঙ্ক আগরওয়াল, যিনি পারসকে প্রশ্ন করেন কেন এমন আচরণ করা হল। পরে সেখানে যোগ দেন লোকেশ রাহুল এবং তিনিও আলোচনায় জড়িয়ে পড়েন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠতেই আম্পায়াররা হস্তক্ষেপ করেন এবং দুই দলের ক্রিকেটারদের শান্ত করার চেষ্টা করেন। কিছুক্ষণ পরে পারস হাত তুলে অনীশের কাছে ক্ষমা চাইতে দেখা গেলেও অনীশ তা সহজে মেনে নেননি এবং নিজের অসন্তোষ স্পষ্টভাবে প্রকাশ করেন। এমন আচরণের জন্য পারসকে ম্যাচ ফির ৫০% জরিমানা ঘোষণা করেছে বিসিসিআই।

Read More: সেমিফাইনালে এন্ট্রি নিচ্ছে পাকিস্তান, ভারতের সাথে হবে বদলার লড়াই !!

রঞ্জি ট্রফির ফাইনালে চালকের আসনে জম্মু ও কাশ্মীর

এরপর কর্নাটকের অধিনায়ক দেবদত্ত পড়িক্কল-এর সঙ্গেও আম্পায়ারদের কথা বলতে দেখা যায়। ঘটনাটির পর কিছু সময় মাঠে উত্তেজনা বজায় থাকলেও খেলার গতি আবার স্বাভাবিক হয়। জম্মু ও কাশ্মীর দলের ডাগআউটে বসে প্রধান কোচ অনিল শর্মা-কেও বিরক্ত হতে দেখা যায়; তিনি খেলোয়াড়দের মনোযোগ খেলায় ফেরানোর ইঙ্গিত দেন। মাঠের উত্তেজনা সত্ত্বেও জম্মু ও কাশ্মীরের ব্যাটিংয়ে তার প্রভাব পড়েনি। দ্বিতীয় দিন শেষে দলটির স্কোর দাঁড়ায় ৬ উইকেটে ৫২৭ রান। শুভম পুন্ডির-এর সেঞ্চুরির পাশাপাশি উল্লেখযোগ্য অবদান রাখেন ইয়াওয়ার হাসান, আব্দুল সামাদ এবং ওয়াধাওয়ান। অধিনায়ক পারস নিজেও গুরুত্বপূর্ণ রান করেন। কর্নাটকের বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে সফল ছিলেন প্রসিদ্ধ কৃষ্ণ, যিনি তিনটি উইকেট নেন।

Read Also: ইডেনেই বিদায় ঘন্টা গৌতম গম্ভীরের, বিশ্বকাপের পরাজয়ের দায় নিয়ে করবেন পদত্যাগ !!

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *