২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ নিয়ে একেরপর এক সমালোচনার ঢেউ উঠে আসছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (PCB) পক্ষ থেকে। মাঠের বাইরে এবার পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (PCB) ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (ICC) মধ্যে সম্পর্ক চরম উত্তেজনার দিকে এগোচ্ছে। সেই উত্তেজনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে পাকিস্তানি ইউটিউবার আরসলান নাসিরের বিতর্কিত ভিডিও বার্তা। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে তিনি আইসিসি ও বিসিসিআইয়ের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক মন্তব্য করেন। তিনি আইসিসিকে নিয়ে বড় ঘোষণা করে খবরের শিরোনামে উঠে এসেছেন।
ভিডিওটির বিবরণে একে ‘হাস্যরসাত্মক ক্রিকেট বিশ্লেষণ’ বলেও দাবি করেছেন। আরসলান দাবি করেন, দুবাইয়ে থাকার কারণেই আইসিসির সদর দপ্তর এখনও নিরাপদ রয়েছে। এই মন্তব্যকে আবার অনেকেই সরাসরি হুমকির ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন। আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি শ্রীলঙ্কার কলম্বোতে ভারতের বিরুদ্ধে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ম্যাচ বয়কট করার ঘোষণা দিয়েছে পাকিস্তান। এই সিদ্ধান্ত আইসিসিকে চরম অস্বস্তিতে ফেলেছে। পাকিস্তান সরকার ভারতের বিরুদ্ধে এদিন মাঠে নামবে না বলে জানিয়েছে। এমনকি, সম্প্রতি পাক প্রধানমন্ত্রীও স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে কোনো মতেই এবার ভারতের মুখোমুখি হবে না পাকিস্তান।
Read More: WPL 2026: নাচ–গান–গ্ল্যামারে মোড়া WPL ফাইনাল, সমাপ্তি অনুষ্ঠানে থাকছে মালাইকা–তলবিন্দরের জাদু !!
ইউটিউবারের বিতর্কিত মন্তব্যে অস্বস্তিতে ICC

অন্যদিকে, আইসিসির বেশ কয়েকটি সূত্র মারফত খবর, নির্ধারিত ম্যাচ বয়কট করলে বড় অঙ্কের জরিমানা এবং অন্যান্য শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হবে। জরিমানার পরিমাণ ৩৫ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত হতে পারে। পাশাপাশি পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের আগামী দিনে বড় ইভেন্টে অংশগ্রহন নিয়ে বড় প্রশ্নের মুখে পড়তে হতে পারে। পাকিস্তান এমনিতেই বিগত কয়েক বার ভারতের মুখোমুখিতে নাস্তানাবুদ হয়েছে। এশিয়া কাপে তিন ম্যাচে একতরফা ভাবে জয় ছিনিয়ে নিয়েছিল টিম ইন্ডিয়া। অন্যদিকে, আরসলানের ভিডিও সামনে আসে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আরসলান বলেন, “আইসিসি অফিস নিরাপদ কারণ এটি দুবাইতে। যদি এই অফিস ভারতে থাকত, তাহলে আমাদের লোকেরা এতক্ষণে এটি এবং আশেপাশের এলাকায় বোমা মেরে ফেলত।” ভিডিওতে তিনি আইসিসি চেয়ারম্যান জয় শাহ, ভারতীয় টি-টোয়েন্টি দলের অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব এবং বিসিসিআইয়ের ভূমিকা নিয়ে তীব্র কটাক্ষ করেন। এমনকি ২০২৫ সালের এশিয়া কাপের করমর্দন বিতর্কের প্রসঙ্গ টেনে এনে পুরনো রাজনৈতিক উত্তেজনাকেও সামনে আনেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের মন্তব্য পাকিস্তান ক্রিকেটের ভাবমূর্তিকে আরও ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।