আজ থেকে যাত্রা শুরু হল ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের (T20 WC 2026)। একাধিক বিতর্ক, রাজনৈতিক টানাপোড়েনকে পিছনে প্রথম ম্যাচেই মাঠে নেমেছিল পাকিস্তান। বাবর আজমদের (Babar Azam) প্রতিপক্ষ ছিল নেদারল্যান্ডস (Pakistan vs Netherlands Match)। কলম্বোর মাটিতে প্রথম থেকেই ক্রিকেটের উত্তাপ চড়তে শুরু করে। ম্যাচে টসে জিতে প্রথমে বোলিং করার সিদ্ধান্ত নেয় পাক বাহিনী।
সালমান মির্জা (Salman Mirza), মহম্মদ নাওয়াজদের (Mohammad Nawaz) বোলিং আক্রমণের সামনে নেদারল্যান্ডস ১৫০ রানের কাছেও পৌঁছাতে পারেনি। এই রান তাড়া করতে নেমে সালমান আলি আগারাও (Salman Ali Agha) ব্যাটিং বিপর্যয়ের মুখে পড়ে যায়। তবে শেষ পর্যন্ত তারা জয় ছিনিয়ে নিয়ে যাত্রা শুরু করল।
Read More: “বোমা দিয়ে উড়িয়ে…” টি-20 বিশ্বকাপ বিতর্কে ‘সন্ত্রাসী’ যোগ, ICC-BCCI’এর বিরুদ্ধে পাকিস্তানি ইউটিউবারের সরাসরি হুমকি !!
নেদারল্যান্ডের কঠিন লড়াই-

আজ ডাচদের হয়ে প্রথম ইনিংসে ওপেনিং করতে আসেন মাইকেল লেভিট (Michael Levitt) ও ম্যাক্স ও’ডাউড (Max ODowd)। কিন্তু তারা দুজনে মিলে স্কোরবোর্ড বেশি দূর এগিয়ে নিয়ে যেতে পারেননি। ম্যাক্স ৭ বলে ৫ রান করে আউট হয়ে মাঠ ছাড়েন। মিচেল আউট হন ১৫ বলে ২৪ রান করে। মহম্মদ নাওয়াজ আজ টপ অর্ডারে রীতিমতো ফাটল ধরান। তবে পাক বাহিনীদের বোলিং আক্রমণের সামনে লড়াই করার চেষ্টা করেন অভিজ্ঞ বাস ডি লিড (Bas de Leede) ও কলিন অ্যাকারম্যান (Colin Ackemenn)। বাস ডি লিড ২৫ বলে ৩০ রান করেন। অ্যাকারম্যানের ব্যাট থেকে আসে ১৪ বলে ২০ রান।
দুজনেই হাঁকান ৪ টি চার। এরপর অধিনায়ক এসে হাল ধরার চেষ্টা করেন। স্কট এডওয়ার্ডস (Scott Edwards) কঠিন পিচে ধৈর্যের সঙ্গে দাঁড়িয়ে থেকে ২৯ বলে করেন ৩৭ রান। এই রানের ওপর ভর করে ১৯.৫ ওভারে ১০ উইকেট হারিয়ে ১৪৭ রান তুলে নেয় নেদারল্যান্ডস। সালমান মির্জা ৩.৫ ওভারে ২৪ রান দিয়ে ৩ টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট সংগ্রহ করেন। এছাড়াও মহম্মদ নাওয়াজ, আবরার আহমেদ (Abrar Ahmed) এবং সাইম আয়ুব (Saim Ayub) পেয়েছেন ২ টি উইকেট। ১ টি উইকেট সংগ্রহ করতে সক্ষম হন শাহীন আফ্রিদি (Shaheen Afridi)।
পাকিস্তানের রুদ্ধশ্বাস জয়-

দ্বিতীয় ইনিংসে রান তাড়া করতে নেমে পাকিস্তানের দুই ওপেনার সাহেবজাদা ফারহান (Sahibzada Farhan) এবং সাইম আয়ুব (Saim Ayub) দুরন্ত শুরু করেন। সাইম ১৩ বলে ২৪ রানে আউট হয়ে গেলেও ফারহান ৩১ বলে ৪৭ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেন। তবে এরপর একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ উইকেট হারিয়ে চাপের মুখে পড়ে যায় পাকিস্তান। অধিনায়ক সালমান আলি আগা ৮ বলে মাত্র ১২ রান করে মাঠ ছাড়েন। এইরকম পরিস্থিতিতে বাবর আজমের (Babar Azam) দিকে তাকিয়ে ছিল দল। এই তারকা ১৮ বলে মাত্র ১৫ রান করে হতাশ করেন আজও। ব্যাট থেকে আসে মাত্র ১ টি চার। উসমান খান (Usman Khan) খাতাই খুলতে পারেননি।
ফলে এক সময় চাপের মুখে পড়ে গিয়েছিল পাক বাহিনী। এইরকম সময় ৮ নম্বরে ব্যাট করতে নেমে হাল ধরেন ফাহিম আশরাফ (Fahim Ashraf)। দলকে কার্যত তিনি খাদের কিনারা থেকে তুলে নিয়ে আসেন। শেষ ওভারে দলের জয়ের জন্য বাকি ছিল ৫ রান। এই ওভারের তৃতীয় বলে দুরন্ত বাউন্ডারি হাঁকিয়ে ৩ উইকেটে দলকে জয় এনে দেন। ১১ বলে অপরাজিত ২৯ রান করেন এই তারকা। ৩ টি ছয় এবং ২ টি চার মারেন। এছাড়াও শাহীন আফ্রিদি ৯ বলে ৫ রানে অপরাজিত থাকেন। নেদারল্যান্ডের হয়ে ২ টি করে উইকেট পেয়েছেন আরিয়ান দত্ত (Aryan Dutt) ও পল ভ্যান মিকেরেন (Paul Van Meekeren)।