টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের (T20 WC 2026) আগে একাধিক ঘটনা বিশ্ব ক্রিকেটে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে যা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়াতেও চলছে চর্চা। প্রথমে বাংলাদেশ ভারতের বদলে নিরপেক্ষ ভেন্যুতে তাদের ম্যাচগুলো সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য আবেদন করেছিল। কিন্তু আইসিসি (ICC) এই আবেদনের সাড়া দেয়নি। এরপর পাকিস্তান আসন্ন বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কট করবে বলে প্রস্তুতি শুরু করেছে। এই ম্যাচ অনুষ্ঠিত না হলে বিপুল ক্ষতির মুখে পড়বে বিশ্ব ক্রিকেট নিয়ন্ত্রক সংস্থা। এই ক্ষতি পিসিবিকে দিতে হতে পারে। ম্যাচ না খেলার ক্ষতিপূরণ দিতে গিয়ে ভিখারি হয়ে যাবে এই ক্রিকেট বোর্ড।
Read Also: “আসল জায়গায় সমস্যা..”, বিশ্বকাপের আগে সৌরভ গাঙ্গুলী করলেন সূর্যকুমারদের সতর্ক !!
পাকিস্তানের বিতর্কিত সিদ্ধান্ত-

মুস্তাফিজুর রহমানকে (Mustafizur Rahman) আইপিএল (IPL 2026) থেকে বাদ দেওয়ার পর অপমানিত বোধ করে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (BCB)। তারা সিদ্ধান্ত নেয় যে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য টাইগার বাহিনীদের ভারতে পাঠাবে না। নিরাপত্তার অভাব রয়েছে বলে আইসিসির কাছে চিঠি লিখে নিরপেক্ষ ভেন্যুর জন্য আবেদন পর্যন্ত করে। কিন্তু তা সম্ভব নয় বলে বিশ্ব ক্রিকেট নিয়ন্ত্রক সমস্ত জানিয়ে দেন। নিজেদের অবস্থানে বিসিবি দাঁড়িয়ে থাকায় শেষ পর্যন্ত তাদের টুর্নামেন্ট থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
তার আগে আইসিসি (ICC) একটি ভোটাভুটি আয়োজন করেছিল। সেই ভোটে একমাত্র বাংলাদেশকে পাকিস্তান সমর্থন করে। টাইগার বাহিনী বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়ার পর মহসিন নকভিরাও (Mohsin Naqvi) এবার বিতর্কিত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। দেশের সরকারের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে ভারতের সঙ্গে ম্যাচে খেলবে না সালমান আলী আগারা (Salman Ali Agha)।
বিপুল ক্ষতির মুখে পিসিবি-

ভারত এবং পাকিস্তানের মধ্যে দীর্ঘদিন রাজনৈতিক উত্তেজনা থাকায় তারা দ্বিপাক্ষিক সিরিজে অংশগ্রহণ করে না। শুধুমাত্র বিভিন্ন টুর্নামেন্টগুলিতে অংশগ্রহণ করতে দেখা যায়। রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রিকেট মাঠেও প্রভাব ফেলে। ফলে টিকিটের চাহিদা থাকে আকাশ ছোঁয়া। বিজ্ঞাপনের জন্যেও বিভিন্ন ব্র্যান্ড কোটি-কোটি টাকা দিতেও পিছু পা হয় না। ফলে ভারত-পাক মহাযুদ্ধ না হলে আইসিসিকে বিপুল ক্ষতির মধ্যে পড়তে হবে। এই ক্ষতি পরিমাণ পিসিবিকেই দিতে হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশ্বকাপ না খেললে পাকিস্তানকে জরিমানা সহ বার্ষিক রাজস্বের লভ্যাংশ দেওয়া বন্ধ করে দিতে পারে বিশ্ব ক্রিকেট নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
ভারত এবং পাকিস্তানের ম্যাচ সর্বোচ্চ দর্শক সংখ্যা আকর্ষণ করতে পারে সেই কারণে এই ম্যাচের বিজ্ঞাপনের মূল্য অত্যন্ত বেশি। শুধু মাত্র বিজ্ঞাপনের থেকেই সম্প্রচারকারী সংস্থা ২৫০ কোটি টাকা ক্ষতির মুখে পড়তে পারে। ম্যাচের মাত্র ১০ সেকেন্ডের দাম ৪০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত পৌঁছে যায়। টিভি সহ সামগ্রিক সম্প্রচার এবং স্পন্সরশিপ ক্ষতির পরিমাণ মিলিয়ে মোট ৪০০ কোটি টাকার ক্ষতি হতে পারে বলেও করছেন বিশেষজ্ঞরা। এছাড়াও রয়েছে টিকিট বিক্রির অর্থ।
ফলে এক হাজার কোটি টাকার ওপর ক্ষতির সমস্ত অর্থ পিসিবিকে জরিমানা হিসেবে দিতে হবে বলে খবর সামনে এসেছে। এর সঙ্গে আইসিসি থেকে প্রাপ্ত অর্থ পাওয়া বন্ধ হয়ে যেতে পারে এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তাদের ভাবমূর্তি অনেকটাই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এই কারণে পাকিস্তান ক্রিকেটের সঙ্গে স্পন্সরশিপে যুক্ত থাকবে না জনপ্রিয় ব্র্যান্ডগুলি। ফলে সব মিলিয়ে পিসিবির ক্ষতির পরিমাণ পৌঁছে যেতে পারে ৪৫০০ কোটি টাকা।