টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মঞ্চে যিনি দেশের নায়ক হয়েছিলেন, সেই সঞ্জু স্যামসন (Sanju Samson) আইপিএল শুরু হতেই যেন হারিয়ে ফেলেছিলেন নিজের ছন্দ। একের পর এক ব্যর্থতা, সমালোচনার ঝড়, দলের পরাজয় – সব মিলিয়ে কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি। কিন্তু বড় খেলোয়াড়দের বৈশিষ্ট্যই হল, তারা চাপে ভেঙে পড়েন না, বরং সেখান থেকেই নিজেদের নতুনভাবে প্রমাণ করেন। এই পরিস্থিতিতে দিল্লির বিরুদ্ধে ম্যাচটি ছিল তাঁর কাছে নিজেকে প্রমাণ করার সেরা সুযোগ। আর সেই সুযোগ তিনি দুই হাতে লুফে নেন। শুরু থেকেই আত্মবিশ্বাসী ব্যাটিং করেন সঞ্জু।
পাওয়ারপ্লে থেকে ডেথ ওভার, সব জায়গাতেই তিনি নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখেন। তাঁর ইনিংসে ছিল বড় শট, স্মার্ট রানিং এবং ম্যাচ পরিস্থিতি বোঝার ক্ষমতা। সেঞ্চুরি পূর্ণ করার পর তাঁর উদযাপনেই বোঝা যায়, এই ইনিংস কতটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল তাঁর কাছে। ২ উইকেটে ২১২ রান তুলে বিশাল স্কোর দাঁড় করায় চেন্নাই। জবাবে দিল্লি শুরুটা ভালো করলেও মাঝের ওভারগুলোতে ছন্দ হারায়। নিয়মিত উইকেট পড়তে থাকায় তারা আর ম্যাচে ফিরতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত ১৮৯ রানে অলআউট হয়ে যায়। এই ম্যাচে আরেকটি আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে আম্পায়ারিং সিদ্ধান্ত।
Read More: IPL 2026: সঞ্জুর ঝড় শেষে ওভারটন-কম্বোজের দুরন্ত বোলিংয়ে নাস্তানাবুদ দিল্লি, মৌসুমের প্রথম জয় CSK’র !!
স্টাবসকে নিয়ে শুরু বড় বিতর্ক

১৯তম ওভারে ট্রিস্টান স্টাবস গ্লাভস পরিবর্তনের অনুরোধ জানান। কিন্তু আম্পায়ার সেই আবেদন খারিজ করে দেন। এমনকি সেই সময়ে একটি ওয়াইড বল নিয়ে রিভিউ নিয়েছিল চেন্নাই সুপার কিংস। সেই সময়েই গ্লাভস পরিবর্তনের অনুমতি মেলেনি। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেন নিতীশ রানা সহ দিল্লির একাধিক ক্রিকেটাররা। এরপরই ঘটে নাটকীয় মুহূর্ত। জেমি ওভারটনের বলে বড় শট খেলতে গিয়ে আউট হন স্টাবস। লাফিয়ে ক্যাচ লুপে নেন নূর আহমেদ। আউট হওয়ার পর ড্রেসিং রুমে ঢুকে ব্যাট ও গ্লাভস ছুঁড়ে ফেলেন। স্পষ্টভাবে তাঁর হতাশা দেখা যাচ্ছিল। এই বিতর্ক ম্যাচের একটি বড় আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে। অনেকেই প্রশ্ন তোলেন আম্পায়ারিং সিদ্ধান্ত নিয়ে।
অন্যদিকে চতুর্থ আম্পায়ারের সাথে কথাকাটাকাটিতে জড়িয়ে পড়েন নীতিশ রানা। আইপিএলের (IPL 2026) এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, নীতীশ রানার ম্যাচ ফির ২৫ শতাংশ জরিমানা করা হয়েছে। পাশাপাশি, খেলোয়াড়দের আচরণবিধির লেভেল ১ ভঙ্গ করার জন্য তাকে ১টি ডিমেরিট পয়েন্টও দেওয়া হয়েছে। নীতীশ রানাকে আইপিএলের আচরণবিধির আর্টিকেল ২.৩ ভঙ্গ করার জন্য দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। এই নিয়মে বলা হয়েছে – খেলা চলাকালীন ব্যাবহার করা ভাষা সাধারণত আপত্তিকর, অশালীন বা অভদ্র হিসেবে গণ্য হয় এবং যা দর্শক বা জনসাধারণ – স্টাম্প মাইক্রোফোন বা অন্য কোনো মাধ্যমে শুনতে পারে।