গতকাল জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে চেন্নাইয়ে টিম ইন্ডিয়ার ব্যাটিং ছিল নিখুঁত আক্রমণের উদাহরণ। ওপেনিং থেকে ডেথ ওভার প্রতিটি ধাপে পরিকল্পনা সফল। এই বিশ্বকাপে সর্বাধিক রান ছুঁয়ে ফেললো টিম ইন্ডিয়া। গতকাল টস হেরে প্রথমে ব্যাটিং করতে এসে, শুরুটা আগ্রাসী ভাবেই করেন সঞ্জু স্যামসন ও অভিষেক শর্মা। ডানহাতি-বাঁহাতি জুটির সুবিধা কাজে লাগিয়ে দ্রুত রান তোলেন তাঁরা। সঞ্জু ১৫ বলে ২৪ রান করে বিদায় নিলেও দলের গতি ধরে রাখেন অভিষেক। ঈশান ও সূর্যের ছোট কিন্তু কার্যকর ইনিংস ম্যাচের গতি বাড়িয়ে দেয়। শেষের পাঁচ ওভারে যা ঘটেছে তা কার্যত বিস্ফোরণ।
৭২ রানে গুরুত্বপূর্ণ জয় ছিনিয়ে নিলো টিম ইন্ডিয়া

হার্দিক পান্ডিয়ার সাথে গতকাল ফিনিশারের ভূমিকা পালন করেন তিলক ভার্মা (Tilak Varma) জুটি জিম্বাবোয়ের বোলারদের মাঠের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে পাঠিয়েছেন খুবই সহজেই। হার্দিকের ২৩ বলে অর্ধশতরান এবং তিলকের ১৬ বলে ৪৪ রানের ফিনিশিং জুটিই ২৫৬ রানের পাহাড় গড়ে। সূর্যকুমারের নেতৃত্বে ব্যাটিং পরিকল্পনা সফল হলেও বোলিংয়ে কিছু সিদ্ধান্ত বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। ভারতের বানানো এই স্কোর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের নতুন মাইলফলক। ২০০৭ সালে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ২১৮ রানের ম্যাচে যুবরাজের ছয় ছক্কার স্মৃতি এখনও উজ্জ্বল। প্রায় ১৯ বছর পর ভারতের নতুন সর্বোচ্চ স্কোর।
Read More: স্লেজিং থেকে সংঘর্ষ! রঞ্জি ট্রফির ফাইনালে ধাক্কাধাক্কিতে হিমশিম আম্পায়াররা
অন্ধের মতন ব্যাট চালায় টিম ইন্ডিয়ার ব্যাটসম্যানরা

২৫৭ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে জিম্বাবোয়ে শুরুতেই পিছিয়ে পড়ে। দলের হয়ে ব্রায়ান বেনেট একা লড়াই চালিয়ে যান। ৩৪ বলে অর্ধশতরান করে শেষ পর্যন্ত ৯৭ রানে অপরাজিত থাকেন। তাঁর ইনিংস প্রশংসনীয় হলেও দলকে জয়ের পথে নিয়ে যেতে পারেননি। ৬ উইকেটে ১৮৪ রানে থামে জিম্বাবুয়ের ব্যাটিং। তবে এই ম্যাচের পর প্রশ্ন উঠতে শুরু হয়েছে পিচ নিয়ে। সাধারণত এই বিশ্বকাপে বেশিরভাগ ধীর গতির পিচে খেলা হয়েছে, ধীর গতির উইকেটে ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের বেশ চাপের মুখে দেখা গিয়েছে। এবার পাক সাবেক খেলোয়াড় মোহম্মদ ইউসুফের একটি বয়ান। ইউসুফ বলেছেন যে ভারতীয় ব্যাটসম্যানরা চোখ বন্ধ করে ব্যাট চালায়। তিনি মন্তব্য করে আরও বলেছেন, “ভারতীয় ব্যাটসম্যানরা সবাই চোখ বন্ধ করে ব্যাটিং করেন। ওরা শুধু ব্যাট চালাতে পারে আর ব্যাটিং উইকেটে রান বানাতে পারে।” তবে সবকিছুর উর্ধে, ভারতকে এখনও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে তাদের শেষ ম্যাচটি খেলতে হবে। এই ম্যাচটি জিতলেই সেমিফাইনালে পৌঁছাবে টিম ইন্ডিয়া।