টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের ঐতিহাসিক জয়ের পর এখন ক্রিকেট মহলে আলোচনার নতুন বিষয় হলো ভবিষ্যতের নেতৃত্ব। বর্তমানে সূর্যকুমার যাদবের নেতৃত্বে ভারতীয় টি-২০ দল দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছে। তার নেতৃত্বে দল আগ্রাসী ক্রিকেট খেলছে এবং গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ধারাবাহিক সাফল্যও পাচ্ছে। তবে সূর্যকুমারের বয়স এখন ৩৫। ফলে ভবিষ্যতের কথা ভেবে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড এবং ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা ইতিমধ্যেই ভাবতে শুরু করেছেন পরবর্তী নেতৃত্ব নিয়ে।
আর সেই আলোচনায় উঠে এসেছে সঞ্জু স্যামসনের (Sanju Samson) নাম। ভারতের প্রাক্তন ক্রিকেটার মোহাম্মদ কাইফ (Mohammed Kaif) মনে করেন, সঞ্জু স্যামসন ভবিষ্যতে ভারতের টি-২০ দলের অধিনায়ক হওয়ার মতো যোগ্যতা রাখেন। কাইফ বলেন, একজন সফল অধিনায়ক হতে হলে শুধু মাঠের কৌশল জানলেই হয় না। একজন নেতার সবচেয়ে বড় গুণ হলো দলের খেলোয়াড়দের মানসিকতা বোঝা এবং কঠিন সময়ে তাদের পাশে দাঁড়ানো। এই গুণগুলো স্যামসনের মধ্যে রয়েছে বলেই মনে করেন তিনি।
Read More: ট্রফি জয়ের উদযাপনে জাতীয় পতাকার অবমাননা, FIR দায়ের হার্দিক পান্ডিয়ার বিরুদ্ধে !!
টিম ইন্ডিয়ার নতুন অধিনায়ক বেছে নিলেন মোহাম্মদ কাইফ

সম্প্রতি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মঞ্চে দুরন্ত পারফরম্যান্স করেছেন সঞ্জু স্যামসন। তাঁর এই অসাধারণ পারফরম্যান্সের জেরেই বেশ চর্চা শুরু হয়েছে সমাজ মাধ্যম জুড়ে। এই সময়ের মধ্যে মোহম্মদ কাইফের মন্তব্য সমাজ মাধ্যমে ঝড় তুলেছে। কাইফের মতে, তার শান্ত স্বভাব এবং চাপের মধ্যে ঠান্ডা মাথায় সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা তাকে আলাদা করে তুলে ধরে। সাম্প্রতিক টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও স্যামসন নিজের ব্যাট দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। টুর্নামেন্ট জুড়ে ধারাবাহিক রান করে তিনি দলের ভরসাযোগ্য ব্যাটার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
স্যামসন দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলছেন। যদিও ক্যারিয়ারের শুরুতে তাকে দল থেকে বাদ পড়া ও ফেরার মধ্যে থাকতে হয়েছে, কিন্তু সেই অভিজ্ঞতা তাকে আরও পরিণত করেছে। কাইফ আরও বলেন, স্যামসনের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো তার নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা। আইপিএলে রাজস্থান রয়্যালসের অধিনায়ক হিসেবে তিনি বেশ কয়েক বছর দায়িত্ব পালন করেছেন। তার নেতৃত্বেই ২০২২ সালে দল ফাইনালে উঠেছিল। বড় টুর্নামেন্টে দলকে পরিচালনা করার অভিজ্ঞতা থাকাও একজন অধিনায়কের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
ভারতের ভবিষ্যৎ টি–২০ অধিনায়ক হতে পারেন সঞ্জু স্যামসন

স্যামসনের ক্ষেত্রে সেই অভিজ্ঞতা রয়েছে। কাইফ বিশ্বাস করেন, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় অভিজ্ঞতা ইতিমধ্যেই অর্জন করেছেন এই উইকেটকিপার ব্যাটার। তবে কাইফ মনে করেন, এখনই নেতৃত্ব পরিবর্তনের প্রয়োজন নেই। সূর্যকুমার যাদব এখনও দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নেতা এবং তার অভিজ্ঞতা দলের জন্য মূল্যবান। তাই সূর্যকুমার যদি ফিটনেস এবং পারফরম্যান্স ধরে রাখতে পারেন, তাহলে আরও কয়েক বছর তিনি ভারতের টি-২০ দলের অধিনায়ক থাকতে পারেন। তবে ভবিষ্যতের কথা ভাবলে নতুন নেতৃত্ব তৈরি করা জরুরি। ভারতীয় দলের মতো বড় দলের ক্ষেত্রে উত্তরসূরি তৈরি রাখা সবসময় গুরুত্বপূর্ণ।
মোহম্মদ বলেছেন মন্তব্য করে বলেছেন, “এখনই ক্যাপ্টেন বদলানোর প্রয়োজন নেই। পরবর্তী অধিনায়ক কে হবেন তা এখনই বলা কঠিন, কিন্তু স্যামসনই হতে পারেন। অধিনায়কের কাজ বোলিং পরিবর্তন করা, নিখুঁত একাদশ খেলানো এবং খেলোয়াড়দের ফর্মহীন অবস্থায় ফিরিয়ে আনা। এবারের বিশ্বকাপে যেমন অভিষেক শর্মা এবং বরুণ চক্রবর্তীর ক্ষেত্রে হয়েছিল। একজন অধিনায়ক জানতেন যে এই জিনিসগুলি ঘটে। তারা নিজেরাই এর মধ্য দিয়ে গেছে। তারা এই ছোট ছোট জিনিসগুলি বোঝে, তাই আমি মনে করি সেটা স্যামসন ভালো করতে পারবে। তবে সূর্যকুমার যদি ভালো খেলে তাহলে ও ই ক্যাপ্টেন থাকবে।“