২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সুপার এইট পর্বে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে ৭৬ রানের বড় ব্যবধানে ভারতের পরাজয় ঘিরে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে এই ম্যাচে হারের পর বিশেষ করে দল পরিচালনা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেটার মোহাম্মদ কাইফ। তাঁর মন্তব্য ইতিমধ্যেই ক্রিকেট মহলে বড় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। ম্যাচের পরিসংখ্যান তুলে ধরে কাইফ দুই দলের মধ্যে পার্থক্য স্পষ্ট করেন। দক্ষিণ আফ্রিকা প্রথম ছয় ওভারে ৩ উইকেটে মাত্র ৪১ রান করেছিল। কিন্তু ৭ থেকে ১৬ ওভারের মধ্যে তারা মাত্র দুই উইকেট হারিয়ে ১১১ রান তোলে।
এই মধ্য ওভারের আগ্রাসী ব্যাটিংই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। অন্যদিকে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন ভারত রান তাড়া করতে নেমে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়। প্রায় ১৯ ওভার খেলেও দল মাত্র ১১১ রানে অলআউট হয়ে যায়। এই বড় পরাজয়ের ফলে ভারতের সেমিফাইনালে ওঠার পথ অনেকটাই কঠিন হয়ে গেছে। এখন বাকি দুটি ম্যাচে জিম্বাবোয়ে ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে শুধু জিতলেই হবে না, বড় ব্যবধানে জিততে হবে, যাতে নেট রান রেটের ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে নেওয়া যায়। অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দল তাই প্রবল চাপে রয়েছে।
গম্ভীর-সূর্যকুমার নেতৃত্ব নিয়ে কাইফের কড়া বার্তা

কাইফ সরাসরি বর্তমান টিম ম্যানেজমেন্টের সমালোচনা করে বলেন, অতীতের সাফল্যের সঙ্গে বর্তমান দলকে তুলনা করা ঠিক নয়। তিনি মনে করিয়ে দেন, ২০২৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতেছিল টিম ইন্ডিয়ার অধিনায়ক রোহিত শর্মা এবং কোচ রাহুল দ্রাবিড়-এর অধীনে। বর্তমান কোচ গৌতম গম্ভীর এবং অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদবের সেই সাফল্যে কোনও ভূমিকা ছিল না বলেই তিনি স্পষ্ট মন্তব্য করেন।
Read More: “মাথার স্ক্রু ঢিলে হয়ে গেছে..”, টিম ইন্ডিয়ার হারে গম্ভীরকে দায়ি করে বিস্ফোরক সুনীল গাভাস্কার !!
তিনি বলেন, “এটা বিশ্বকাপে আমাদের প্রথম হার, যখন এই রেকর্ডটি (অপরাজয়ের) প্রথম তৈরি হয়েছিল তখন অন্য ম্যানেজমেন্ট ছিল। সেখানে রাহুল দ্রাবিড় এবং রোহিত শর্মা ছিলেন। সূর্যকুমার যাদবের এই রেকর্ডে কোনো ভূমিকা নেই, যে রেকর্ডের কথা বলা হয়েছে সেটা অন্য কেউ তৈরি করেছে।” কাইফ আরও বলেন, বর্তমান টিম ম্যানেজমেন্টের কাজ ছিল সেই সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা, কিন্তু দল নির্বাচন ও সামঞ্জস্যতা বজায় রাখায় অনেক ভুল করেছে দল। কাইফের মতে অক্ষর প্যাটেলের মতন একজন ম্যাচ উইনার যিনি কিনা ভারতের ভাইস ক্যাপ্টেন তাকে কিনা বাদ পড়তে হয়েছে – যেটি মেনে নিতে পারেননি কাইফ।
টিম ইন্ডিয়ার সিদ্ধান্তের দাবি

দলের ব্যাটিং নিয়েও হতাশা প্রকাশ করেন কাইফ। তরুণ ওপেনার অভিষেক শর্মা চার ম্যাচে ব্যর্থ হওয়ার পর তাকে বিশ্রাম দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। কাইফ বলেছেন, “আমার মনে হয় আমাদের এখন চিন্তা করা উচিত। যারা ফর্মে নেই, তাদের বিরতি দেওয়া দরকার। এটা কোনো দ্বিপাক্ষিক সিরিজ নয়, এটা বিশ্বকাপ। অভিষেক শর্মা একদম ফর্মে নেই। চার ম্যাচে সুযোগ পেয়ে ব্যর্থ হয়েছেন অভিষেক। তাকে একটু বিশ্রাম দিন, বাঁকি ব্যাটসম্যানদের সুযোগ করে দিন।”
সবশেষে দল নির্বাচনের ভারসাম্য নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি। কাইফ বলেন, “টিম ম্যানেজমেন্ট সেরা দল বেছে নিতে পারেনি। দলের ষষ্ঠ বোলিং বিকল্প শিবম দুবে, তাহলে পঞ্চম বোলার হিসাবে নিয়মিত কোনো বোলার হিসাবে ওয়াসিংটন সুন্দরকে ধরা হয় তাহলে আমি দুঃখিত – আমরা বিশ্বকাপ জেতার থেকে অনেক দূরে।”