ক্রিকেটের জগতে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকেন সাধারণত খেলোয়াড়রা। কিন্তু গত এক দশকে পরিস্থিতি অনেকটাই বদলেছে। এখন ম্যাচের বিশ্লেষণ, উপস্থাপনা এবং স্টুডিও আলোচনাও সমান গুরুত্ব পায়। আর এই পরিবর্তনের অন্যতম মুখ হলেন মায়ান্তি ল্যাঙ্গার। ক্রিকেট মাঠে অন্যতম জনপ্রিয় এক চরিত্র মায়ান্তির। দীর্ঘদিন ধরেই ক্রিকেট ধারাভাষ্যকার এবং প্রেজেন্টার হিসাবে পরিচিত তিনি। ক্রিকেটার না হয়েও, তাঁর উপস্থিতি ম্যাচের উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তোলে। বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে তাঁর সাবলীল আলোচনা, আত্মবিশ্বাসী প্রশ্ন এবং ম্যাচ বিশ্লেষণের দক্ষতা তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করে তুলেছে। মজার বিষয় হল, এই জায়গায় আসার কোনও পরিকল্পনাই ছিল না তাঁর।
তিনি কখনও ভাবেননি যে টেলিভিশনই হয়ে উঠবে তাঁর নেশা ও পেশা। কিন্তু জীবনে কিছু সুযোগ আসে যা পুরো দিকটাই বদলে দেয়। একটি ফুটবল শো-তে অতিথি হিসেবে গিয়ে তিনি সেই সুযোগ পান। আর তারপর থেকেই ইতিহাস। সেই অনুষ্ঠানেই তাঁর পারফরম্যান্স ছিল অসাধারণ। যে কারণে তাঁকে অফার করা হয় ফুল-টাইম অ্যাঙ্করিংয়ের কাজের। তারপর থেকেই তাঁর টিভি যাত্রা শুরু হয়। ক্রিকেটের সঙ্গে যুক্ত না থাকলেও, স্কুল ও কলেজ লেভেলে তিনি একজন ফুটবলার ছিলেন। এমনকি, আমেরিকায় পড়াশোনার সময়ও তিনি কলেজ টিমের সদস্য ছিলেন। ফলে খেলার প্রতি তাঁর বোঝাপড়া অন্যদের থেকে অনেক বেশি গভীর। জি স্পোর্টসের ‘ফুটবল ক্যাফে শো’ দিয়ে শুরু হলেও তিনি খুব দ্রুতই বড় মঞ্চে পৌঁছে যান।
Read More: “উফ্ কাঁদিয়ে ছেড়ে দিয়েছে..”, যশস্বী-জুরেলের দুরন্ত লড়াই, গুজরাটের বিপক্ষে বিশাল লক্ষ্যমাত্রা দিল রাজস্থান !!
নিজের পরিচয়ে সুপারস্টার মায়ান্তি

তিনি সঞ্চালনা করেছেন আন্তর্জাতিক মানের ইভেন্ট যেমন ২০১০ ফিফা ওয়ার্ল্ড কাপ, ২০১০ কমনওয়েলথ গেমসের মতন বিশ্বব্যাপি ইভেন্টে। এরপর তিনি ক্রিকেটে আসেন এবং সেখানেই নিজের আসল জায়গা খুঁজে পান। ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (IPL 2026) তাঁকে এনে দেয় ব্যাপক জনপ্রিয়তা। স্টার স্পোর্টসের সঙ্গে দীর্ঘ সম্পর্ক তাঁকে আইসিসি টুর্নামেন্টেরও পরিচিত মুখ করে তোলে। ব্যক্তিগত জীবনেও তিনি ক্রিকেটারকেই স্বামী হিসাবে বেছে নিয়েছেন। বিয়ে করেন স্টুয়ার্ট বিনিকে (Stuart Binny)। বিনি একসময়ে ভারতীয় দলের সেরা ওডিআই ম্যাচ ফিগারের মালিক ছিলেন। বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ৪ রান দিয়ে ৬ উইকেট নেওয়ার কৃতিত্ব রয়েছে তাঁর। এমনকি, তাঁর শ্বশুর রজার বিনি ভারতের ১৯৮৩ বিশ্বকাপজয়ী দলের সদস্য এবং সাবেক বিসিসিআই প্রেসিডেন্টও।
৮৩ কোটির মালিক মায়ান্তি

তবে, নিজেই একজন কোটিপতি মায়ান্তি, পরিবারের সঙ্গে ক্রিক্রেট জড়িয়ে থাকলেও সূত্রের দাবি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের হিসেবে তাঁর মোট সম্পত্তির পরিমাণ প্রায় ৮৩ কোটি টাকা। এই পরিমাণ শুধু অর্থনৈতিক সাফল্য নয়, বরং তাঁর দীর্ঘদিনের পরিশ্রমের প্রতিফলন। সঞ্চালনার পাশাপাশি ব্র্যান্ড এন্ডোর্সমেন্ট থেকেও তিনি উল্লেখযোগ্য আয় করেন। তবে সাফল্যের সঙ্গে সঙ্গে এসেছে বিতর্ক।
