বছর দুই আগে পর্যন্ত ক্রীড়া জগতের সেরা জুটি হিসাবে পরিচিত ছিল পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক শোয়েব মালিক ও ভারতের টেনিস তারকা সানিয়া মির্জা। তবে, ১৪ বছরের বিবাহিত জীবন শেষ করে ২০২৪ সালে ডিভোর্সের পথে হাঁটেন শোয়েব-সানিয়া। ২০১০ সালে সানিয়া মির্জার সঙ্গে রূপকথার বিয়ে সম্পন্ন হয়েছিল শোয়েব মালিকের। তাঁদের কোল আলো করে আসে পুত্রসন্তান – আহান। কিন্তু সানা মাকবুলের সঙ্গে বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কে জড়ান শোয়েব, এবং তৃতীয় বিয়েটা সেরেও নিয়েছিলেন মালিক। এবার সানিয়া মির্জার পর আর এক তারকা খেলোয়াড়ের সংসার ভাঙতে চলেছে।
সানিয়ার পর সংসার ভাঙছে এই তারকার

প্রসঙ্গত, বিশ্ব বক্সিং মানচিত্রে মেরি কম এক উজ্জ্বল নাম। অলিম্পিক পদক, পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন – সাফল্যের অভাব কোনওদিনই ছিল না। অথচ আজ সেই কিংবদন্তিই নিজেকে বলছেন সর্বস্বান্ত। কারণ, ব্যক্তিগত জীবনের ভয়াবহ বিশ্বাসভঙ্গ। একসময় যাঁদের ‘পাওয়ার কাপল’ বলা হত, সেই সম্পর্কের পরিণতি হয়েছে বিবাহবিচ্ছেদে। গত বছর এপ্রিল মাস থেকে প্রথম গুঞ্জন শুরু হয়েছিল বিবাহ বিচ্ছেদের। যদিও মেরি জানিয়েছেন, ২০২৩ সালের ২০ ডিসেম্বর পারিবারিক উপস্থিতিতে দু’পক্ষের সম্মতিতে তাঁদের ডিভোর্স সম্পন্ন হয়েছিল।
Read More: “হিন্দি রাষ্ট্রভাষা..”, ভারত-নিউজিল্যান্ড ম্যাচে সঞ্জয় বাঙ্গারের বিতর্কিত মন্তব্য ঘিরে বিতর্কের ঝড় !!
তবে এবার বিচ্ছেদের পর অন্য এক সত্য সামনে এসেছে। মেরি গুরুতর অভিযোগ এনেছে তার স্বামীর উপর। মেরির অভিযোগ, স্বামীর ঋণের বোঝা নামাতে গিয়ে তাঁর নামের সমস্ত সম্পত্তি হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, সেগুলো বন্ধক রেখে ধার নেওয়া হয়েছিল, যার দায় শোধ না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত সব বাজেয়াপ্ত হয়। ২০২২ কমনওয়েলথ গেমসের আগে চোট পাওয়ার সময়ই প্রথম সন্দেহ জাগে তাঁর মনে। শারীরিক লড়াইয়ের সঙ্গে সঙ্গে তখন শুরু হয় মানসিক যুদ্ধ। ধীরে ধীরে বুঝতে পারেন, যাঁর উপর ভরসা করেছিলেন, তিনিই তাঁর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত করে তুলেছেন। আজ মেরি কমের কণ্ঠে হতাশা স্পষ্ট। চার সন্তান এবং মা-বাবার দায়িত্ব এখন তাঁর কাঁধে। তবুও থেমে নেই জীবন।
মেরি কমের ব্যক্তিগত জীবনের ভয়াবহ ধাক্কা

ক্যারিয়ার শেষ করার পর, বর্তমানে বিজ্ঞাপন, কমেন্ট্রি ও অন্যান্য কর্মসূচির মাধ্যমে উপার্জন করে চলেছেন মেরি। তবে, কোনোরকম আইনি পথে না গিয়ে শান্তির পথ বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মেরি। যে কারণে মেরি এখনও পর্যন্ত কোনো অভিযোগ করেননি পুলিশের কাছে।বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে উপার্জন করে পরিবার চালাচ্ছেন তিনি। আইনি পথে না গিয়ে শান্তিপূর্ণ জীবনই তাঁর কাম্য। তাই এখনও পুলিশের কাছে অভিযোগ জানাননি। মেরি কম ভারতীয় তথা বিশ্বব্যাপি নারীর প্রতিচ্ছবি, যাঁরা বিশ্বাসের মূল্য চুকিয়েছেন সর্বস্ব দিয়ে।