গত কয়েক বছরে আইপিএলে শক্তিশালী প্রতিপক্ষ হিসেবে উঠে আসার চেষ্টা করছে লখনউ সুপার জায়ান্টস (Lucknow Super Giants)। গত বছর তারা ঋষভ পান্থের (Rishabh Pant) মতো তারকাকে দলে এনে নেতৃত্বের দায়িত্ব দিয়েছিল। কিন্তু তিনি দলের হয়ে ব্যাট হাতে ধারাবাহিকতা দেখাতে পারেননি। অধিনায়ক হিসেবেও সফলতা এনে দিতে ব্যর্থ হন এই তারকা।
লখনউ ১৪ ম্যাচের মধ্যে ৮ ম্যাচে হারের সম্মুখীন হয়ে ছিটকে গিয়েছিল। আসন্ন আইপিএলের আগে জশ ইংলিশ (Josh Inglish), ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গাদের (Wanindu Hasaranga) মিনি নিলামে দলে দিয়ে চমক দিয়েছে লখনউ। এখানে এই দলের দুর্বলতা, শক্তি এবং এক্স ফ্যাক্টর নিয়ে আলোচনা করা হল।
Read More: চোট হ্যাজেলউডের-ধারাবাহিক নন ভেঙ্কটেশ, জানুন RCB’এর দুর্বলতা, শক্তি এবং এক্স ফ্যাক্টর !!
LSG’এর শক্তি-

লখনউ সুপার জায়ান্টসের কাছে শক্তিশালী বিদেশি ওপেনিং জুটি রয়েছে। এই বছরও এইডেন মার্করাম (Aiden Markram) ও মিচেল মার্শ (Mitchell Marsh) জ্বলে উঠবেন বলে মনে করা হচ্ছে। মার্শ গত মরসুমে ১৩ ম্যাচে ৬২৭ রান তুলে নিয়ে দলের হয়ে সর্বোচ্চ রান সংগ্রহকারী হয়েছিলেন। মিডল অর্ডারে ঋষভ পান্থ এবং নিকোলাস পুরানের (Nicholas Pooran) অভিজ্ঞতা দলকে অনেকটাই ভরসা দিতে চলেছে। এর সঙ্গেই অনেক আগে থেকেই পান্থ চোট সারিয়ে প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছেন।
এই বছর তিনি দলকে আত্মবিশ্বাস দেবেন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এই লখনউ সুপার জায়ান্টসের হয়ে পেস আক্রমণের অন্যতম শক্তি মহম্মদ শামি (Mohammed Shami)। তিনি বোলিং বিভাগকে নেতৃত্ব দেবেন বলেই বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। এছাড়াও এনরিখ নোকিয়া (Enrich Nortje) এবং মায়াঙ্ক যাদবের (Mayank Yadav) গতি বিপক্ষদের যেকোনো সময়ে সমস্যার মধ্যে ফেলতে পারে। স্পিন আক্রমণে ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গার মতো তারকার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের অভিজ্ঞতা দলের জন্য কাজে লাগবে।
লখনউনের এক্স ফ্যাক্টর-
এই বছর ট্রেডের মাধ্যমে সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ (Sunrisers Haydrabad) থেকে ১০ কোটি টাকার বিনিময়ে মহম্মদ শামিকে দলে নিয়েছে লখনউ সুপার জায়ান্টস। এই তারকা পেসার বর্তমানে সম্পূর্ণভাবে সুস্থ হয়ে দুরন্ত ছন্দে রয়েছেন। সাম্প্রতিক সময় ঘরোয়া ক্রিকেটে বাংলার হয়ে জ্বলে উঠেছিলেন। আইপিএলের ইতিহাসে ১২০ ম্যাচে সংগ্রহ করেছেন ১৩৩ টি উইকেট। আসন্ন আইপিএলে তিনি লখনউয়ের ট্রাম কার্ড হয়ে উঠতে পারেন।
LSG’এর দুর্বলতা-

এই বছর আইপিএলেও শক্তিশালী প্রতিপক্ষ হিসাবে মাঠে নামার চেষ্টা করলেও এই দলের একাধিক দুর্বলতা আলোচনায় উঠে এসেছে। দলের অন্যতম ভরসাযোগ্য স্পিনার রবি বিষ্ণোইকে (Ravi Bishnoi) ছেড়ে দিয়েছে দল। ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গার ওপর স্পিন বিভাগের বড়ো দায়িত্ব থাকলেও এই শ্রীলঙ্কার এই তারকার চোট সমস্যা নিয়ে এখনও সংশয় রয়েছে। অন্যদিকে ঋষভ পান্থ (Rishab Pant) দীর্ঘ সময় প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটের বাইরে। তাকেও ছন্দে ফিরতে কিছুটা সময় দিতে হবে। টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে তার ব্যাটিং বেশিরভাগ সময় সমালোচনার মুখে পড়েছে।
চাপের মুখে অধিনায়ক হিসেবে তিনি কতটা দলকে আত্মবিশ্বাস দিতে পারবেন তা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন বিশেষজ্ঞরা। অন্যদিকে তারকা ব্যাটসম্যান ডেভিড মিলারকে (Devid Miller) লখনউ সুপার জায়ান্টস এই বছর ছেড়ে দিয়েছে। ফিনিশার হিসেবে আয়ুশ বাদোনি (Ayush Badoni) এবং শাহবাজ আহমেদের (Shahabaz Ahmad) মতো তরুণ ব্যাটসম্যান কতটা ভরসা দিতে পারেন তা নিয়েও চিন্তায় রয়েছেন ভক্তরা।