ভারতের তৃতীয় টি–২০ বিশ্বকাপ (T20 World Cup 2026) জয়ের আনন্দ এখনও থামেনি। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের হাইভোল্টেজ ম্যাচে ৯৬ রানে ম্যাচ জিতে নিলো টিম ইন্ডিয়া। সদ্য সমাপ্ত হওয়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে টিম ইন্ডিয়া অসাধারণ প্রদর্শন দেখিয়েছে এবং প্রথম দল হিসেবে শিরোপা ডিফেন্ড করেছে এবং তৃতীয় বারের জন্য চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। ট্রফি জয়ের রাতেই বড় বিতর্ক সামনে এসেছে। আসলে, রাতে ট্রফি উদযাপনের পর টি-২০ বিশ্বকাপ ট্রফি নিয়ে আহমেদাবাদের একটি হনুমান মন্দিরে যাওয়ার ঘটনায় শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তর্কবিতর্ক।
তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ ও প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেটার কীর্তি আজাদ এই পদক্ষেপের সমালোচনা করেছেন। ভারত সম্প্রতি নিউজিল্যান্ডকে ৯৬ রানে হারিয়ে তৃতীয়বারের মতো টি–২০ বিশ্বকাপ জিতেছে। আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে এই ঐতিহাসিক জয় পায় ভারত। জয়ের পর ভারতীয় দলের অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব, হেড কোচ গৌতম গম্ভীর এবং আইসিসি চেয়ারম্যান জয় শাহ কাছের একটি হনুমান মন্দিরে যান। সেখানে তাঁরা বিশ্বকাপ ট্রফি নিয়ে গিয়ে আশীর্বাদ নেন। এই ঘটনাটি সামনে আসার পরেই শুরু হয় বিতর্ক।
Read More: ফাইনালে নিয়ম ভেঙে ICC’এর শাস্তির মুখে আর্শদীপ, জরিমানা সহ ব্যান হলেন তারকা !!
বিশ্বকাপ মন্দিরে নিয়ে যাওয়া নিয়ে বিতর্ক শুরু কীর্তি আজাদের

মূল বিতর্ক শুরু হয় কীর্তি আজাদের বয়ানে। তাঁর মতে, ভারতীয় দলে হিন্দু খেলোয়াড় ছাড়াও মুসলিম, খ্রিস্টান, শিখরাও ছিলেন। তবে ট্রফি জয়ের পর শুধু মন্দিরেই কেন ট্রফি যাবে ? মন্তব্য করে তিনি আরও বলেন, “যখন টিম ইন্ডিয়া জেতে, তখন ১৪০ কোটি ভারতীয় আনন্দ করে। এটা কোনও একটি ধর্মের জয় নয়। ক্রিকেট বা খেলাধুলা কোনও ধর্মের নয়।” তিনি আরও বলেন, “যদি মন্দিরে নেওয়া হয়, তাহলে মসজিদ, গির্জা বা গুরুদ্বারেও নেওয়া উচিত ছিল।“
তাঁর মন্তব্যের জবাবে এবার সরব হয়েছেন মন্দিরের মহন্ত ঈশ্বরদাস মহারাজ। জবাবে মন্দিরের মহন্ত ঈশ্বরদাস মহারাজ বলেন, এই বিষয়টিকে অযথা বিতর্কে টেনে আনা হচ্ছে।পাশাপাশি, কীর্তি আজাদ তাঁর বক্তব্যে ১৯৮৩ সালের বিশ্বকাপের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সেই সময় ভারতীয় দলে বিভিন্ন ধর্মের খেলোয়াড় ছিলেন এবং সবাই মিলে দেশের জন্য খেলেছিলেন। কীর্তির দাবি, ক্রিকেট এমন এক খেলা যেটি সব ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষকে একত্র করে। তাই সেটাকে কোনও ধর্মীয় পরিচয়ের সঙ্গে যুক্ত করা উচিত নয়।