IPL 2025: আজ বিশাখাপত্তনমে দিল্লি ক্যাপিটালস আইপিএলের চতুর্থ গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে লখনউ সুপার জায়ান্টসের বিপক্ষে মাঠে নেমেছিল। ম্যাচে নিকোলাস পুরান এবং মিচেল মার্শের বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে ভর করে ২১০ রানের লক্ষ্যমাত্রা দেয় লখনউ। এই রান তাড়া করতে নেমে প্রথমেই একের পর উইকেট হারিয়ে চাপের মুখে পড়ে যায় দিল্লি। মাত্র ৬৫ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে ফেলে অক্ষর প্যাটেলের দল। তবে আশুতোষ শর্মা একাই দলকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে শেষ ওভারে দিল্লিকে ১ উইকেটে দুরন্ত জয় এনে দেন। ম্যাচের নায়ক হয়ে ওঠেন এই দিল্লি তারকা।
বিধ্বংসী ব্যাটিং পার্টনারশিপ গড়েন মার্শ ও পুরান-

আজ টসে জিতে দিল্লি ক্যাপিটালসের অধিনায়ক অক্ষর প্যাটেল প্রথমে বোলিং করার সিদ্ধান্ত নেন। ফলে প্রথম ইনিংসে লখনউ সুপার জায়ান্টসের হয়ে মিচেল মার্শের সঙ্গে এইডেন মার্করাম ওপেনিং করতে আসেন। তবে মার্করাম ১৩ বলে মাত্র ১৫ রানে আউট হয়ে গেলে দল চাপের মুখে পড়ে যায়। এই রকম গুরুত্বপূর্ণ সময় নিকোলাস পুরানের সঙ্গে জুটি বেঁধে দ্রুত স্কোরবোর্ড এগিয়ে নিয়ে যান মিচেল মার্শ। দুজনেই এইদিন ব্যাট হাতে ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠেন। শতরান করতে না পারলেও মুকেশ কুমারের স্লোয়ার বলে ১২ তম ওভারে ট্রিস্টান স্টাবসকে ক্যাচ দিয়ে ৩৬ বলে ৭৬ রান করে মাঠ ছাড়েন মার্শ। মিচেল স্ট্রার্কের বলে ৩০ বলে ৭৫ রান করে উইকেট হারান পুরান।
Read More: IPL 2025: ৬,৬,৬,৬,৬,৬… বিশাখাপত্তনমে ঝড় তুললেন নিকোলাস পুরান, খেললেন ৭৫ রানের বিধ্বংসী ইনিংস !!
শূন্য রানে আউট হন ঋষভ পান্থ-

এই বছর নতুন দল লখনউ সুপার জায়ান্টসকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন ঋষভ পান্থ। তিনি আজ মিচেল মার্শ আউট হয়ে যাওয়ার পর চতুর্থ নম্বরে ব্যাটিং করতে আসেন। তবে লখনউয়ের হয়ে অভিষেক ম্যাচেই শূন্য রানে আউট হয়ে সমর্থকদের হতাশ করেন তিনি। দিল্লির তারকা স্পিনার কুলদীপ যাদবের ঘূর্ণি বল বুঝতে না পেরে ফাফ ডুপ্লেসিসের হাতে ক্যাচ দিয়ে বসেন পান্থ। এই নিয়ে আইপিএলের ৫ ইনিংসে কুলদীপ যাদবের মুখোমুখি হয়ে ৩ বার উইকেট হারালেন লখনউ অধিনায়ক।
ব্যর্থ লখনউয়ের মিডল অর্ডার-
মিচেল মার্শ এবং নিকোলাস পুরান দুরন্ত ব্যাটিং করে দলকে সুবিধাজনক জায়গায় পৌঁছে দিলেও লখনউয়ের মিডল অর্ডার সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়। পান্থ শূন্য রানে মাঠ ছাড়ার পর আয়ুষ বাদোনি ৪ রানে, শার্দুল ঠাকুর শূন্য রানে এবং শাহবাজ আহমেদ ৯ রানে পরপর আউট হয়ে যান। একমাত্র ডেভিড মিলার ১৯ বলে অপরাজিত ২৭ রানে লড়াই চালিয়েছিলেন। এর ফলে লখনউ প্রথম ইনিংসে ২০৯ রানে পৌঁছায়।
বল হাতে জ্বলে ওঠেন মিচেল স্ট্রার্ক-
প্রথম ইনিংসের শুরুর দিকে দিল্লি ক্যাপিটালসের তারকা পেসার মিচেল স্টার্ক নিজের ছন্দ খুঁজে পাচ্ছিলেন না। তবে ১৪.৫ ওভারে বিধ্বংসী ফর্মে থাকা নিকোলাস পুরানের উইকেট তুলে নিয়ে আত্মবিশ্বাস ফিরে পান স্ট্রার্ক। ম্যাচে ৪ ওভারে ৪২ রান খরচ করে ৩ টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট সংগ্রহ করেছেন তিনি। এছাড়াও দিল্লি ক্যাপিটালসের হয়ে ৪ ওভারে ২০ রান দিয়ে ২ উইকেট তুলে নিয়েছেন কুলদীপ যাদব।
LSG-এর জার্সিতে শার্দুল ঠাকুরের কামব্যাক-

লখনউ সুপার জায়ান্টসের দেওয়া ২১০ রানের লক্ষ্যমাত্রা তাড়া করতে নেমে প্রথমেই একের পর এক উইকেট হারিয়ে দিল্লি ক্যাপিটালস চাপের মুখে পড়ে যায়। প্রথম ওভারেই বল হাতে জ্বলে ওঠেন শার্দুল ঠাকুর। তিনি এই বছর মেগা নিলামে অবিক্রিত ছিলেন। মহসিন খানের চোটের কারণে এই অভিজ্ঞ পেসার দিল্লি শিবিরে পরিবর্ত হিসাবে যোগদান করেছেন। আজ ম্যাচে দ্বিতীয় ইনিংসের প্রথম ওভারেই তিনি তারকা ব্যাটসম্যান জ্যাক ফ্রেজার-ম্যাকগার্ককে মাত্র ১ রানে এবং উইকেটকিপার অভিষেক পোরেলকে শূন্য রানে মাঠের বাইরে পাঠিয়ে দেন।
ভরসা দেয় দিল্লির মিডল অর্ডার-
মাত্র ৭ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে ফেলার পর অধিনায়ক অক্ষর প্যাটেল ওপেনার ফাফ ডুপ্লেসিসের সঙ্গে জুটি বেঁধে স্কোরবোর্ড এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। দুজনে মিলে ২৩ বলে ৪৩ রানের পার্টনারশিপ গড়ে তোলেন। অক্ষর প্যাটেল ১১ বলে ২২ রান করেন। ডুপ্লেসিসের ব্যাট থেকে আসে ১৮ বলে ২৯ রান। ট্রিস্টান স্টাবসও ৬ নম্বরে ব্যাট করতে নেমে ২২ বলে ৩৪ রান করে দলকে সাহায্য করেন।
ব্যাট হাতে জ্বলে ওঠেন আশুতোষ শর্মা-

৭ নম্বরে ব্যাট করতে নেমে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন আশুতোষ শর্মা। তিনি দিল্লি ম্যাচের মধ্যে ফিরিয়ে নিয়ে আসেন। তিনি বিপ্রজ নিগমের সঙ্গে মাত্র ২২ বলে ৫৫ রানের পার্টনারশিপ গড়েন। বিপ্রজ আউট হয়ে গেলে তিনি এক দিক থেকে ধরে রেখে ম্যাচটি শেষ ওভার পর্যন্ত নিয়ে যান। শেষ ওভারে ৬ বলে ৬ রান বাকি ছিল। টানটান উত্তেজনাপূর্ণ মুহূর্তে মাথা ঠান্ডা রেখে ২০ তম ওভারে শাহবাজ আহমেদের করা তৃতীয় বলে ছয় মেরে দলকে জয় এনে দেন আশুতোষ। তার ব্যাট থেকে আসে ৩১ বলে অপরাজিত ৬৬ রান।