চলতি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের (T20 WC 2026) সবচেয়ে টানটান উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল ভারত এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজ (India vs West Indies)। চোখে চোখ রেখে দুই দল লড়াই শুরু করে। প্রথম ইনিংসে ক্যারিবিয়ানরা প্রতিপক্ষদের বোলিং আক্রমণের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছিল। বিশাল রানের লক্ষ্যমাত্রা দেয় শাই হোপরা (Shai Hope)। এই রান তাড়া করতে নেমে ভারতীয় ব্যাটিং অর্ডার একের পর এক উইকেট হারিয়ে চাপের মুখে পড়ে যায়। এইরকম পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে সঞ্জু স্যামসন (Sanju Samson) দুরন্ত ব্যাটিং করে ভারতীয় দলকে লড়াইয়ে ফিরিয়ে আনেন। তার দুরন্ত ইনিংসে জয় ছিনিয়ে নিল ভারত।
Read More: রিভিউ না নেওয়া নিয়েই ঝড়, বিশ্বকাপে পাকিস্তান-শ্রীলঙ্কার বিশ্বকাপ ম্যাচে ফিক্সিংয়ের গন্ধ !!
হোল্ডার-পাওয়েলের দুরন্ত লড়াই-

ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে প্রথম ইনিংসে ওপেনিং করতে এসেছিলেন রস্টন চেস (Roston Chase) ও শাই হোপ। দুজনে মিলে ধৈর্যের সঙ্গে স্কোরবোর্ড এগিয়ে নিয়ে যান। অধিনায়ক ৩৩ বলে ৩২ রান করেন। চেস ফেরেন ২৪ বলে ৪০ রান করে। তবে দলের হয়ে দুরন্ত ফর্মে থাকা শিমরন হেটমায়ার প্রভাব ফেলতে ব্যর্থ হন। তিনি ১২ বলে মাত্র ২৭ রান করে মাঠের বাইরে চলে যান। এইরকম পরিস্থিতিতে দলের হয়ে হাল ধরেন জেসন হোল্ডার (Jason Holder) এবং রোভম্যান পাওয়েল (Rovman Powell)।
দুজনে মিলে ৩৫ বলে ৭৬ রানের পার্টনারশিপ গড়েন। হোল্ডারের ব্যাট থেকে আসে ২২ বলে গুরুত্বপূর্ণ ৩৭ রান। তিনি ৩ টি ছক্কা এবং ২ টি চার মারেন এই তারকা। পাওয়েল ১৯ বলে ৩৪ রানে অপরাজিত থাকেন। ফলে ওয়েস্ট ইন্ডিজ প্রথম ইনিংসে ৪ উইকেট হারিয়ে ১৯৫ রান সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়। ভারতের হয়ে ৪ ওভারে ৩৬ রান দিয়ে ২ টি উইকেট সংগ্রহ করেন জসপ্রীত বুমরাহ (Jasprit Bumrah)। একটি করে উইকেট তুলে নেন বরুণ চক্রবর্তী (Varun Chakaravarthy) এবং হার্দিক পান্ডিয়া (Hardik Pandya)।
চাপের মুখে পড়ে যায় ভারত-
এই বিশাল রান তাড়া করতে নেমে ভারতের হয়ে ওপেনিং করতে আসেন সঞ্জু স্যামসন এবং অভিষেক শর্মা (Abhishek Sharma)। আজও অভিষেক বড়ো ইনিংস গড়তে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হন। তিনি ১১ বলে মাত্র ১০ রান করেন। এরপর ঈশান কিষাণও (Ishan Kishan) ব্যাট করতে নেমে হাল ধরতে ব্যর্থ হন। তিনি মাঠ ছাড়েন ৬ বলে ১০ রান করে। আজ সূর্যকুমার যাদবও (Suryakumar Yadav) হতাশ করেন। অধিনায়ক ১৬ বলে ১৮ রান করে ড্রেসিংরুমে ফেরেন। ফলে এক সময় চাপের মুখে পড়ে গিয়েছিল ভারত।
ম্যাচ জয়ের নায়ক সঞ্জু-

চাপের মুখে দাঁড়িয়ে সঞ্জু স্যামসন একদিক থেকে ধরে রেখে স্কোরবোর্ড এগিয়ে নিয়ে যান। তিনি তিলক বর্মার (Tilak Varma) সঙ্গে প্রথমে গুরুত্বপূর্ণ পার্টনারশিপ গড়েছিলেন। ১৫ বলে ২৭ রান করেন তিলক। তিনি ব্যাট থেকে ৪ টি চার এবং ১ টি ছয় হাঁকান। এই তারকা আউট হয়ে যাওয়ার পর সঞ্জু হার্দিক পান্ডিয়ার সঙ্গে জুটি বেঁধে দলকে জয়ের লক্ষ্যে এগিয়ে দেন। হার্দিক ১৪ বলে ১৭ রান করেন। তবে সঞ্জু ৫০ বলে অপরাজিত ৯৭ রান করে ইতিহাস তৈরি করেন।
তার অবিশ্বাস্য ইনিংসে ছিল ১২ টি চার এবং ৪ টি ছয়। এর ফলে ভারতীয় দল ১৯.২ ওভারে হারিয়ে প্রয়োজনীয় রান সংগ্রহ করে নেয়। ৫ উইকেটে জয় তুলে নিয়ে সেমিফাইনালে প্রবেশ করল ব্লু ব্রিগেডরা।