ক্রিকেট মাঠে ভারত–পাকিস্তান ম্যাচ মানেই আবেগ ও ভরপুর উত্তেজনা। আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬-এ (T20 World Cup 2026) ভারত বনাম পাকিস্তান (IND vs PAK) ক্রিকেট ম্যাচ এবার দেখতে পাবে না ভক্তরা। দুই দেশের রাজনৈতিক সম্পর্কের জেরে এবার ভারতের বিরুদ্ধেই খেলা বয়কট করলো পাকিস্তান। পাকিস্তান সরকার এক বিবৃতিতে জানিয়ে দেয় ভারতের বিরুদ্ধে বিশ্বকাপের ম্যাচে মুখোমুখি হবে না পাকিস্তান। বয়কটের ঘোষণা পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের জন্য রাজনৈতিক বার্তা হলেও, অর্থনৈতিক দিক থেকে এটি হতে পারে মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত। কারণ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের বর্তমান বাস্তবতায় রাজনীতি যতটা শক্তিশালী, অর্থনীতি তার থেকেও বেশি প্রভাবশালী। বিশেষ করে জয় শাহ (Jay Shah) আইসিসির দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই আইসিসি বেশ লাভের মুখ দেখেছে। তবে আইসিসির লাভের একাংশ বিসিসিআইয়ের থেকেই হয়ে থাকে।
ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচ বয়কট করলো পাকিস্তান

যে কারণে, ভারত বনাম পাক ( IND vs PAK) ম্যাচটি ছিল সেই বাস্তবতার সবচেয়ে বড় প্রতীক। একটি ম্যাচেই যে পরিমাণ দর্শক, বিজ্ঞাপন ও ডিজিটাল এনগেজমেন্ট তৈরি হয়, তা পুরো টুর্নামেন্টের অর্থনীতিকে প্রভাবিত করে। এই কারণেই আইসিসির অর্থ বণ্টন ব্যবস্থায় বাণিজ্যিক অবদান সর্বোচ্চ গুরুত্ব পায়। ২০২৪-২০২৭ চক্রে এই স্বত্বের মূল্য আনুমানিক ৩০০ কোটি মার্কিন ডলার। এর বড় অংশই আসে ভারতীয় বাজার থেকে। ভারত–পাক ম্যাচ মানেই রেকর্ড ভাঙা টিআরপি। এছাড়া ভারত–পাক ম্যাচ ছাড়া বিশ্বকাপ মানে স্পনসরদের কাছে কম আকর্ষণীয় পণ্য। পাকিস্তানও এই ম্যাচের থেকে বড় অঙ্কের লাভ পেয়ে এসেছে। তবুও তাদের এই হটকারী সিদ্ধান্ত বেশ প্রশ্ন তৈরি করেছে।
Read More: IND vs PAK: “ক্রিকেট থেকে নাম মুছে দাও..”, বয়কট বিতর্কে পাকিস্তানকে নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য ইরফান পাঠানের !!
ভারত–পাক ম্যাচ বয়কটে আইসিসির বড় ক্ষতির আশঙ্কা

ভারত ও পাকিস্তান ম্যাচ জুড়ে থাকে ভক্তদের আবেগ, পুরো টুর্নামেন্ট জুড়ে আইসিসি যতটা না লাভ করে, তার দ্বিগুন লাভ হয় এই একটি ম্যাচ থেকেই। পৃথিবীর যে কোনায় ম্যাচ হোক না কেন ভারত বনাম পাকিস্তান ম্যাচ দেখতে দুই দেশের ভক্তরা একেবারে স্টেডিয়াম করে দেবে হাউস ফুল। পাশাপশি, নিউজ চ্যানেল গুলির TRP ও বেশ বেড়ে যাবে। আর এই ম্যাচ বয়কটের জন্য সেই অর্থ কমে গেলে দীর্ঘমেয়াদে ক্রিকেটার তৈরির প্রক্রিয়াই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এছাড়াও আন্তর্জাতিক বিচ্ছিন্নতার ঝুঁকি রয়েছে। আইসিসি সূত্রের খবর, “গুরুতর পরিণতি”-র হুঁশিয়ারি আসা তাই অস্বাভাবিক নয়। কারণ এই বয়কট শুধু একটি দেশের সিদ্ধান্ত নয় – এটি পুরো টুর্নামেন্টের আর্থিক কাঠামোকে অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলে দেয়। এই ম্যাচ ঘিরে স্পনসরশিপ, ব্র্যান্ড প্রোমোশন ও মার্চেন্ডাইজ বিক্রি সবচেয়ে বেশি হয়। ম্যাচ বাতিল হলে শুধু সম্প্রচার সংস্থাই নয়, টুর্নামেন্টের সামগ্রিক বাণিজ্যিক মূল্যও উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। আনুমানিক ৩০০ কোটি টাকার লোকসান হতে পারে আইসিসির এমনটাই ধারণা বিশেষজ্ঞদের।