চলতি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আসর বেশ জমে উঠেছে। ২০ দল নিয়ে অনুষ্ঠিত হওয়া বিশ্বকাপে নেই বাংলাদেশ। ভারত ও শ্রীলঙ্কা জুড়ে অনুষ্ঠিত হওয়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দল নিরাপত্তার সমস্যা দেখিয়ে না খেলার সিদ্ধান্ত নেয়। বাংলাদেশ আইসিসির কাছে ভ্যানু বদলের আপিল করলেও আইসিসি তা প্রত্যাখ্যান করে দেয় এবং বাংলাদেশ বিপরীত সিদ্ধান্ত নেয়। তারা চলতি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে না খেলার সিদ্ধান্ত নেয়। বাংলাদেশ এবারের বিশ্বকাপে না থাকাটা নিঃসন্দেহে এক বড় আঘাত। তবে সেই আঘাত যে দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশ ক্রিকেটকে পিছিয়ে দেবে না, তা স্পষ্ট করে দিল আইসিসি (ICC)। বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়ানোর পর যে শাস্তির আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল, তা কার্যত উড়িয়ে দিল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থা।
বিশ্বকাপ থেকে নাম তুলে নিয়েছিল বাংলাদেশ

সব বিতর্কের সূত্রপাত, বাংলাদেশি পেশায় মুস্তাফিজুর রহমানকে (Mustafizur Rahman) ঘিরে। আইপিএলে তাকে খেলতে না দেওয়া থেকেই শুরু হয় বিতর্ক। সেই বিতর্ক দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং বাংলাদেশের বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিয়েই তৈরি হয় অনিশ্চয়তা। একই সময়ে পাকিস্তানও বিশ্বকাপের মঞ্চে ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচ না খেলার সিদ্ধান্ত জানিয়ে বিশ্বক্রিকেটে নতুন চাপ তৈরি করে। ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচ না খেললে আইসিসির আর্থিক কাঠামো যে ভেঙে পড়বে, তা ভালো করেই জানতেন কর্তারা।
Read More: এক দশকের আধিপত্যে ভাঁটা, BCCI’এর কেন্দ্রীয় চুক্তিতে বড় ধাক্কা রোহিত–বিরাটের !!
বাংলাদেশের জন্য স্বস্তির সংবাদ

তাই দ্রুত আলোচনার পথে হাঁটে আইসিসি (ICC)। দফায় দফায় বৈঠক হয় পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে। এই আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয় বিসিবি প্রধান অনিমুল ইসলাম বুলবুল। বোর্ড প্রধান আমিনুল ইসলাম বুলবুল প্রকাশ্যে জানান, তিনি পাকিস্তানকে ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচ খেলার অনুরোধ করেছিলেন। যদিও সেই অনুরোধ বরখাস্ত করে দেয় আইসিসি। অন্যদিকে, পিসিবি বিসিবির হয়ে তিন দফা আইনের কথা বললেও আইসিসি তা নাকচ করে দেয়। তবে, পিসিবির কথা কিছুটা হলেও রেখেছে আইসিসি। আসলে, বাংলাদেশ বিশ্বকাপে না খেললেও তাদের বিরুদ্ধে কোনও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না। আইসিসির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশের উপর কোনও আর্থিক জরিমানা বা প্রশাসনিক নিষেধাজ্ঞা চাপানো হচ্ছে না। পাশাপশি আবার, ২০৩১ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপের আগেই বাংলাদেশকে আরও একটি গ্লোবাল টুর্নামেন্ট আয়োজনের দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে। সবকিছুর পর পাকিস্তান শেষ পর্যন্ত ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচ খেলতে রাজি হয়েছে। আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি চলতি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে মুখোমুখি হবে ভারত ও পাকিস্তান।