IPL 2026: আইপিএল শুরু মানেই শুধু ক্রিকেট নয়, তার সঙ্গে জড়িয়ে থাকে আবেগ, বিশ্লেষণ, বিতর্ক এবং সোশ্যাল মিডিয়ার উত্তাপ। ম্যাচ চলাকালীন ট্রোল হতে বাদ যান না খেলোয়াড়রা। সে ধোনি হোক বা রোহিত বা কোহলি – ভক্তরা কাউকেই ছেড়ে কথা বলে না। এবারের মরসুম শুরু হতেই সেই উত্তাপ যেন কয়েকগুণ বেড়ে গেল। আর এই বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এলেন দুই ভারতীয় স্পিন কিংবদন্তি হরভজন সিং (Harbhajan Singh) এবং রবিচন্দ্রন অশ্বিন (Ravichandran Ashwin)। ঘটনার সূত্রপাত একেবারে সোশ্যাল মিডিয়া থেকেই।
সমাজ মাধ্যমে ট্রেন্ডিংয়ে হরভজন সিং

আইপিএলের হিন্দি ধারাভাষ্য নিয়ে বহুদিন ধরেই দর্শকদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। যদিও এবারের বড় সংযোজন হিসেবে ধারাভাষ্যকারের ভূমিকায় দেখা যাচ্ছে অশ্বিনকে। দক্ষিণের লোক হয়েও হিন্দি ধারাভাষ্য বক্সে হাজির অশ্বিন। তা নিয়েও বেশ কটাক্ষের মুখোমুখি হতে হয়েছে তাকে। এমনকি, দক্ষিণের তারকা স্পিনার লক্ষণ শিভরামকৃষ্ণন মন্তব্য করে বলেছেন যে – অশ্বিনের উচিত ছিল ইংরেজিতে ধারাভাষ্য দেওয়ার। তবে, অশ্বিনের ধারাভাষ্য বাঁকি ধারাভাষ্যকারদের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা।তার বিশ্লেষণাত্মক মন্তব্য ইতিমধ্যেই অনেকের প্রশংসা কুড়িয়েছে। এই জনপ্রিয়তাই যেন কিছু মানুষের চোখে কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
Read More: জাতীয় দলে এন্ট্রি পাচ্ছেন বৈভব সূর্যবংশী, শচীনের রেকর্ড ভাঙা এখন সময়ের অপেক্ষা !!
এক নেটিজেন মন্তব্য করেন, বিদেশি ধারাভাষ্যকার ইয়ান বিশপ ভারতীয় ক্রিকেটারদের সম্পর্কে বেশি জানেন, তুলনায় ভারতীয় ধারাভাষ্যকাররা কম জানেন। এই তুলনায় টেনে আনা হয় হরভজন, শেহওয়াগ এবং সিধুকে। এই মন্তব্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেন হরভজন। প্রথমে তিনি তুলনামূলক শান্ত ভাষায় জবাব দেন। সত্যি বলতে হিন্দি ধারাভাষ্যকাররা আজকাল চর্চার তুলনায় বাঁকি বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। বিশেষ করে সেহবাগ ও সিধু – মাঠের মধ্যে কি ঘটছে সে বিষয়ে কোনো ভ্রূক্ষেপ নেই। ১৫-২০ বছর আগে তাদের সময়ে কি হয়েছে তা নিয়েই মতামত দিতে থাকেন তারা। তবে সমাজ মাধ্যমে তার প্রতিবাদ করা হলে হরভজন পাল্টা জবাব দিয়ে লেখেন, “হাতি চলে বাজার, কুত্তে ভঁকে হাজার।” যখন ব্যক্তিগত আক্রমণ শুরু হয়, তখন তার ভাষাও বদলে যায়। তিনি সরাসরি অভিযোগ করেন, অশ্বিনের প্রতি হিংসা থেকেই নাকি হরভজনের কেরিয়ার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
নেটিজেনকে কড়া জবাব ভাজ্জির

এই মন্তব্যে স্পষ্টতই উত্তেজিত হয়ে ওঠেন ভাজ্জি এবং আরও কড়া ভাষায় পাল্টা দেন, “কুকুরের পেটে ঘি সহ্য হয় না। তোর মতো বেয়াদবের মোক্ষম জবাবও হজম হয় না।” এই মন্তব্য মুহূর্তে ভাইরাল হয়ে যায় এবং শুরু হয় নতুন বিতর্ক। একসময় ভারতীয় দলে স্পিন বিভাগের অন্যতম স্তম্ভ ছিলেন হরভজন। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অশ্বিনের উত্থান ঘটে এবং তিনি ভারতের প্রধান স্পিনার হয়ে ওঠেন। একসময় অবশ্য অশ্বিনের কারণে শেষ হয়েছিল হরভজনের ক্যারিয়ার। সেসময় মুখ্য নির্বাচক ক্রিস শ্রীকান্ত ছিলেন, যিনি তামিলনাড়ুর তিনিও হরভজনকে আসতে আসতে দল থেকে বাইরে করে দেন। তাছাড়া, তৎকালীন ক্যাপ্টেন এমএস ধোনির সমর্থন ছিল অশ্বিনের দিকে। তবে হরভজনের সমাজ মাধ্যমে এমন অপ্রত্যাশিত ব্যাবহার বেশ প্রশ্ন তুলেছে।