ভারতের এবং পাকিস্তানের মধ্যে রাজনৈতিক সম্পর্ক দীর্ঘ বহু বছর ধরেই উত্তাল রয়েছে। ফলে এই পরিস্থিতি ক্রিকেট মাঠেও প্রভাব ফেলেছে বহুবার। আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের (T20 WC 2026) আগেও দুই দেশের কূটনৈতিক টানাপোড়েন অব্যাহত রয়েছে। এই গুরুত্বপূর্ণ টুর্নামেন্টে ব্লু ব্রিগেডদের বিপক্ষে মাঠে নামবে না পাক বাহিনী এমনই খবর সামনে এসেছে। সরকারের সঙ্গে পিসিবি (PCB) আলোচনার মাধ্যমে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে। ফলে ক্রিকেট মহলে এই বিষয়ে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যেই এবার গৌতম গম্ভীরের (Gautam Gambhir) মন্তব্য চর্চায় উঠে এল।
Read More: “নির্লজ্জ BCCI যা পারিনি..”, পাকিস্তানের ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্তে বোর্ডকে কটাক্ষ জনপ্রিয় নেত্রীর !!
পাকিস্তানকে ঘিরে বিতর্ক-

৭ এপ্রিল থেকে এই বছরের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরু হতে চলেছে। ভারত এবং শ্রীলঙ্কা এই ঐতিহ্যবাহী টুর্নামেন্ট আয়োজন করার জন্য শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত। তবে তার আগেই বাংলাদেশ নিরাপত্তার অভাব দেখিয়ে ভারত থেকে তাদের ম্যাচগুলি নিরপেক্ষ ভেন্যুতে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য আবেদন করে। শেষ মুহূর্তে এসে তা কোনোভাবেই সম্ভব নয় এবং ভারতে নিরাপত্তার কোনো অভাব হবে না বলে জানিয়ে দেয় আইসিসি।
কিন্তু নিজেদের অবস্থানে অনড় থাকে বিসিবি। ফলে শেষ পর্যন্ত টাইগার বাহিনীদের বাধ্য হয়ে বাদ দেওয়া হয়। এরপরই পাকিস্তানও বিসিসিআই (BCCI)’এর ওপর চাপ বাড়ানোর জন্য ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কটের অদ্ভুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। যদি সালমান আলী আগারা (Salman Ali Agha) আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে না খেলে তাহলে সেটা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের জন্য খারাপ বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এই বিষয়ে আইসিসি (ICC) বিবৃতি পর্যন্ত দিয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে।
গম্ভীরের মন্তব্য ভাইরাল-

গত বছর পাহেলগামে জঙ্গি হামলার ঘটনায় পাকিস্তানের সরাসরি যোগাযোগ থাকার তথ্য সামনে আসে। এরপরই ভারত সরকারের পক্ষ থেকে অপারেশন সিঁদুর চালিয়ে যোগ্য জবাব দেওয়া হয়। ফলে দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক সম্পর্ক আরও খারাপের দিকে চলে যায়। সেই সময় ভারতের বর্তমান প্রধান কোচ বলেছিলেন যে ভারতের পাকিস্তানের সাথে ক্রিকেট খেলাও উচিত নয়।
পাকিস্তান ভারতের ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরেই সেই মন্তব্য বর্তমানে আবারও ভাইরাল হয়েছে। গৌতম গম্ভীর (Gautam Gambhir) বলেছিলেন, “ওরা যা ঘটিয়েছে তা মেনে নেওয়া যায় না। শর্তসাপেক্ষে নিষেধাজ্ঞা বলে কিছু হয় না। হয় সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করো না হলে সবকিছুতেই ছাড় দাও। হয়তো আইসিসি’এর টুর্নামেন্টে পাকিস্তানকে বয়কট করা কঠিন হতে পারে কিন্তু এশিয়া কাপে (Asia Cup 2025) ভারতের খেলা একেবারেই উচিত হবে না।” প্রসঙ্গত গত বছর এশিয়া কাপে ভারতীয় দল ৩ বার পাকিস্তানের বিপক্ষে মাঠে নেমেছিল।