ক্রিকেট ইতিহাসে কিছু মাঠ শুধুমাত্র খেলার জন্যই নয়, আবেগের জন্যও বিশেষ হয়ে ওঠে। আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়াম ঠিক তেমনই একটি মাঠ। বিশ্বের বৃহত্তম ক্রিকেট স্টেডিয়ামগুলোর একটি এই ভেন্যুতে এবার অনুষ্ঠিত হতে চলেছে আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ-এর (T20 World Cup 2026) ফাইনাল। এই স্টেডিয়ামটি ভারতের সবথেকে বৃহত্তম মাঠ, বিগত কয়েকটি ইভেন্টের ফাইনাল এই মাঠেই অনুষ্ঠিত হচ্ছে, আইপিএল হোক কিংবা আইসিসি ইভেন্ট সব ইভেন্টের ফাইনাল এই গুজরাটের মাঠেই অনুষ্ঠিত হচ্ছে। একসময়ে বেশিরভাগ ফাইনাল মুম্বাইয়ের ওয়ানখেড়ে স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হত, তবে এই নরেন্দ্র মোদী ক্রিকেট স্টেডিয়াম বিশ্বের বৃহত্তম স্টেডিয়াম হওয়ার পর থেকেই এখানে বেশিরভাগ ফাইনাল অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে সমর্থকদের মনে উদ্বেগ

৮ মার্চ শিরোপার জন্য লড়বে টিম ইন্ডিয়া এবং নিউজিল্যান্ড দল। তবে ম্যাচ ঘিরে উত্তেজনার পাশাপাশি ভারতীয় সমর্থকদের মনে রয়েছে পুরনো এক কষ্টের স্মৃতি। ২০২৩ সালে এখানেই অনুষ্ঠিত হয়েছিল আইসিসি ওডিআই ক্রিকেট ওয়ার্ল্ড কাপ-এর ফাইনাল। পুরো টুর্নামেন্টে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করেছিল ভারত। একের পর এক ম্যাচ জিতে তারা ফাইনালে পৌঁছেছিল অপরাজিত অবস্থায়। কিন্তু ফাইনালে এসে সব হিসাব পাল্টে যায়। প্রতিপক্ষ ছিল অস্ট্রেলিয়া, সেদিন ভারত প্রথমে ব্যাট করে প্রত্যাশিত রান তুলতে পারেনি। পরে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটাররা ধৈর্য ধরে ইনিংস গড়ে দলকে জয়ের দিকে নিয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত ছয় উইকেটে ম্যাচ জিতে বিশ্বকাপ নিজেদের করে নেয় অস্ট্রেলিয়া।
Read More: “ওর পা ধুয়ে জল খাওয়া উচিত…” বুমরাহের প্রশংসায় পঞ্চমুখ চাহাল, করলেন এই মন্তব্য !!
নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে ভারতের মিশন বিশ্বকাপ

প্রায় ১.৩ লক্ষ দর্শকে ভরা স্টেডিয়ামে সেই হার ভারতীয় সমর্থকদের জন্য বড় ধাক্কা ছিল। সেই স্মৃতি এখনও অনেকের মনে তাজা। তবে পরিসংখ্যান বলছে, ছবিটা এতটা একপেশে নয়। এই স্টেডিয়ামেই পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ওডিআই বিশ্বকাপের মঞ্চে ভারত সম্পূর্ণ আধিপত্য দেখিয়েছিল। তাছাড়া, ২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও এই মাঠে ভারতের অভিজ্ঞতা মিশ্র। প্রথম ম্যাচে তারা নেদারল্যান্ডসের বিরুদ্ধে বড় ব্যাবধানে জয় ছিনিয়ে নিয়েছিল। যদিও দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে ভারতীয় দলের ব্যাটিং বিপর্যয় দেখা গিয়েছিল, বড় রান তাড়া করতে এসে ১১১ রানেই গুটিয়ে গিয়েছিল টিম ইন্ডিয়া। ২০২৩ সালে টিম ইন্ডিয়ার এই পরাজয় এখনও ভুলতে পারিনি দেশবাসী। এই কারণেই অনেক সমর্থকের মনে সন্দেহ তৈরি হয়েছে। তবে বাস্তবে ক্রিকেট সম্পূর্ণ অনিশ্চয়তার খেলা।