ভারতের মাটিতে ওয়ানডে সিরিজ জয় নিউজিল্যান্ডের জন্য ঐতিহাসিক। ৩৭ বছর পর এই সাফল্য শুধু পরিসংখ্যান নয়, বরং ভারতীয় ক্রিকেটের জন্য এক বড় সতর্কবার্তা। অন্যদিকে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ঘরের মাঠে ওয়ানডে সিরিজ হার ভারতীয় ক্রিকেটে এক অস্বস্তিকর অধ্যায় যোগ করেছে। ২০২৩ বিশ্বকাপের ফাইনালিস্ট দল হিসেবে ভারতের কাছ থেকে যে আধিপত্য প্রত্যাশিত ছিল, তার প্রতিফলন এই সিরিজে দেখা যায়নি। প্রথম ম্যাচ জিতে ভালো শুরু করলেও ভারত পরের দুই ম্যাচে ব্যর্থ হয়েছে পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে। ব্যাটিং ইউনিট ধারাবাহিকভাবে ভেঙে পড়েছে, বোলিং বিভাগ গুরুত্বপূর্ণ সময়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে। এই সিরিজে একমাত্র উজ্জ্বল নাম বিরাট কোহলি। তিন ম্যাচে তাঁর রান প্রমাণ করে অভিজ্ঞতা এখনও ভারতের সবচেয়ে বড় শক্তি। তিন ম্যাচে তাঁর ব্যাট কথা বলেছে, বিশেষ করে তৃতীয় ম্যাচের শতরান।
গৌতম গাম্ভীরের কোচিংয়ের উপর উঠলো প্রশ্ন

কিন্তু দলগত পারফরম্যান্সের অভাবে সেই ইনিংসও জয়ের জন্য যথেষ্ট হয়নি। এই সিরিজ হার সবচেয়ে বেশি চাপ তৈরি করেছে প্রধান কোচ গৌতম গম্ভীরের উপর। তাঁর কোচিং মেয়াদে ঘরের মাঠে আরেকটি সিরিজ হার মানে সমালোচনা অনিবার্য। ইন্দোরে দর্শকদের স্লোগান সেই অসন্তোষেরই বহিঃপ্রকাশ। ভাইরাল হওয়া এক ক্লিপে শোনা যায়, “গম্ভীর হায় হায়..” ধ্বনি। এমনকি, অধিনায়ক শুভমান গিলের ক্ষেত্রেও সমালোচনা কম নয়। তরুণ অধিনায়ক হিসেবে তাঁর উপর ভবিষ্যতের দায়িত্ব থাকলেও, এই সিরিজে তাঁর ব্যাটিং ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি।
চাপের মুহূর্তে দলকে এগিয়ে নেওয়ার মতো ইনিংস তাঁর ব্যাট থেকে আসেনি। টিম ম্যানেজমেন্টের “দল উন্নতির পথে” বক্তব্যও সমর্থকদের কাছে বিশ্বাসযোগ্য মনে হচ্ছে না। কারণ মাঠের পারফরম্যান্স তার উল্টো ছবি দেখাচ্ছে। অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের ভূমিকা স্পষ্ট নয়, আবার নতুনদের ব্যবহারেও ধারাবাহিকতা নেই। এর ফলে দলীয় কম্বিনেশন বারবার ভাঙছে।
৩৭ বছরের অপেক্ষার অবসান কিউইদের

নিউজিল্যান্ডের কৃতিত্ব এখানেই। তারা চাপের মুহূর্তে পরিকল্পনা বদলায়নি, শান্ত থেকেছে এবং সুযোগ কাজে লাগিয়েছে। ৩৭ বছর পর ভারতে ওয়ানডে সিরিজ জয় এবং আগের বছরের টেস্টে ৩–০ হোয়াইটওয়াশ—এই দুই সাফল্য মিলিয়ে তারা মানসিকভাবে ভারতের থেকে এগিয়ে। ২০২৭ বিশ্বকাপের মাত্র এক বছর আগে দাঁড়িয়ে ভারতীয় দলের এই অস্থিরতা উদ্বেগজনক।