কলকাতার ইডেন গার্ডেন্স রবিবার এক রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ের সাক্ষী থাকল। ভারত ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের (IND vs WI) মধ্যে কার্যত কোয়ার্টার ফাইনালের গুরুত্ব পাওয়া এই ম্যাচ শুরু থেকেই ছিল উত্তেজনায় ভরা। টস হেরে প্রথমে ব্যাটিং করতে এসে, শুরুতে ধীরগতিতে খেললেও নিজেদের উইকেট অক্ষত রেখে এগোচ্ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। নবম ওভারে ভারতের হয়ে প্রথম সাফল্য এনে দেন বরুণ চক্রবর্তী। তখন ম্যাচের অর্ধেক শেষে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৮২ রানে ১ উইকেট। ম্যাচের আসল নাটক শুরু হয় দ্বাদশ ওভারে। সেই ওভারে বল হাতে এসে পরপর দুই ব্যাটারকে ফিরিয়ে দেন জসপ্রীত বুমরাহ (Jasprit Bumrah)। বুমরাহের দুরন্ত বোলিংয়ে প্রথমে আউট হন শিমরন হেটমায়ার, এরপর সাজঘরে ফেরেন দুরন্ত ছন্দে থাকা রস্টন চেজ।
হেটমায়ারের আউট ঘিরে বিতর্ক শুরু

হেটমায়ারের উইকেট নিয়ে সমাজ মাধ্যমে বেশ চর্চা শুরু হয়েছিল। অনেকেই এই ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান প্লেয়ারের আউটটি মানতে নারাজ, যে কারণে অনেকে আবার ম্যাচটি ফিক্স বলেও প্রশ্ন তুলেছেন।শর্ট লেংথের বলকে জোরে মারতে গিয়ে ব্যাটের ভেতরে হালকা লাগিয়ে ফেলেন হেটমায়ার, এবং উইকেটরক্ষক সঞ্জু স্যামসন (Sanju Samson) সহজ ক্যাচ লুপে নেন। আম্পায়ার আউট দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আবেদন জানান হেটমায়ার। হেটমায়ার সঙ্গে সঙ্গে DRS নেওয়াতে অনেকেই ভেবে নিয়েছিলেন তিনি হয়তো আউট হননি। তবে, স্নিকো মিটারে স্পষ্ট হয়ে যায় যে, ব্যাটে বলের স্পর্শ ধরা পড়ায় সিদ্ধান্ত বহাল থাকে। তবে মাঠ ছাড়ার সময় তাঁর অসন্তোষ স্পষ্ট ছিল হেটমায়ারের চোখে মুখে। ডাগআউটে বসে ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রধান কোচ ড্যারেন স্যামিকেও হতাশ দেখায়।
Read More: “ওস্তাদের মার শেষ রাতে…” উইন্ডিজকে হারিয়ে সেমিফাইনালে ভারত, সমাজ মাধ্যমে চর্চা শুরু !!
ঘটনাটি মুহূর্তেই ম্যাচের অন্যতম আলোচিত দৃশ্যে পরিণত হয়। সরাসরি দেখায় বল ব্যাট ছুঁয়েছে কি না তা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হলেও প্রযুক্তির সিদ্ধান্তই শেষ কথা বলে। ১২ বলে ২৭ রান করে হেটমায়ারের বিদায়ে ম্যাচের গতি বদলে যায়। পাকিস্তানি পেসার মোহম্মদ আমির সমাজ মাধ্যমে এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রশ্ন জানিয়ে লিখেছেন, “হেটমায়ার কি সত্যিই আউট ছিল ?” হেটমায়ার আউট হলেও ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল ভারতের সামনে ১৯৫ রান বানিয়ে ফেলেছিল। যদিও, সঞ্জু স্যামসনের দাপুটে ব্যাটিংয়ে দুর্ধর্ষ জয় ছিনিয়ে নিয়ে পরস্পর তৃতীয় বারের জন্য বিশ্বকাপ সেমিফাইনাল পৌঁছে গেল ভারতীয় দল।