পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের রাজনৈতিক উত্তেজনা ক্রিকেট মাঠেও তার প্রভাব ফেলেছে একাধিকবার। মুম্বাই হামলার পর পাক বাহিনীদের কোনো ক্রিকেটার আইপিএলে (IPL 2025) অংশগ্রহণ করেন না। টুর্নামেন্টে সম্পূর্ণভাবে তাদের নিষিদ্ধ করেছে বিসিসিআই (BCCI)। অন্যদিকে সাম্প্রতিক সময় পাহেলগামে জঙ্গি হামলার পর এশিয়া কাপে (Asia Cup 2025) এবং মহিলাদের বিশ্বকাপে (Women’s ODI WC 2025) সূর্যকুমার যাদব (Suryakumar Yadav), হরমনপ্রীত কৌররা (Harmanpreet Kaur) পাক ক্রিকেটারদের সঙ্গে কোনোরকম সৌজন্য বিনিময় করেনি।
সাম্প্রতিক সময় বাংলাদেশে ভারত বিরোধী আওয়াজ ওঠায় দুই দেশের সম্পর্ক অনেকটাই তলানিতে ঠেকেছে। এর মধ্যেই মুস্তাফিজুর রহমান (Mustafizur Rahman) কলকাতা নাইট রাইডার্সে (Kolkata Knight Riders) আসায় ক্ষোভের মুখে পড়েছেন শাহরুখ খান (Sharukh Khan)। তবে কিং খান নন এর পিছনে বিসিসিআই (BCCI) ভূমিকা প্রশ্নের মুখে পড়া উচিত ছিল বলে মনে করছেন নেটিজেনরা।
Read More: নিউজিল্যান্ড সিরিজের আগেই অবসর নিলেন তারকা ব্যাটসম্যান, বছরের শুরুতেই ভাঙল ভক্তদের হৃদয় !!
ক্ষোভের মুখে কেকেআর-

কলকাতা নাইট রাইডার্স আইপিএলের অন্যতম একটি সফল দল। এই বছর আইপিএলের আগে তারা দলে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন ঘটিয়েছে তারা। মিনি নিলামের মাধ্যমে ক্যামেরন গ্ৰিন (Cameron Green), মাথিশা পাথিরানার (Matheesha Pathirana) মতো বিদেশি তারকাদের দলে নিয়ে এসেছে নাইট বাহিনী। কর্মকর্তারা মোস্তাফিজুর রহমানকে ৯ কোটি ২০ লাখ টাকায় দলে নেয়। আইপিএলের ইতিহাসে বাংলাদেশি হিসেবে এই তারকা সবচেয়ে দামি ক্রিকেটার হয়েছেন।
কিন্তু সম্প্রতিক সময় বাংলাদেশের রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের ভারত বিদ্বেষী মনোভাব দুই দেশের সম্পর্কে ফাটল তৈরি করেছে। ফলে ক্রিকেট সমর্থকরা আইপিএলে বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের নিষিদ্ধ করার জন্য আবেদন জানাচ্ছেন। ক্ষোভের মুখে পড়েছেন শাহরুখ খান। এক বিজেপি নেতা সম্প্রতি তীব্র আক্রমণ করে বলেন, “যদি মুস্তাফিজুরের মতো ক্রিকেটার আমাদের দেশে খেলতে আসে তাহলে তিনি বিমানবন্দরের বাইরে যেতে পারবেন না। শাহরুখ খান দেশের হয়ে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন।”
প্রশ্নের মুখে BCCI-

এইরকম আবহে এর উল্টো দিকটিও সামনে উঠে আসছে। নেটিজেনরা বলছেন যে মুস্তাফিজুর রহমানকে (Mustafizur Rahman) নিলামে সুযোগ দেওয়ার কারণেই কলকাতা নাইট রাইডার্স দলে নিয়েছে। এতে কোনো ভুল নেই। উল্লেখ্য মিনি নিলামে আলোচিত তারকা পেসার ছাড়াও বাংলাদেশের তাসকিন আহমেদ (Taskin Ahmed), তানজিম হাসান সাকিব (Tanzim Hasan Sakib) এবং রিশাদ হোসেনের (Rishad Hossain) মতো তারকার নাম ছিল। বিসিসিআইয়ের ছাড়পত্রের কারণেই তারা নাম দিয়েছিলেন। ক্রিকেট ভক্তরা উল্লেখ করছেন যে বোর্ডের নিলামের আগেই বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের আইপিএল থেকে নিষিদ্ধ করা উচিত ছিল।
এখানেই শেষ নয় এই আবহে আবারও সমালোচনার মুখে পড়েছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড। গত বছর কাশ্মীরের পেহেলগামে সাধারণ পর্যটকদের ওপর গুলি চালায় জঙ্গিরা। তাদের সঙ্গে পাকিস্তানের যোগাযোগ রয়েছে বলে খবর সামনে আসে। এইরকম পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে এশিয়া কাপে পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। বিসিসিআই দেশের জনগণের আবেগকে গুরুত্ব না দিয়ে শুধুমাত্র আর্থিক লাভকেই গুরুত্ব দিয়েছিল বলে উল্লেখ করছেন অনেকেই।