ব্রিসবেনে সমাপ্ত হয়েছে ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার তৃতীয় টেস্ট (IND vs AUS)। এবার চতুর্থ টেস্ট খেলতে বৃহস্পতিবার সকালেই অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মেলবোর্নে পারি দিয়েছে টিম ইন্ডিয়া। আর মেলবোর্নে পা রেখেই মেজাজ হারান কিং কোহলি (Virat Kohli)। এক অস্ট্রেলীয় সাংবাদিকের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন কোহলি। আসলে, ভারতীয় দলের ছবি তুলতে মেলবোর্নে জড়ো হয়েছিলেন চিত্র সাংবাদিকেরা। ভারতীয় ক্রিকেটাররা বেরিয়ে আসতে থাকে এবং ক্যামেরা তখন বিরাটের পরিবারের দিকে যায়। তবে তিনি পরিবারের সঙ্গে সামনে আসেন তখন সাংবাদিকেরা, তাঁর পরিবারের ছবিও তুলতে যান। তবে আপত্তি জানান বিরাট কোহলি। তারপরেই সাংবাদিকের সঙ্গে বিরাটের বচসা শুরু হয়। তবে শুধু বিরাট নয়, এই ৩ ক্রিকেটার ও সাংবাদিকের সাথে ঝামেলায় জড়িয়ে খবরের শিরোনামে হয়েছেন।
ঋদ্ধিমান সাহা-বোরিয়া মহুমদার

তালিকায় শীর্ষে রয়েছেন ঋদ্ধিমান সাহা ও বোরিয়া মজুমদার। ভারতীয় ক্রিকেটের উল্লেখযোগ্য ক্রিকেটার হলেন ঋদ্ধিমান সাহা (Wriddhiman Saha)। তার সাথেই ক্রীড়া সাংবাদিক বোরিয়া মজুমদারের সঙ্গে লড়াই বেঁধে যায়। আসলে শোনা যায় ঋদ্ধিমানের যখন ক্যারিয়ার শেষের পর্যায়ে চলে এসেছিল তখন ঋদ্ধি নাকি বোরিয়ার থেকে সাহায্য চেয়েছিলেন। তবে, ঋদ্ধিমানের সঙ্গে বোরিয়া সাক্ষাৎকার নেওয়া চেষ্টা করলে ঋদ্ধিমান নাকি তার সাক্ষাৎকার দেননি। বিষয়টি নিয়ে প্রচুর জলঘোলা হয়েছিল। বোরিয়া হোয়াটসঅ্যাপে ঋদ্ধিমানের ক্যারিয়ার ধ্বংস করে দেবে বলে লেখেন। স্ক্রিনশট শেয়ার করে ঋদ্ধিমান লেখেন, “ভারতীয় দলে এত দিন খেলার পর এই প্রতিদান পেলাম। একজন সাংবাদিকের থেকে এই ব্যাবহার পাচ্ছি !”
এরপর বিসিসিআই বিষয়টি তলিয়ে দেখে এবং ঋদ্ধিমানের কাছে সাক্ষাৎকার না পেয়ে হুমকি দেওয়াতে বোর্ড বোরিয়াকে দু’বছরের জন্য নির্বাসিত করে। এমনকি তাকে কোনও ক্রিকেট মাঠ ও ক্রিকেট সম্পর্কিত কোনও অনুষ্ঠানে তাকে না থাকার আদেশ দেয়। ঋদ্ধিমান একটি সাক্ষাৎকারে বোরিয়াকে নিয়ে মন্তব্য করে বলেন, “বোরিয়ার ক্যারিয়ার ক্ষতি করার ইচ্ছা আমার ছিল না। আমি ভেবেছিলাম হয়তো নিজেকে ও পাল্টে নেবে, তবে ও শোধরায় নি। স্ক্রিনশট এডিট করে আরও বড় ভুল করে নিজেকে জড়িয়ে ফেলেছে।” এরপর অবশ্য ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড তদন্ত করে দেখেছে যে আরও অনেক ক্রিকেটারের সঙ্গেও এমন করেছে তিনি। যে কারণে বড় সিদ্ধান্ত নেয় ক্রিকেট বোর্ড।
Read More: IPL শুরুর আগেই নতুন ক্যাপ্টেন ঘোষণা করলো মুম্বাই, হার্দিক নয় এই খেলোয়াড় পেলেন দায়িত্ব !!
বিক্রান্ত গুপ্তা-আকাশ চোপড়া

রোহিত শর্মাকে (Rohit Sharma) নিয়ে টুইটার এবং ইউটিউবে আকাশ চোপড়া এবং বিক্রান্ত গুপ্তার ঝগড়া হয়েছিল। আসলে আকাশ চোপড়া রোহিত শর্মাকে নিয়ে আকাশ চোপড়া টুইটারে তার অনুগামীদের জিজ্ঞাসা করেছিলেন যে রোহিত শর্মা যিনি মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স দলের সফল ক্যাপ্টেন তিনি কি অন্য দলের সাথে একই সাফল্যের প্রতিলিপি করতে পারে কিনা। আকাশ টুইট করে লেখেন, ‘আরসিবির মতো দল থাকলে রোহিত কি পাঁচটি আইপিএল জিততে পারতেন?’
চোপড়ার প্রশ্নের জবাবে রোহিত শর্মা বলেছেন, “অনেক লোক, আমি বলতে শুনেছি যে সে (রোহিত) অন্য দলের সাথে এটা করতে পারে? প্রথমত, কেন আমাকে অন্য দলের সাথে এটা করতে হবে? এই ফ্র্যাঞ্চাইজি একটি নির্দিষ্ট পন্থায় যায় এবং একজন খেলোয়াড় ও নেতা হিসেবে আমিও একই পথে যেতে চাই।” এরপর আজ তাকের স্পোর্টস চ্যানেল স্পোর্টস তাক আকাশ চোপড়ার মন্তব্যের প্রতিক্রিয়া হিসাবে রোহিত শর্মার এই বিবৃতিটি পোস্ট করে। এরপরেই শুরু হয় আকাশ ও বিক্রান্তের লড়াই।
আসলে, আকাশ তার নিজের শো আকাশবাণীর একটি পর্বের সময় আজ তককে ব্যঙ্গ করেছিলেন। তখন একজন টুইটার ব্যবহারকারী লেখেন, “স্যার আজ আপনে পরোক্ষভাবে স্পোর্টস তক ও বিক্রান্ত গুপ্তাকে দারুন ধুয়েছেন।” তবে, বিক্রান্ত গুপ্ত প্রতিউত্তরে লেখেন, “সরাসরি দৃষ্টিভঙ্গি দেখালে ভাল হত।” আকাশ চোপড়া উত্তর দিয়েছিলেন, “আপনার চ্যানেল কীভাবে ধরে নিল যে তিনি (রোহিত শর্মা) আমার সম্পর্কে কথা বলছেন? এটা কি দুর্বল সাংবাদিকতার প্রমান নয় ? আপনি অনুমান করছেন, নিশ্চিত না করেই। আমি আপনার মত শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিদের কাছ থেকে শিখেছি যে সাংবাদিকতায় নৈতিকতা সর্বাগ্রে। হয়তো তারা আর নেই।”
চুপ থাকেননি বিক্রান্তও, তিনি বলেন, “ঠিক আছে, কতজন রোহিতকে প্রশ্ন করেছিল যে সে একটি নির্দিষ্ট দলের সাথে জিততে পারবে কিনা? আমাকে একজন দেখান, তাহলে স্পোর্টস তাকে প্রকাশ্যে আপনার কাছে ক্ষমা চাইবে৷ দ্বিতীয়ত, আপনার চ্যানেলে আপনার ব্যঙ্গাত্মক বা কটূক্তি ছিল ভিন্ন। এটা ইশারা হিসাবেই গণ্য করা হয়।”
হরভজন সিং বনাম ফরিদ খান

ভারতীয় দলের তারকা ক্রিকেটার হরভজন সিং (Harbhajan Singh) খবরের শিরোনামে থাকেন। তিনি একবার এক পাকিস্তানি সাংবাদিকের বিরুদ্ধে কঠোরভাবে প্রতিশোধ নিয়েছিলেন। আসলে ২০২৫- সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়েছিল, ভারত পাকিস্তানে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি খেলতে যাবে না বলে ঠিক করেছিল। হরভজন, পাকিস্তানে ভারতীয় স্কোয়াড পাঠানো নিয়ে বিরত থাকায় বিসিসিআইয়ের পাছন্দের সাথে একমত ছিলেন। তবে তাকে উপহাস করায় সাংবাদিকের প্রচেষ্টার তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান। আসলে হরভজন সিং (Harbhajan Singh) যখন ভারত পাকিস্তানে না যাওয়ার কথা বলেন তখন পাকিস্তানি এক সাংবাদিক ফরিদ আহমেদ ভারতের ২০০৬ সালের পাকিস্তান সফরের একটি স্কোরকার্ড শেয়ার করেছেন।
স্কোরবোর্ডটি মূলত শহীদ আফ্রিদি হরভজনকে চারটি ছক্কা হাঁকিয়েছেন সেটাই দেখা যাচ্ছে। ফরিদ সেই ফটোটি শেয়ার করে এটিকে ‘নিরাপত্তা সমস্যা’ হিসাবে উপস্থাপন করেছিলেন। এরপর হরভজন ২০০৯ সালের একটি সংবাদপত্রের গল্পের একটি চিত্র সহ বার্তাটি রি-টুইট করে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলেন। ২০০৯ সালে পাকিস্তানে শ্রীলঙ্কার টিম বাসে যে হামলা করা হয়েছিল তা নিয়ে একটি ফটো শেয়ার করেন। পাশাপাশি, এই ঘটনাকে কাজে লাগিয়ে দেশের খাঁটি নিরাপত্তার আশঙ্কার ওপর জোর দিয়েছিলেন। ছবিটি শেয়ার করার সাথে সাথে ভাজ্জি লেখেন, “না, এই জন্য নয়। ক্রিকেটে হার-জিত লেগেই থাকে। আসল সমস্যা হলো এটাই।”
No not for this . Cricket Mai Jeet har lagi rehti hai. I will tell u the real problem is this . Check the photo ⬇️ . Now get the F…. out of here . F ka Matlab samaj aa gya hoga ya samjau? F means ur name . Plz don’t think what u r thinking th meaning of F. You know what I mean… https://t.co/BLz6TRwcB3 pic.twitter.com/bqrGlro7tC
— Harbhajan Turbanator (@harbhajan_singh) August 1, 2024