ভারতীয় ক্রিকেট দল এই বছর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে (T20 WC 2026) চ্যাম্পিয়ন হয়ে ইতিহাস তৈরি করেছে। সূর্যকুমার যাদবরা (Suryakumar Yadav) লিখেছেন নতুন ইতিহাস। এই দলে ভারতীয় তরুণ ক্রিকেটারদের দাপট অব্যাহত ছিল। ঈশান কিষাণ (Ishan Kishan) থেকে সঞ্জু স্যামসনের (Sanju Samson) মতো ব্যাটসম্যান জ্বলে উঠেছিলেন। এছাড়া বল হাতে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন জসপ্রীত বুমরাহ (Jasprit Bumrah)। অন্যদিকে ভারতীয় এমন কিছু তারকা রয়েছেন তাদের সন্তানরাও ক্রিকেট মাঠে ঝড় তুলে নিজেদের প্রমাণ করেছেন। তবে সঞ্জয় বাঙ্গারের (Sanjay Bangar) সন্তান ক্রিকেট মাঠের বাইরে ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে চর্চায় থাকেন।
Read More: ডিপ ফেক ভিডিওর শিকার গৌতম গম্ভীর, আদালতে ২.৫ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ দাবি হেড কোচের !!
কঠিন লড়াই অনয়ার-

ভারতের প্রাক্তন ক্রিকেটার সঞ্জয় বাঙ্গারের সন্তান অনয়ার (Anaya Bangar) জীবনে কঠিন লড়াই করে নিজের আলাদা পরিচয় তৈরি করেছেন। তিনি বাহ্যিক পুরুষ শরীর নিয়ে জন্মালেও ভীতরে নারীত্বকে লালন-পালন করছিলেন। ফলে এক সময় সিদ্ধান্ত নেন লিঙ্গ পরিবর্তনের। কিন্তু এই প্রক্রিয়ায় তার লড়াই যথেষ্ট কঠিন ছিল। কারণ সমাজ অনেক দূরের কথা নিজের বাবা পর্যন্ত এই সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারেনি। সমস্ত চিকিৎসার খরচ অনায়া নিজে চালিয়েছিলেন।
২০২১ সালে লিঙ্গ পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেন। সেই মতো তিনি ‘হরমোনাল রিপ্লেসমেন্ট সার্জারি’ও করেন। দীর্ঘ ১০ মাসের প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আরিয়ান থেকে হয়ে উঠেছিলেন অনয়া। এই সময় পারিবারিক অশান্তির মধ্যে দিয়ে তিনি জীবনকে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন। একসময় সঞ্জয় বাঙ্গার নাকি স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন যে ক্রিকেটে আর তার কোনো জায়গা নেই। এবার সম্পূর্ণ নারী হয়ে ওঠার ক্ষেত্রে আরও একধাপ এগিয়ে গেলেন তিনি।
গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ অনয়ার-

‘হরমোনাল রিপ্লেসমেন্ট সার্জারি’র পর এবার ‘ভ্যাজিনোপ্লাস্টি’ করতে চলেছেন অনয়া। এই জটিল সার্জারির মাধ্যমে পুরুষাঙ্গ অপসারণ করে সেখানে কৃত্রিমভাবে যোনিপথ স্থাপন করা হবে। এই গোটা প্রক্রিয়ায় তিনি এবার বাবা সঞ্জয়কে সঙ্গে পেয়েছেন। চিকিৎসার সমস্ত খরচ প্রাক্তন ক্রিকেটার নিজে সামলাবেন। এই সিদ্ধান্ত নিয়ে উচ্ছ্বসিত অনয়া নিজেও।
তিনি সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বলেন, “মার্চে আমার লিঙ্গ নির্ণায়ক অস্ত্রোপ্রচার হতে চলেছে। এর আগে যাদের এই অস্ত্রোপ্রচার হয়েছে তাদের থেকে আমি অনেক সাহায্য পেয়েছি। থাইল্যান্ডের পুরো প্রক্রিয়াটি হবে। তারপর বিশ্রাম নিতে হবে বেশ কয়েক মাস। ছয় মাস আমি ক্রিকেট খেলতে পারবো না। কিন্তু আমি খুশি। এই মুহূর্তের জন্য আমি পাঁচ বছর অপেক্ষা করেছি।” সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর অনয়া বাঙ্গার নারী ক্রিকেট জায়গা করে নিতে পারেন কিনা এখন সেটাই দেখার বিষয়।