টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরুর আগেই মাঠের বাইরের বিতর্কে জড়িয়ে পড়েছে টুর্নামেন্ট। শুরু থেকেই বাংলাদেশের ভারতের মাটিতে ম্যাচ খেলা নিয়ে এক আপত্তি তৈরি হয়েছিল। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড ভারতের মাটিতে নিরাপত্তা জনিত সমস্যা দেখিয়ে না খেলার কথা জানিয়েছে। যে কারণে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিয়ে সংশয় এখনও কাটেনি। তবে সেই রেশ কাটতে না কাটতেই নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছেন আমেরিকার পেসার আলি খান (Ali Khan)। পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত এই ক্রিকেটারের ভারতীয় ভিসা আবেদন খারিজ হওয়ায় পর ক্রিকেট বিশ্বে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে।
আলি খানের ভিসা বাতিলে বিশ্বকাপের আগে নতুন প্রশ্ন

সামনেই বিশ্বকাপ, আর প্রতিটি দলকে ভারতে খেলতে হবে। সেই হিসাবে দল গুলির ভিসার প্রয়োজন পড়বে। USA’ ভারতের সঙ্গে একই গ্রুপে রয়েছে। আর সেই দলের সদস্য আলি খান (Ali Khan) নিজেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিসা না পাওয়ার খবর জানান। ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে তাঁর দেওয়া বার্তাটি দ্রুত ভাইরাল হয়ে ওঠে। মজার ছলে লেখা হলেও সেখানে স্পষ্ট হতাশার সুর- “ভারত ভিসা দিল না, কিন্তু জয়ের জন্য কেএফসিতে (আছি)।” এই এক লাইনের পোস্টই বিশ্বকাপের আগে আলোচনার আগুনে ঘি ঢেলে দিলো। যদিও, ভারত সরকার এই সিদ্ধান্তের কোনও কারণ প্রকাশ করেনি। এমনকি, আইসিসিও বিষয়টি নিয়ে কোনও মন্তব্য করেনি।
পাকিস্তানের পঞ্জাব প্রদেশের অ্যাটকে জন্ম হলেও আলি খান বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলেন। তাঁর পরিসংখ্যান আমেরিকা দলের অন্যতম সেরা বোলারের পরিচয় দেয়। ১৫টি ওয়ানডে ও ১৮টি টি-টোয়েন্টিতে ৪৯টি উইকেট নেওয়া এই পেসার ২০২৪ সালের বিশ্বকাপেও দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন। সম্প্রতি সময়ে ভারত ও পাকিস্তানের সম্পর্কের টানাপড়েনের জেরে পাকিস্তানের বাসিন্দাদের ভিসা দিচ্ছে না ভারত সরকার। প্রসঙ্গত, আলী খান ২০২৪’এর বিশ্বকাপে ঋষভ পন্থ, ফখর জামানদের মতন বড় বড় উইকেট তুলেছিলেন। ৭ ফেব্রুয়ারি মুম্বইয়ে ভারতের বিরুদ্ধে আমেরিকার প্রথম ম্যাচ। একই গ্রুপে রয়েছে পাকিস্তান, নেদারল্যান্ডস ও নামিবিয়াও।
শিঘ্রই ভিসা মঞ্জুর করা হবে

এই ম্যাচগুলোতে আমেরিকার সম্ভাবনা অনেকটাই নির্ভর করছে তাদের বোলিং শক্তির উপর। আলি খান না থাকলে সেই শক্তিতে বড় ফাঁক তৈরি হবে। নিয়ম অনুযায়ী, প্রথমবার ভিসা বাতিল হলে দ্বিতীয়বার আবেদনের সুযোগ রয়েছে। দ্বিতীয় আবেদন বাতিল হলে যুক্তরাষ্ট্র সরকার চাইলে হস্তক্ষেপ করতে পারে। সূত্রের খবর অনুযায়ী, আলি খান-সহ চার ক্রিকেটারের ভিসা আবেদন এখনও খারিজ হয়নি। বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং যথেষ্ট সময়ও হাতে আছে। সূত্রের দাবি, সরকারি স্তরে ভিসা বাতিলের কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। কেবলমাত্র পাকিস্তানি যোগ থাকার কারণে যাচাই প্রক্রিয়ায় কিছুটা বেশি সময় লাগছে। USA ব্যাতিত আরও অনেক দেশ রয়েছে যেখানে পাকিস্তানি যোগ রয়েছে। বুধবারের মধ্যেই ভিসা মঞ্জুর হতে পারে বলেও ইঙ্গিত মিলেছে। আপাতত শ্রীলঙ্কায় রয়েছে।