প্রথম ম্যাচেই গম্ভীরের মুখে চুনকালি, অপছন্দের খেলোয়াড়ই হয়ে উঠল টিম ইন্ডিয়ার ট্রাম্প কার্ড !! 1

প্রথম ম্যাচে আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রকে হারিয়ে বিশ্বকাপের শুভ সূচনা টি করে ফেলেছে টিম ইন্ডিয়া। তবে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ভারতের জয় সহজে আসেনি। গৌতম গাম্ভীরের তুরুপের তাসগুলি সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে। তবে, গম্ভীরের অপছন্দের খেলোয়াড় টিম ইন্ডিয়ার লজ্জা নিবারণ করিয়েছেন। সেই খেলোয়াড়টি হলেন দলের তারকা পেসার মোহাম্মদ সিরাজ (Mohammed Siraj)। ক্রিকেটে একটি ফোনকলই বদলে দিতে পারে পুরো কেরিয়ারের গতিপথ। মহম্মদ সিরাজের ক্ষেত্রে ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ঠিক সেটাই ঘটেছে। শুরুতে ভারতীয় দলে না থাকলেও অপ্রত্যাশিতভাবে সুযোগ পেয়ে এখন তিনি দলের অন্যতম ভরসা। বিশ্বকাপের প্রাথমিক স্কোয়াডে না থাকায় সিরাজ মানসিকভাবে প্রস্তুত ছিলেন বাস্তবতাকে মেনে নেওয়ার জন্য। গত দেড় বছরে টি-টোয়েন্টিতে নিয়মিত সুযোগ না পাওয়ায় তিনি ধরে নিয়েছিলেন, এই ফরম্যাটে তাঁর আর ভবিষ্যৎ নেই।

এই মানসিকতা নিয়েই তিনি ছুটির পরিকল্পনা করেন। রঞ্জি ট্রফি খেলার পর বিশ্রাম পাওয়ায় আইপিএল ২০২৬-এর আগে সময়টাকে নিজের জন্য রাখতে চেয়েছিলেন। ১৫ ফেব্রুয়ারি রিয়াল মাদ্রিদের ম্যাচ দেখতে যাওয়া, পরিবারের সঙ্গে রমজান পালন—সব মিলিয়ে পরিকল্পনা ছিল সাজানো। কিন্তু হর্ষিত রানার চোট সব হিসেব ওলটপালট করে দেয়। ভারতীয় দলে বিকল্প পেসারের প্রয়োজন দেখা দেয়। সেই মুহূর্তে টিম ম্যানেজমেন্ট ভরসা রাখে সিরাজের অভিজ্ঞতার ওপর। ফোনে সূর্যকুমারের কথা শুনে সিরাজ প্রথমে ভেবেছিলেন, তাঁর সঙ্গে রসিকতা করা হচ্ছে। “ব্যাগ গুছিয়ে নাও”—

Read More: ট্রফির আলোয় চাপা ব্যক্তিগত অধ্যায়, পলাশ প্রসঙ্গে ইঙ্গিতবাহী বার্তা স্মৃতির মায়ের !!

সূর্যকুমারের এক ফোনে বদলে গেল সিরাজের বিশ্বকাপ ভাগ্য

প্রথম ম্যাচেই গম্ভীরের মুখে চুনকালি, অপছন্দের খেলোয়াড়ই হয়ে উঠল টিম ইন্ডিয়ার ট্রাম্প কার্ড !! 2
Mohammed Siraj | Image: Getty Images

সিরাজের ক্ষেত্রে এই কথাটা বিশ্বাস করাই কঠিন ছিল। কারণ এতদিন তাঁকে টি-টোয়েন্টির বাইরে রাখা হয়েছিল। কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই বোঝা যায়, বিষয়টি একেবারেই বাস্তব। ছুটির সব পরিকল্পনা বাতিল করে দেশের ডাকে সাড়া দেন। এরপর বিশ্বকাপে তাঁর সুযোগ আসে আরও নাটকীয়ভাবে। যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ম্যাচে জসপ্রীত বুমরা অসুস্থ হওয়ায় একাদশে ঢোকেন সিরাজ। এই ম্যাচেই নিজের জাত চিনিয়ে দেন তিনি।

চার ওভারে ২৯ রান দিয়ে ৩ উইকেট—সংখ্যার বাইরেও তাঁর বোলিংয়ে ছিল আগ্রাসন ও নিয়ন্ত্রণের নিখুঁত মিশেল। নতুন বলে সুইং, মাঝের ওভারে চাপ তৈরি, শেষদিকে অভিজ্ঞতা—সব মিলিয়ে পূর্ণাঙ্গ প্যাকেজ। এখন সিরাজের সামনে বড় দায়িত্ব। শুধু এক ম্যাচ নয়, ধারাবাহিকভাবে ভালো খেলা। তাঁর লক্ষ্য স্পষ্ট—এই বিশ্বকাপে নিজের সেরা ক্রিকেটটা উপহার দেওয়া এবং ভারতকে পরপর দ্বিতীয়বার চ্যাম্পিয়ন করা।

Read Also: বয়কটের হুমকি থেকে সরে এসে ইউ-টার্ন, ১৫ ফেব্রুয়ারি টিম ইন্ডিয়ার মুখোমুখি হতে রাজি পাকিস্তান !!

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *