প্রায় তিন বছর পর ২০১৭ তে ইংল্যান্ডের সাথে সিরিজ দিয়ে জাতীয় দলে ফিরেন অলরাউন্ডার যুবরাজ সিং। ফিরেছিলেন স্মরনীয় ভাবে ই, দ্বিতীয় ম্যাচে ই খেলে ছিলেন ১৫০ রানের এক কাব্যিক ইনিংস। ফিরার পর থেকে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির গ্রুপ পর্যায়ের পাকিস্তানের সাথে ম্যাচ পর্যন্ত সব কিছু ভাল ই চলছিল। পাকিস্তানের ম্যাচের আগে একাদশ নির্বাচন নিয়ে যখন ভাবা হচ্ছিল তাকে একাদশে রাখা হবে কিনা তখন ই ৩২ বলে ৫৩ এক কার্যকরী ইনিংস খেলে পাকিস্তান কে হারিয়ে দেন এবং নির্বাচিত হন ম্যাচ সেরা হিসেবে। কিন্তু এই ইনিংসের পর থেকে ই রান খড়ায় ভুগতে থাকেন আইপিএলে রেকর্ড দামে বিক্রি হওয়া এই বাম হাতি আক্রমণাত্মক ব্যাটসম্যান। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির পাঁচ ইনিংস হতে রান করেন মাত্র ১০৫। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে এ ব্যর্থতা ছিল হতাশা ও অপ্রত্যাশিত। সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা হল ফাইনালে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ব্যর্থ হওয়া, ভারতের ইনিংস বিপর্যয়ে যখন তার দরকার ছিল একটি অসাধারন ইনিংস খেলা তখন তিনি মাত্র ২২ রানে আউট হয়ে পরাজয় কে ত্বরান্বিত ই করেছেন।

ধরনের অবস্থার পরও তাকে ওয়েস্ট উইন্ডিজ সফরে দলে রাখা হয়, কিন্তু তিনি আবারও ব্যর্থ হন। আহত হওয়ার আগ পর্যন্ত তিন ম্যাচে ১৯ গড়ে করেন মাত্র ৫৭ রান যা ভারতীয় দলের মিডল ওয়ার্ডারে বেমানান। এরপরে তার জায়গায় সুযোগ পান দিনেশ কার্তিক। ব্যান হাতে রান না পাওয়ার চেয়েও চোখে লেগেছে তার ব্যাটিং ধরন। ওয়েস্ট উইন্ডিজের পেস বোলিং এর সামনে একে বারে অসহায় ছিলেন যুবরাজ সিং। দলের জায়গা ধরে রাখার জন্য এই সিরিজে রান ছিল জুরুরী। তার এই ব্যর্থতার কারনে তাকে দল হতে বাদ দেওয়ার আলোচনায় অনেকে ই ছিলেন। “যুবরাজ তেমন খেলতে পারছে না যেমন তার থেকে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। আর এটা ই স্বাভাবিক, কারন তার বয়স হয়েছে। এ বয়সে খেলার জন্য যেমন ফিটনেস থাকা দরকার থাকা দরকার তা শারীরিক ও মানসিক কারনে অনেক সময় হয় না। শর্ট খেলার যেমন গতি, প্রকৃতি থাকা দরকার তাও এসময় হয় না ” – বলেছিলেন ৬৭ বছর বয়স্ক সাবেক উইকেট রক্ষক ব্যাটসম্যান ও সাবেক নির্বাচক কিরমানি।
একদিনের ২৯৫ ম্যাচে ৮৪৯৪ রান করা যুবরাজের ব্যাটিং গড় ৩৬.৭৭ যার মধ্যে শত রানের ইনিংস আছে ১৪টি আছে ৫২টি অর্ধ শতক। একদিনের ক্রিকেটে তার এই বিশাল অভিজ্ঞা তাকে দলে এখনো সুযোগ দিলেও এখন তার বিকল্প খুজে দেখা উচিত বলে মত দিয়েছিলেন কিরমানি। তার মতে কেবল অভিজ্ঞতার উপর ভরসা করে ই একজনের উপর বিশ্বাস রাখা উচিত নয়। ৮৮ টি টেস্ট ও ৪৯ টি একদিনের ম্যাচ খেলা সাবেক এই নির্বাচকের মতে যুবরাজের বদলে তরুণ প্রতিভাবান হিসেবে রিসাহব পান্ট বা অভিজ্ঞ সুরেশ রায়না কিংবা গৌতম গম্ভীরকে সুযোগ দেওয়া উচিত। যুবরাজের সাথে বাদ পড়েছেন দিনেশ কার্তিক। একাদশে নিয়মিত সুযোগ না পাওয়া রাহানে যখন সুযোগ পেলেই অসাধারন খেলেন তখন এ অবস্থায়য় বাদ পড়া ই স্বাভাবিক ছিল যুবরাজের জন্য।
  • SHARE
    A Cricket enthusiast who is pursuing his passion.

    আরও পড়ুন

    বাবা হলেন এই ভারতীয় ক্রিকেটার

    বাবা হলেন ভারতীয় ক্রিকেটের মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান চেতেশ্বর পুজারা। এক কন্যা সন্তানের পিতা হলেন তিনি। আর সে...

    ত্রিদেশীয় সিরিজের জন্য ভারতীয় দল ঘোষণা!

    শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত ট্রাই সিরিজ নিদাহাস ট্রফি জন্য ভারতীয় দল ঘোষণা করল বিসিসিআই। কেমন হল দল একবার দেখে...

    ধোনির দিন শেষ? কি বললেন সৌরভ

    ধোনির দিন শেষ? কি বললেন সৌরভ
    সেই কবেই নেভিল কার্ডাস বলে গেছেন ওয়ান ডে ক্রিকেটে পাজামা ক্রিকেট বলে। ওয়ান ডে ক্রিকেটের জামানায় টেস্ট...

    জয়ের সমস্ত কৃতিত্বই ওর : রোহিত শর্মা

    দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে টি২০ সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে হারার পর ভারতীয় দল আরও দারুণভাবে ফিরে এসে সেঞ্চুরিয়ানের সুপার...

    বিরাটের কাছেই স্পিন খেলা শিখেছি: স্টিভ স্মিথ

    বিরাটের কাছেই স্পিন খেলা শিখেছি: স্টিভ স্মিথ
    বিশ্ব ক্রিকেটে এই মুহুর্তে তাদের মধ্যে চলছে শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই। তা সত্ত্বেও এই দুজনের মধ্যে একে অপরকে সম্মান...