লর্ডসের ঐতিহাসিক মাঠে আজ বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচ নিউজিল্যান্ড আর ঘরের দল ইংল্যান্ডের মধ্যে খেলা হয়েছে। যেখানে কিউয়ি দল টসে জিতে প্রথমে ব্যাট করে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ২৪১/৮ রান করে। দলের হয়ে হেনরি নিকোলস সবচেয়ে বেশি ৫৫ রান করেন। ইংল্যান্ডের হয়ে ক্রিস ওকস আর লিয়াম প্ল্যাংকেট সবচেয়ে বেশি ৩টি করে উইকেট নেন।
ইংল্যান্ডের সামনে এই ম্যাচ জেতার জন্য মাত্র ২৪২ রানের লক্ষ্য ছিল। এই ম্যাচ ভীষণই রোমাঞ্চকর দেখতে পাওয়া গেছে। শেষ ওভারে ইংল্যাণ্ডের ১৫ রানের প্রয়োজন ছিল কিন্তু ম্যাচ টাই হয় আর সুপার ওভারে পৌঁছে যায়। সুপার ওভারে ইংল্যান্ড প্রথমে ব্যাট করে ১৫ রান করে নিউজিল্যান্ডের সামনে জোফ্রা আর্চারের ওভারে ১৬ রানের দরকার ছিল। কিন্তু কিউয়িরা মাত্র ১৫ রানই করতে পারে আর ইংল্যান্ড খেতাব জিতে নেয়।
এক নজর দেখে নেওয়া যাক আজকের ম্যাচে হওয়া কিছু গুরুত্বপূর্ণ রেকর্ডস:
১. ইংল্যাণ্ডের জোরে বোলার মার্ক উডের এটি ৫০তম একদিনের ম্যাচ ছিল।
২. কেন উইলিয়ামসন (২৮ বছর ৩৪০ দিন) বিশ্বকাপ ফাইনালে নেতৃত্ব করা তৃতীয় সবচেয়ে তরুণ খেলোয়াড় হলেন। প্রথম কপিল দেব (২৪ বছর ১৭০ দিন, ১৯৮৩ বিশ্বকাপ) দ্বিতীয়স্থানে রিকি পন্টিং (২৮ বছর ৯৪ দিন, ২০০৩ বিশ্বকাপ) রয়েছেন।
৩. কেন উইলিয়ামসন (৫৭৮) কোনো একটি বিশ্বকাপে অধিনায়ক হিসেবে সবচেয়ে বেশি রান করা খেলোয়ড় হলেন। গত রেকর্ড মাহেলা জয়বর্ধনের (৫৪৮, ২০০৭ বিশ্বকাপ) নামে ছিল।
৪. হেনরি নিকোলস (৫৫) নিউজিল্যাণ্ডের হয়ে বিশ্বকাপ ফাইনালে হাফসেঞ্চুরি করা দ্বিতীয় খেলোয়াড় হলেন। প্রথমস্থানে রয়েছেন গ্র্যান্ট এলিয়ট (৮৩ বনাম অস্ট্রেলিয়া ২০১৫)।
৫. এই ম্যাচে ক্রিস ওকস (৩/৩৪) আর লিয়াম প্ল্যাংকেট (৩/৪২) তিনটি করে উইকেট নেন। বিশ্বকাপ ফাইনালে এটি সপ্তমবার যখন কোনো একটি দলের দুই খেলোয়াড় তিনটি করে উইকেট নিয়েছেন।
৬. লিয়াম প্ল্যাংকেট (৩৪ বছর ৯৯দিন) বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচে সবচেয়ে বেশি বয়েসে তিন উইকেট নেওয়া বোলার হয়েছেন।
৭. জোফ্রা আর্চার (২০) কোনো একটি বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের হয়ে সবচেয়ে বেশি উইকেট নেওয়া বোলার হয়েছেন। জোফ্রা আর্চারের পর মার্ক উড (১৮টি উইকেট – ২০১৯), ক্রিস ওকস (১৬টি উইকেট – ২০১৯, ইয়ান বোথাম (১৬টি উইকেট -১৯৯২) আর অ্যাণ্ড্রু ফ্লিনটফ (১৪ উইকেট – ২০০৭) এর নাম আসে।
৮. রস টেলর (১০০২) একদিনের বিশ্বকাপে নিজের এক হাজার রান পূর্ণ করেছেন। এই বড়ো রেকর্ড গড়া রস টেলর বিশ্বের ২১তম আর নিউজিল্যাণ্ড মাত্র দ্বিতীয় খেলোয়াড় হয়েছেন। নিউজিল্যাণ্ডের হয়ে স্টিফেন ফ্লেমিং ১০৭৫ রান করেছেন।
৯. লিয়াম প্ল্যাংকেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজের ২০০ উইকেট পূর্ণ করলেন। প্ল্যাংকেট এখনো পর্যন্ত ১২৩টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে ২০১টি উইকেট নিয়েছেন।
১০. জনি বেয়রস্টো (৫৩২) এই টুর্নামেন্টে ইংল্যান্ডের হয়ে ৫০০ রান করা মাত্র দ্বিতীয় ব্যাটসম্যান হয়েছেন। জনি বেয়রস্টোর আগে জো রুট ৫৫৬ রান করেছেন।
১১. বেন স্টোকস আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজের ৬ হাজার রান পূর্ণ করেছেন।
১২. বেন স্টোকস কোনো একটি বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের হয়ে ৪০০+ রান আর পাঁচ প্লাস উইকেট নেওয়া প্রথম খেলোয়াড় হলেন।
১৩. এই ম্যাচে জোস বাটলার আর বেন স্টোকস ৫ এবং ৬ নম্বরে ব্যাট করে হাফ সেঞ্চুরি করেছেন। বিশ্বকাপের নকআউট ম্যাচে এটা মাত্র দ্বিতীয় এমনবার যখন লক্ষ্য তাড়া করে ৫ আর ৬ নম্বর ব্যাটসম্যান হাফসেঞ্চুরি করলেন। এর আগে গ্র্যান্ট এলিয়ট আর কোরি অ্যাণ্ডারসন ২০১৫ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে এই রেকর্ড করেছেন।
১৪. ৪৪ বছরের বিশ্বকাপের ইতিহাসে ইংল্যাণ্ড প্রথমবার বিশ্বকাপ জিততে সফল হয়েছে।
১৫. ইয়োন মর্গ্যান ইংল্যাণ্ডের হয়ে একদিনের বিশ্বকাপ জেতা প্রথম অধিনায়ক হলেন।
১৬. লাকি ফার্গুসন (২১) কোনো একটি বিশ্বকাপে নিউজিল্যান্ডের হয়ে সবচেয়ে বেশি উইকেট নেওয়া দ্বিতীয় বোলার হয়েছেন। প্রথম স্থানে রয়েছে ট্রেন্ট বোল্ট (২২, ২০১৫ বিশ্বকাপ)।
১৭. এই ম্যাচে সুপার ওভারে যায়, একদিনের আর বিশ্বকাপের ইতিহাসে এটা প্রথম সুপার ওভার ম্যাচ ছিল।