৫টি ম্যাচ, যখন মজবুত দলকে কমজুরি দলগুলিকে উলটফের করে হারিয়ে দিয়েছিল

ক্রিকেট এমন একটা খেলা যেখানে প্রায় দিনই উলটফের হয়। বেশ কয়েকবার ক্রিকেটে এমন হয়েছে যে কমজুরি দল শক্তিশালী দলগুলিকে হারিয়ে দিয়েছে। আজ আমরাও আমাদের এই বিশেষ প্রতিবেদনে ক্রিকেট ইতিহাসের এমন ৫টি ঘটনার ব্যাপারে জানাতে চলেছি যখন শীর্ষে থাকা দল কমজুরি দলের সামনে অসহায় আত্মসমর্পণ করে দিয়েছিল।

বাংলাদেশ ভারতকে বিশ্বকাপ ২০০৭ এ হারিয়েছিল

৫টি ম্যাচ, যখন মজবুত দলকে কমজুরি দলগুলিকে উলটফের করে হারিয়ে দিয়েছিল 1

ভারতের বিশ্বকাপ ইতিহাসের যদি সবচেয়ে লজ্জাজনক হারে রকথা বলা হয় তো নিশ্চিতভাবেই তা ২০০৭ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের কাছে পাওয়া হারই হবে। ১৭ মার্চ ২০০৭ এ খেলা হওয়া এই ম্যাচে ভারত্র দল বাংলাদেহসের হাতে ৯ বল বাকি থাকতে ৫ উইকেটে হেরেছিল। এই হার কোটি কোটি ভারতীয় ক্রিকেট সমর্থকদের চোখ ভিজিয়ে দিয়েছিল। টুর্নামেন্টে আগে যাওয়ার জন্য ভারতের এই ম্যাচ জেতা জরুরী ছিল। শচীন, সেহবাগ, গাঙ্গুলী, যুবরাজ, ধোনি, দ্রাবিড় আর উথাপ্পার মতো বড়ো বড়ো ব্যাটসম্যানদের নিয়ে সজ্জিত টিম ইন্ডিয়া প্রথমে ব্যাট করে ৪৯.৩ ওভারে ১৯১ রানে অলআউট হয়ে গিয়েছিল। জবাবে বাংলাদেশ ৪৮.৩ ওভারে মোট ৫ উইকেট হারিয়ে এই লক্ষ্য হাসিল করে নেয় আর না শুধু একটা বড় জয় হাসিল করে বরং ভারতকেও প্রথম রাউন্ড থেকে ছিটকে দেয়। এটা ভারতীয় ক্রিকেট ইতিহাসের ভীষণই লজ্জাজনক মুহূর্ত ছিল।

১৯৯২ বিশ্বকাপে জিম্বাবোয়ে হারিয়ে দিয়েছে ইংল্যান্ডকে

৫টি ম্যাচ, যখন মজবুত দলকে কমজুরি দলগুলিকে উলটফের করে হারিয়ে দিয়েছিল 2

১৯৯২ ক্রিকেট বিশ্বকাপের ৩৫তম লীগ ম্যাচ ইংল্যান্ড আর জিম্বাবোয়ের মধ্যে খেলা হয়েছিল। ইংল্যান্ড দ্বারা জিম্বাবোয়ের দলকে প্রথমে ব্যাটিংয়ের জন্য বলা হয়। জিম্বাবোয়ের দল ৪৬.১ ওভারে মাত্র ১৩৪ রানে অলআউট হয়ে যায়। কেবল অধিনায়ক ডেভ হিউটন (২৯) আর ইয়ান বুচরট (২৪) ওই ইনিংসে ২০ রানের সংখ্যা পার করতে পেরেছিলেন। ইংল্যান্ডের বোলার ইয়ান বোথাম (৩/২৩) আর রিচার্ড ইলিংওয়ার্থ (৩/৩৩) দুজনে তিনটি করে উইকেট নিয়েছিলেন। জবাবে জিম্বাবোয়ের ডানহাতি জোরে বোলার এডডো ব্রেন্ডসের অবিশ্বসনীয় প্রদর্শন ইংল্যান্ডের দলকে ৪৯.১ ওভারে মাত্র ১২৫ রানে অলআউট করে দেয়।

আয়ারল্যান্ড পাকিস্তানকে বিশ্বকাপ ২০০৭ এ হারিয়েছিল

৫টি ম্যাচ, যখন মজবুত দলকে কমজুরি দলগুলিকে উলটফের করে হারিয়ে দিয়েছিল 3

২০০৭এর বিশ্বকাপে ১৭ মার্চ আয়ারল্যাণ্ড আর পাকিস্তানের মধ্যে ম্যাচ খেলা হয়েছিল। এই ম্যাচকে আয়ারল্যান্ড ৩ উইকেটের ব্যবধানে জিতে নিয়েছিল। পাকিস্তানের দল জোরে বোলার বায়ড র্যা্নকিনের ধারালো বোলিংয়ের সামনে ১৩২ রানে অলআউট হয়ে গিয়েছিল। আয়ারল্যান্ডের দল এর জবাবে ১৫ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে ফেলে, কিন্তু নীল ও ব্রায়ানের ৭২ রানের ইনিংসের সৌজন্যে দল লক্ষ্যের কাছে পৌঁছে যায় আর অবসর নিয়ে ফেলা অধিনায়ক ট্রেন্ট জন্সটন আজহার মহমুদের বলে ছক্কা মেরে দলকে জিতিয়ে দেন। পাকিস্তানের দলকে এই হারের কারণে বিশ্বকাপের প্রথম চরণ থেকেই ছিটকে যেতে হয়। এই হার পাকিস্তানের ক্রিকেট ইতিহাসের একটি লজ্জাজনক হার ছিল।

২০০৩ বিশ্বকাপে কেনিয়া শ্রীলঙ্কাকে হারিয়েছে

৫টি ম্যাচ, যখন মজবুত দলকে কমজুরি দলগুলিকে উলটফের করে হারিয়ে দিয়েছিল 4

এটা আইসিসি ক্রিকেট বিশ্বকাপ ২০০৩ এর পুল বি-র ম্যাচ ছিল, যেখানে ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০০৩এ শ্রীলঙ্কা নাইরোবিতে আয়োজক কেনিয়ার মুখোমুখি হয়েছিল। এই ম্যাচের আগে শ্রীলঙ্কা ওই টুর্নামেন্টে নিজেদের তিনটি ম্যাচের সবকটি জিতেছিল আর তাও কর্তৃত্ব সহকারে। শ্রীলঙ্কা কেনিয়ার দলকে প্রথমে ব্যাট করার আমন্ত্রণ জানায়, আর আয়োজক দল নির্ধারিত ৫০ ওভারে ২১০/৯ রানই করতে পারে। ওপেনিং ব্যাটসম্যান আর উইকেটকিপার কেনেডি অটিনো ৮৮ বলে ৬০ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেন। শ্রীলঙ্কার অফ স্পিনার মুথাইয়া মুরলীধরণ ৪/২৮ আর বাঁ হাতি জোরে বোলার চামিন্ডা ভাস ৩/৪১ উইকেট নেন। জবাবে শ্রীলঙ্কা নিয়মিত ব্যবধানে উইকেট হারাতে থাকে আর ৪৫ ওভারে তারা মাত্র ১৫৭ রান করে অলআউট হয়ে যায়। সিনিয়র ক্রিকেটার অরবিন্দ ডি’সিলভা (৪১) ছাড়া আর সমস্ত শ্রীলঙ্কান ব্যাটসম্যান সেই ইনিংসে ৩০ রান পর্যন্ত পৌঁছতে ব্যর্থ হন।

আয়ারল্যান্ড ইংল্যান্ডকে বিশ্বকাপ ২০১১য় হারিয়েছে

৫টি ম্যাচ, যখন মজবুত দলকে কমজুরি দলগুলিকে উলটফের করে হারিয়ে দিয়েছিল 5

বিশ্বকাপ ২০১১য় গ্রুপ বি-র একটি ম্যাচ ইংল্যান্ড আর আয়ারল্যাণ্ডের মধ্যে খেলা হয়। এই ম্যাচের আগে সমস্ত ক্রিকেট পণ্ডিতরা ইংল্যান্ডের জেতার ভবিষ্যতবাণী করছিলেন, কিন্তু সকলকে চমকে দিয়ে এই ম্যাচ আয়ারল্যান্ড ৫ বল বাকি থাকতে ৩ উইকেটে জিতে নেয়। আসলে এই ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করে ইংল্যান্ডের দল নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ৩২৭ রানের বিশাল স্কোর করে। এই লক্ষ্যকে আয়ারল্যাণ্ড কেভিন ও’ব্রায়ানের ৬৩ বলে ১১৩ রানের ঝোড়ো সেঞ্চুরির দমে ৩ উইকেট বাকি থাকতে হাসিল করে নেয়। এই জয় আয়ারল্যাণ্ড ক্রিকেটের ইতিহাসের সবচেয়ে স্মরণীয় জয়। অন্যদিকে ইংল্যান্ডের ক্রিকেট ইতিহাসে সবচেয়ে লজ্জাজনক হার।

suvendu debnath

কবি, সাংবাদিক এবং গদ্যকার। শচীন তেন্ডুলকর, ব্রায়ান লারার অন্ধ ভক্ত। ক্রিকেটের...

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *