মাঠের মধ্যে আবেগ দেখানো আর মহেন্দ্র সিং ধোনি এ দুটোই কখনো সমার্থক হতে পারে না। ভারতীয় ক্রিকেটের সব থেকে সফল এবং গোছানো এই অধিনায়ক প্রায় এক যুগ ধরে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে এক ক্রিকেট পাগল জাতিকে আনন্দ দিয়ে গেছেন। খুব কমই তাকে মাঠের মধ্যে রাগ বা আবেগ দেখাতে দেখেছে মানুষ। মাঠের মধ্যে তার শান্ত এবং নির্লিপ্ত স্বাভাবের জন্যই তিনি আম জনতার কাছে ক্যাপ্টেন কুল হিসেবে পরিচিত। মানুষের কাছে ধোনির পরিচিতি ঘাড়ের উপর তার বরফ শীতল মস্তিস্কের জন্যই।
তা সত্ত্বেও সেই সময় ধোনি নিজের চোখের জল আটকে রাখতে পারেন নি, যখন দীর্ঘ ২৮ বছর প্রতীক্ষার পর নীল জার্সি ধারি তার দল ক্রিকেটের হোলি গ্রেল বলে পরিচিত ওয়ার্ল্ড কাপে জিত হাসিল করেছিল। মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামের সেই বিখ্যাত রাতে ফাইনালে শ্রীলঙ্কাকে ৬ উইকেটে হারিয়ে ব্যাট হাতে ধোনি সকলের নয়নের মনি হয়ে উঠেছিলেন। ২৭৪ রানের চ্যালেঞ্জ তাড়া করতে গিয়ে লাসিথ মালিঙ্গার বলে ফর্মে থাকা ভারতের দুই ওপেনার বীরেন্দ্র সেহবাগ এবং শচীন তেন্ডুলকর তাড়াতাড়ি ফিরে যাওয়ায়, ভারত সেই সময় শ্রীলঙ্কার দুঃসাধ্য প্রাচীর ভেদ করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিল। যদিও গৌতম গম্ভীর ৯৭ রানের দুরন্ত ইনিংস খেলে ভারতের জয়ের আশা বাড়িয়ে তুলেছিলেন। সেখান থেকে দলের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়ে ৯১ রানের বিশাল ইনিংস খেলে, একটা দুরন্ত ছক্কা হাঁকিয়ে ভারতকে ঘরের মাঠে ওয়ার্ল্ডকাপ জেতার স্বাদ দিয়েছিলেন ধোনি। শেষ শটটি নেওয়ার সংগে সংগে তার সতীর্থরা ধোনিকে জড়িয়ে ধরে। তাদের অনেকেই সেদিন চোখের জল আটকে রাখতে পারেন নি। অন্যদিকে ধোনি ছিলেন পরিচিত নির্লিপ্ত ভঙ্গিতে। এবং সেই মুহুর্তে তিনি তেমনই আচরণ করছিলেন যেমন য়ার পাঁচটা দিন করে থাকেন। তবে সম্প্রতি রাজদীপ সরদেশাই তার নতুন বই ‘ডেমক্রসি XI’ এ প্রকাশ করেছেন যে সেদিন ধোনিও নিজের চোখের জল ধরে রাখতে পারেন নি। তবে সেই মুহুর্তটি ধরে রাখতে ব্যর্থ হয় ক্যামেরা। এবং ভারত অধিনায়ক সে কথা নিজেও বহুবার স্বীকার করেছেন। এই বই অনুসারে বলেছেন যে যখন হরভজন সিং তাকে জড়িয়ে ধরেন সেই মুহুর্তে তিনিও চোখের জল সামলাতে পারেন নি। কেঁদে ফেলেছিলেন তিনি। ওই বইটিতে ধোনিকে কোট করে লেখা হয়েছে, “ হ্যাঁ, আমিও কেঁদে ফেলেছিলাম, কিন্তু ক্যামেরায় সেই মুহুর্তটি ধরা পড়ে নি। স্বভাবিকভাবেই আমি ভীষণ উত্তেজিত ছিলাম, তা সত্ত্বেও আমি নিজের আবেগকে আটকে রেখেছিলাম। কিন্তু হরজন কাঁদতে কাঁদতে আমাকে জড়িয়ে ধরার পর আমি আর নিজেকে সামলাতে পারি নি। ঠিক সেই সময়েই আমার চোখ জলে ভরে যায়। কিন্তু তখনই আমি মাথা নীচু করে ফেলি যাতে কেউ আমাকে কাঁদতে না দেখে”।

  • SHARE
    সাংবাদিক, আদ্যন্ত ক্রীড়াপ্রেমী। দ্বিতীয় ডিভিসনে দীর্ঘদিন ক্রিকেট খেলার দরুণ ক্রিকেটের অন্ধ ভক্ত। ব্রায়ান লারা সচিনের অন্ধ ভক্ত। ক্রিকেটের বাইরে ব্রাজিলের সমর্থক এবং নেইমার ও মেসির অন্ধ ভক্ত।

    আরও পড়ুন

    রশিদ খানকে নিয়ে উঠল ভারতীয় নাগরিকত্ব দেওয়ার দাবী, সুষমা স্বরাজ দিলেন এই মজাদার জবাব

    রশিদ খানকে নিয়ে উঠল ভারতীয় নাগরিকত্ব দেওয়ার দাবী, সুষমা স্বরাজ দিলেন এই মজাদার জবাব
    আফগানিস্থানের তরুণ স্পিনার রশিদ খান গতকালের খেলা দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার ম্যাচে দুরন্ত প্রদর্শন করার পর তাকে ভারতীয় নাগরিকত্ব...

    ছবি: হায়দ্রাবাদ ফাইনালে পৌঁছনো মাত্রই একে অপরকে কিস করতে শুরু করেন ভুবি এবং ধবনের স্ত্রী, ভাইরাল হল ছবি

    ছবি: হায়দ্রাবাদ ফাইনালে পৌঁছনো মাত্রই একে অপরকে কিস করতে শুরু করেন ভুবি এবং ধবনের স্ত্রী, ভাইরাল হল ছবি
    আফগানিস্থানের স্পিনার রশিদ খান সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের হয়ে দুরন্ত প্রদর্শন করে শুক্রবার অনুষ্ঠিত হওয়া আইপিএলের এলিমিনেটর ২ এর...

    ম্যাচ জেতার পর কেন উইলিয়ামসন শিখর ধবন বা ভুবনেশ্বর কুমার নয় এই ক্রিকেটারকে দিলেন জেতার শ্রেয়

    ম্যাচ জেতার পর কেন উইলিয়ামসন শিখর ধবন বা ভুবনেশ্বর কুমার নয় এই ক্রিকেটারকে দিলেন জেতার শ্রেয়
    কলকাতার ইডেন গার্ডেনে সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ এবং কলকাতা নাইট রাইডার্সের মধ্যে চলতি আইপিএলের দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারের ম্যাচ গতকাল অনুষ্ঠিত...

    সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের বিরুদ্ধে হারের পরে সরাসরি এই দুই ক্রিকেটারকে কাঠগড়ায় তুললেন কেকেআর অধিনায়ক দীনেশ কার্তিক

    সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের বিরুদ্ধে হারের পরে সরাসরি এই দুই ক্রিকেটারকে কাঠগড়ায় তুললেন কেকেআর অধিনায়ক দীনেশ কার্তিক
    গতকাল ইডেনে কোয়ালিফায়ার ২ ম্যাচে কলকাতা নাইট রাইডার্সের মুখোমুখি হয়েছিল সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ। প্রথমে টস জিতে কেকেআর অধিনায়ক...

    রেকর্ড: ইতিহাস সৃষ্টি করে শিখর ধবন নিজের নামে করলেই এই দুর্দান্ত রেকর্ড

    রেকর্ড: ইতিহাস সৃষ্টি করে শিখর ধবন নিজের নামে করলেই এই দুর্দান্ত রেকর্ড
    সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ এবং কলকাতা নাইট রাইডার্সের মধ্যে চলা দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারের ম্যাচে শিখর ধবন এক নতুন উপলব্ধী নিজের...