আমাদের উচিৎ উইকেট ছুঁড়ে দিয়ে আসা নিয়ে সচেতন হওয়া: বিরাট

আরসিবির বিরুদ্ধে ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত আইপিএলের ত্রয়োদশতম ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত মুম্বাইয়ের জন্য একপেশে ম্যাচে পরিণত হল। বিরাটদের উড়িয়ে রোহিত শর্মার ছেলেরা এই ম্যাচ ৪৬ রানে জিতে নেয়। এই ম্যাচ মুম্বাইয়ের পক্ষে একপেশে হলেও দর্শকঠাসা ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে ব্যাট হাতে দুই দলের অধিনায়কই দর্শকদের মনোরঞ্জন করেন। এই উইকেট ব্যাটিং স্বর্গে টস জিতে আগে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেন আরসিবি অধিনায়ক বিরাট কোহলি। প্রথমে ব্যাট করতে নেমে মুম্বাইয়ের শুরুটা কিন্তু মোটেই ভাল হয় নি। বল হাতে প্রথমেই ভয়ংকর হয়ে ওঠেন আরসিবির জোরে বোলার উমেশ যাদব। প্রথম ওভারের প্রথম দু বলেই তিনি মুম্বাইয়ের দুই ওপেনার সূর্যকুমার যাদব এবং ঈশান কিষাণকে তুলে নিয়ে মুম্বাইকে প্রাথমিক ধাক্কা দেন। কিন্তু এখান থেকেই দলকে টেনে তোলার দায়ভার কাঁধে তুলে নেন অধিনায়ক রোহিত শর্মা এবং এভিন লুইস। এই দুজনেই ব্যাট হাতে দুরন্ত পারফর্মেন্স করে ভয়ডরহীন ব্যাটিং প্রদর্শন দেখান।

আমাদের উচিৎ উইকেট ছুঁড়ে দিয়ে আসা নিয়ে সচেতন হওয়া: বিরাট 1

আশ্চর্যরকমভাবে পারফর্মেন্স দেখিয়ে ই দুই ব্যাটসম্যান মুম্বাইয়ে হয়ে ১০৮ রানের পার্টনারশিপ গড়েন। যা মুম্বাইকে প্রাথমিক বিপর্যয় থেকে তুলে আনে। এরপরই আরসিবির বোলার কোরি অ্যাণ্ডারসন লুইসকে তুলে নিয়ে এই জুটির অবসান ঘটান। কিন্তু নিজের ব্যাটিং গিয়ারের পরিবর্তন করেন নি রোহিত। একই রকমভাবে খেলে রোহিত ৯৪ রানের ইনিংস খেলেন ১০টি চার এবং পাঁচটি বিশাল ছয়ের সাহায্যে। মূলত রোহিতের ব্যাটে ভর করেই ২১৩ রানের বিশাল লক্ষ্যমাত্রা দাঁড় করায় মুম্বাই। মুম্বাইয়ের রান তাড়া করতে নেমে আরসিবির শুরুটা দারুণ হয়। এই ম্যাচে নিজেকে উপরের দিকে তুলে এনে ওপেন করতে নামেন অধিনায়ক কোহলি। দুই ওপেনার কোহলি এবং কুইন্টন ডি’কক প্রথম থেকেই চালিয়ে খেলতে শুরু করেন। কিন্তু দুই ওপেনারের জুটি বেশিক্ষন স্থায়ী হয় নি। মুম্বাইয়ের জোরে বোলার মিচেল ম্যাকলেনাঘন দ্রুতই তুলে নেন ডি’কককে, যার পরেই তাসের ঘরের মত ভেঙে পড়ে আরসিবির ব্যাটিং লাইনআপ। আগের ম্যাচেই ফর্মে ফেরার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন অধিনায়ক বিরাট। এই ম্যাচে নিজের ফর্ম বজায় রেখে নিজের ব্যাটিং শৈলীর প্রদশর্ন করেন তিনি।

আমাদের উচিৎ উইকেট ছুঁড়ে দিয়ে আসা নিয়ে সচেতন হওয়া: বিরাট 2

কিন্তু অন্যদিক থেকে ক্রমাগত উইকেট পড়তে থাকায় বিরাটের একার লড়াই কোনও কাজেই আসে নি। ৩ নম্বরে নেমে ডেভিলিয়র্স প্রথম থেকেই চালিয়ে খেলতে থাকেন। কিন্তু ম্যাকলেনাঘন ডি’কককে তুলে নেওয়ার পর ওই একই ওভারে ডেভিলিয়র্সকেও তুলে নেন। শেষ পর্যন্ত উইকেটে টিকে থেকে ৯২ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন বিরাট যার ফলে এই ম্যাচে অরেঞ্জ ক্যাপও ছিনিয়ে নেন তিনি আইপিএলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রান করে।

আমাদের উচিৎ উইকেট ছুঁড়ে দিয়ে আসা নিয়ে সচেতন হওয়া: বিরাট 3

ম্যাচ শেষে হতাশ আরসিবি অধিনায়ক কোহলি বলেন, “ যতদূর মুম্বাইয়ের কথা ধরা যায়, এটা একটা দারুণ ক্রিকেট ম্যাচ ছিল। এই মুহুর্তে এটা পরার (অরেঞ্জ ক্যাপ) মত কিছু আমি অনুভব করছি না, কারণ এটা সত্যিই আমার কাছে কিছু ম্যাটার করে না। আমরা একটা দারুণ শুরুয়াত করেছিলাম, কিন্ত আমরা শুধুমাত্র এটা ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে এলাম, এবং আমাদের প্রয়োজন নিজেদের আউট হয়ে যাওয়ার প্রতি সচেতন হওয়া। আমরা জানতাম মাঠে খানিকটা শিশির থাকবে, আপনাদের ৪০-৪৫ রান নয় আমাদের দরকার ছিল ৮০-৮৫ রান। শেষ দিকে নিশ্চিত করার ব্যাপার ছিল যে রানরেট যাতে বেড়ে না যায়; কিন্তু মুম্বাইয়ের কৃতিত্ব কারণ ওরা সত্যিই দারুণ বল করেছে। আমরা কোনও সুযোগই পাইনি, আমরা এলাকার মধ্যেই বল করেছি, আমরা ভেবেছিলাম ভালই হবে কিন্তু ওরা খুব ভালো কাউন্টার অ্যাটাক করেছে। যখন আপনার পিঠ দেওয়ালে থেকে যায়, তখন আপনি এরকম একটা পারফর্মেন্সের মাধ্যমে ফিরে আসার চেষ্টা করেন, এবং সেটাই ওরা করেছে। এমনকী ওদের দুই উইকেট পড়ে যাওয়ার পরও ওরা স্থিতিস্থাপকতা দেখিয়েছে, যেভাবে একটা ভালো দল দেখায়। আমরা আমাদের সর্বতভাবেই চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমর মাঝের দিকে শুধু মাত্রা কোনও উইকেটই তুলে নিতে পারি নি”।

আমাদের উচিৎ উইকেট ছুঁড়ে দিয়ে আসা নিয়ে সচেতন হওয়া: বিরাট 4

suvendu debnath

কবি, সাংবাদিক এবং গদ্যকার। শচীন তেন্ডুলকর, ব্রায়ান লারার অন্ধ ভক্ত। ক্রিকেটের...

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *