ভারতীয় দলের সাম্প্রতিক সাফল্য়ের কৃতিত্ব সবাইকে দিলেন সহ-অধিনায়ক রোহিত 1

সীমিত ওভারের ক্রিকেটে ভারতীয় দলের সহ-অধিনায়ক রোহিত শর্মা সতীর্থদের প্রশংসা করেছেন। মুম্বইতে একটি বাণিজ্য়িক সংস্থার উদ্বোধনী ইভেন্টে এসেছিলেন হিটম্য়ান। সেখানেই তাঁকে ভারতীয় দলের সাম্প্রতিক ভালো ফর্মের কারণ জানতে চান সাংবাদিকরা। কোনও রকম ভাবনা-চিন্তা না করেই, রোহিত সটান জবাব দেন, ভারতীয় দলের সব ক্রিকেটারদের এজন্য় কৃতিত্ব দিতে হবে। যেভাবে আমরা এখন ক্রিকেট খেলছি, তার কৃতিত্ব দলের সকলের। কারণ, দেশের হয়ে ক্রিকেট খেলো বা কোনও শহরের হয়ে ক্রিকেট খেলো, ম্য়াচ জেতা কখনই সহজ কাজ নয়। আমরা টানা ছটি সিরিজ জিতেছি। কারণ, আমরা একটা দল হিসেবে খেলেছি।

সম্প্রতি ভারত অস্ট্রেলিয়াকে পাঁচ ম্য়াচের একদিনের সিরিজে হারিয়েছে। টানা ছটি সিরিজে ভারত অপরাজিত। ইংল্য়ান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, শ্রীলঙ্কা, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্য়ান্ড ও জিম্বাবোয়েকে এই পর্বে হারিয়েছে ভারত।

এবছরের গোড়ার দিকে সীমিত ওভারের ক্রিকেটে আবার অধিনায়ক বদল হয়েছে। ভবিষ্য়তের কথা ভেবে মহেন্দ্র সিং ধোনি নেতৃত্বের ভার বিরাটর হাতে তুলে দিয়েছেন। বিরাটের নেতৃত্বে ভারতের বিজর রথ এগিয়ে চলেছে দ্বিপাক্ষিক সিরিজে।

সীমিত ওভারের ক্রিকেটে বিরাটের হাতে নেতৃত্ব ওঠার পর ভবিষ্য়ত অধিনায়ক হিসেবে এখন থেকেই রোহিতকে তৈরি করা শুরু হয়ে গিয়েছে। মুম্বইয়ের এই ক্রিকেটার টেস্টের আসরে দলে জায়গা করে নিতে না পারলেও, সীমিত ওভারের ক্রিকেটে দলের অমূল্য় সম্পদ। তাঁকে সহ-অধিনায়ক করায় বিরাটকে ভাগ্য়বান বলতেই হয়। রোহিত যে কতটা দক্ষ নেতা, তা আইপিএল ক্রিকেটে প্রমাণ করে দিয়েছেন। বিরাট কোহলি রয়্য়াল চ্য়ালেঞ্জার্স ব্য়াঙ্গালোরকে একটাও ট্রফি এখনও পর্যন্ত এনে দিতে না পারলেও, রোহিত কিন্তু আইপিএলের সবচেয়ে সফল অধিনায়ক। আর তাও মাত্র পাঁচ বছরে। ২০১৩ সালে মুস্বই ইন্ডিয়ান্সের নিয়মিত অধিনায়ক হওয়ার পর দলকে তিনবার আইপিএল চ্য়াম্পিয়ন করে ফেলছেন এর মধ্য়েই।

যদিও আইপিএল ক্রিকেট ও দেশের হয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলার মধ্য়ে অনেক তফাৎ রয়েছে। রোহিতকে এখনও অনেক দূর যেতে হবে ভারত অধিনায়কের দায়িত্ব পেতে গেলে। তেমনই টেস্টের আসরে নেতা বিরাট তাঁর দক্ষতার ছাপ রাখলেও, সীমিত ওভারের ক্রিকেটে ধোনির ছায়া থেকে এখনও বেরোতে পারেননি। ঘরে-বাইরে অধিনায়ক বিরাটের প্রশংসা চললেও, সীমিত ওভারের ক্রিকেটে টস করা ছাড়া বাকি সব ক্ষেত্রে ধোনি এখনও অলিখিতভাবে দলকে চালাচ্ছেন ।

নিউজিল্য়ান্ডের বিরুদ্ধে আগামী বাইশ অক্টোবর থেক শুরু হতে চলা সিরিজে জয়ের ধারাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে বদ্ধপরিকর বিরাটের ভারত। গতবার ভারত সফরে এসে কিউয়িরা ৩-০ ফলে টেস্ট সিরিজ হারার পর একদিনের সিরিজও ৩-২ ব্য়বধানে খুইয়েছিল। এবার সীমিত ওভারের সিরিজে তিন ম্য়াচের একদিনের ও টি-২০ সিরিজ খেলবে দুই দেশ। ফলে, সামান্য় ভুলে সিরিজ হাতছাড়া হতে পারে।

টি-২০ ক্রিকেটে ভারত এখনও নিউজিল্য়ান্ডকে হারাতে পারেনি।  শেষ বার দুই দল টি-২০ ক্রিকেটে মুখোমুখি হয়েছিল গত বছর নাগপুরে। ওই ম্য়াচে কেন উইলিয়ামসনের দল ভারতকে ১২৭ রানে হারিয়েছিল।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *