একসময় আত্মহত্য়া করতে চেয়েছিলেন আজকের চায়নাম্য়ান বোলার কুলদীপ যাদব 1
কূলদীপ যাদব

আইপিএল এবং ভারতীয় ক্রিকেট দলে খেলার সুবাদে রিস্ট স্পিনার কুলদীপ যাদব অল্প বয়সেই তারকা হয়ে উঠেছেন। ফ্য়ানের সংখ্য়া অগুন্তি। তাঁকে নিয়ে যতই ক্রেজ থাকুক, সাদামাটা থাকতেই পছন্দ কানপুরের ক্রিকেটারটি। স্টার না বলে কানপুরিয়া লউন্ডা বললে বেশি খুশি হন কুলদীপ। ইমেজটা কতটা সাদামাটা একটা ছোটো উদাহরণ দিলেই বোঝা যাবে। গত শনিবার (১১ নভেম্বর) হিন্দুস্তান শিখর সমাগম উপলক্ষ্য়ে উত্তরপ্রদেশের লখনউতে উপস্থিত ছিলেন ভারতীয় দলের চায়নাম্য়ান স্পিনার। তাঁকে দেখেই ফ্য়ানেরা, বিশেষ করে মহিলারা সেলফি তুলতে উদ্য়ত ছিলেন। বেশ খুশি মনেই সবার ইচ্ছে পূরণ করছিলেন কুলদীপ। মুখে বিরক্তির ছাপ নয়, ক্রিকেট খেলে পরিচিতি পাওয়ার সন্তোষ। তারকা সুলভ কোনওরকম হামবড়াই একটুও নেই।

আশ্চর্যের বিষয়, কৈশরে সদ্য় পা রাখা তেরো বছরের কুলদীপ উত্তরপ্রদেশের অনূর্ধ্ব-১৫ দলে সুযোগ না পাওয়ায় আত্মহত্য়ার পথ বেছে নেওয়ার কথা ভেবেছিল। এমনকী, ক্রিকেট ছেড়ে দেওয়ার কথাও বিবেচনা করেছিল ছোটো কুলদীপ। কিন্তু, কথায় বলে পথিক রাস্তা খুঁজে না পেলে, ভাগ্য় তাকে খুঁজে নেয় ভবিতব্য় পূরণ করার জন্য়। কুলদীপের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য়। ভারতের প্রথম চায়নাম্য়ান বোলার হওয়ার সুবাদে বিসিসিআই পর্যন্ত সযত্নে রেখেছে তাঁকে। আর কঠোর পরিশ্রম করে বোর্ডের সেই আস্থার প্রতি সুবিচার করায় সফলতা কুলদীপের কাছে পায়ে হেঁটে এসেছে।

বছর আগের কথা শোনাতে গিয়ে বাইশ বছরের কুলদীপের মুখ থেকেই বেরিয়ে এলেও সত্য়িটা। সুযোগ পাওয়ার জন্য় খুব খেটেছিলাম। কিন্তু, তাও নির্বাচিত হতে পারিনি। হতাশা আমায় পেয়ে বসেছিল। আত্মহত্য়া করব ভেবেছিলাম। সবারই হয় এটা। ওরকম মুহূর্তে নেওয়া হঠকারী সিদ্ধান্ত।

জানেন, আমি খুব ভালো ছাত্র ছিলাম ক্লাসে। ক্রিকেট শুধু আনন্দের জন্য় খেলতে চেয়েছিলাম। এটা নিজের পেশা হিসেবে বেছে নেবো, সে সময় একবারও ভাবিনি। বরং বলতে পারেন, আমার বাবা চেয়েছিল, আমি ক্রিকেট খেলি। আমাকে বাবাই কোচের কাছে নিয়ে গিয়েছিল।

আরও একটা গোপন কথা বলি। আমি ফাস্ট বোলার হতে চেয়েছিলাম। কিন্তু, আমার কোচ জোর করে আমাকে স্পিন বোলিং শেখান। কয়েকটা চায়নাম্য়ান ডেলিভারি করতে দেখে, আমাকে উনি অভ্য়াসে পরিণত করতে বলেন। আমি তখন বুঝতেও পারিনি, আমি অন্য় ধরণের বল করে দেখাচ্ছিলাম।

পাকিস্তানের পেস লেজেন্ড ওয়াসিম আক্রামকে দেখে ফাস্ট বোলার হওয়ার ইচ্ছেটা যখন স্পিন বোলিংয়ে বদলে দেন কোচ, তখন থেকেই লেজেন্ডারি অজি লেগ-স্পিনার শেন ওয়ার্নকে নিজের আদর্শ করে বড় হয়ে ওঠেন কুলদীপ। বলছেন, আমি এখনও শেন ওয়ার্নারের বোলিংয়ের ভিডিও দেখি। ও কিভাবে বল গ্রিপ করে, ডেলিভারিতে কতটা লেন্থ দেয় সব দেখি। আর ক্রিজের ব্য়বহার করে ব্য়াটসম্য়ান যেভাবে বল করত শেন ওয়ার্ন, তাতেই ও অপরাজেয় ছিল। আমি ওর ফুটেজ দেখে শেখার চেষ্টা করি।

গত মার্চে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ধরমশালা টেস্টে অভিষেক হয় কুলদীপের। ওই সিরিজের দুটি টেস্টে নটা উইকেট তুলে নিয়ে সমালোচকদের প্রভাবিত করেছিলেন কানপুরের তরুণ রিস্ট স্পিনারটি। ওই ম্য়াচ সম্পর্কে তিনি বলছেন, বেশ চাপ ছিল ওই ম্য়াচে। সিরিজ নির্ণায়ক ম্য়াচ ছিল। রবিচন্দ্রন অশ্বিন ও রবীন্দ্র জাদেজার সঙ্গে বল করছিলাম। চারটি উইকেট ঝুলিতে পোরার পর একটা হাল্কা হতে পেরেছিলাম।

একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে কুলদীপ তৃতীয় ভারতীয় বোলার যিনি হ্য়াটট্রিক করেছেন। কিন্তু, ওটা নয় টেস্টের আসরে অভিষেক করতে পারাটাকেই জীবনের সবচেয়ে বড় অ্য়াচিভমেন্ট বলে মনে করেন তিনি।

তাঁর মতো তরুণ বোলারকে প্রাক্তন ভারত অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনি যেভাবে গাইড করেন উইকেটের পিছনে দাঁড়িয়ে, তার জন্য় দুবারের বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়কের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন কুলদীপ। অধিনায়ক বিরাট কোহলির থেকে এগিয়ে যাওয়ার জন্য় সমর্থন পাওয়ায় বেশ খুশি তিনি।

নিজের বোলিং সম্পর্কে কুলদীপ বলছেন, আমি যদি আমার দক্ষতা সম্পর্কে ওয়াকিবহাল থাকি, তাহলে সফলতা আমি পাবই। তাই জন্য় আমি নিজের দক্ষতার বেশি করে খাটি এবং মনোসংযোগ দিই।

প্লে স্টেশন ফোর কুলদীপের সবচেয়ে পছন্দের ভিডিও গেম। বলছেন, পিএসফোর খেলে আমি জীবনের নানান সমস্য়া বুঝতে ও সমাধান করার চেষ্টা করি। বাড়িতে থাকার সময় ক্রিকেট নিয়ে কোনও কথাই ভাবি না। আমি শুধু মায়ের হাতের রান্না করা খাবার খাই আর আনন্দে থাকি।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *